x

এইমাত্র

  •  ১৭-২৩ মে ‘লকডাউন’, প্রজ্ঞাপন জারি

তিস্তা ও সীমান্ত হত্যা নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আব্দুল মোমেনের বৈঠক

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২১, ১৮:৩২

বিবিসি বাংলা

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে ঢাকায় আসা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত সরকার আগের অবস্থানেই আছে।

একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সীমান্তে অপরাধ কমানোর বিষয়ে জোর দিয়েছেন এবং বলেছেন তাদের লক্ষ্য হলো- ''অপরাধ নয়, মৃত্যুও নয়''- সীমান্তের ক্ষেত্রে এ নীতির ওপর জোর দেয়া।

ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সাথে বৈঠকের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় যৌথ ব্রিফিংয়ে নিজের বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মুজিব জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী ২৬শে মার্চ দু'দিনের সফরে ঢাকায় আসার কর্মসূচি রয়েছে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারত তাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেরও ৫০ বছর যৌথভাবে উদযাপন করছে চলতি বছরেই।

এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর ভার্চুয়াল বৈঠক করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মোদীর সফর নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এস জয়শঙ্কর একদিনের সফরে আজ ঢাকায় আসেন।

বিকেলে নাগরিক সমাজের সাথে এক আলোচনায় যোগ দেয়ার পর রাতেই তার দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে একটি কঠিন সময় যাচ্ছে এবং দুই দেশ স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহায়তা করছে।

ভারত থেকে বাংলাদেশে কোভিড ভ্যাকসিন দেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈঠকে সম্পর্কের নানা দিক তারা পর্যালোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, দু দেশের সম্পর্কের মধ্যে ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। অর্থনীতি, যোগাযোগ ও দু দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক-এসব বিষয়ে দুদেশের দারুণ সম্ভাবনা আছে।

সীমান্তে হত্যা নিয়ে বাংলাদেশে যে উদ্বেগ রয়েছে তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মি. জয়শঙ্কর বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে এ বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। প্রত্যেকটি মৃত্যুই দু:খজনক। কিন্তু কেন হচ্ছে বা সেখানে সমস্যা আসলে কী? সমস্যার কারণ হলো অপরাধ। তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত -নো ক্রাইম, নো ডেথ। আমি নিশ্চিত আমরা যৌথভাবে এতে দৃষ্টি দিতে পারবো।

ছয়টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে কাজ করছে ভারত ও বাংলাদেশ। কিন্তু তিস্তা নদীর পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা গেছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নিয়েও তারা আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা আলোচনা করেছি। আমাদের পানি সম্পদ সচিবরা শিগগিরই বৈঠকে বসবেন। আমি নিশ্চিত তারা এটা আলোচনা করবেন। আমি জানি আপনারা সবাই এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান জানেন এবং সেটার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

প্রসঙ্গত, তিস্তার পানি নিয়ে ভারতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মতি না পাওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিতে উপনীত হতে পারছেনা গত কয়েক বছর ধরেই।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দু দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

এখন দু দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেয়ার কথা বলেছেন এস জয়শঙ্কর।

নতুন কোন ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে দুই দেশ এখন একযোগে কাজ করছে না।

তিনি বলেন, সামনে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে হয়ে উঠতে পারে কানেকটিভিটি। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সঠিক কানেকটিভিটি হলে পুরো অঞ্চলের ভূ-অর্থনীতির পরিবর্তন হবে। বঙ্গোপসাগরকেই ভিন্ন দেখাবে এবং আমরা বিশ্বাস করি এটা সম্ভব। আমরা মনে করি তৃতীয় দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেও এটা করা যায়। বে অফ বেঙ্গলে কানেকটিভিটির ক্ষেত্রে আমরা জাপানকে নিয়ে কাজ করতে পারি, কারণ জাপানের সাথে আমাদের উভয় দেশের চমৎকার সম্পর্ক আছে।

তিনি আরো বলেন, কানেকটিভিটির পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে উভয় দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো, যা দু দেশের সম্পর্কে অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত