জয়যাত্রার টিভির কার্যালয় থেকে অনুমোদনহীন সরঞ্জাম জব্দ

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২১, ১৬:০২

সাহস ডেস্ক

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে বহিঃষ্কৃত সদ্যসাবেক সদস্য ও ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন আইপিটিভি জয়যাত্রার অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করেছে র‍্যাব। এসব সরঞ্জামের কোনোটিরই বিটিআরসির অনুমোদন ছিল না বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব সদর দফতরে আজ শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

মঈন বলেন, জয়যাত্রা টেলিভিশনের কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র নেই। জয়যাত্রার মিরপুরের অফিসে অনেক সরঞ্জামাদি পাওয়া গেছে যেগুলো স্যাটেলাইট টিভির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। বিটিআরসির সহযোগিতায় এসব মালামাল জব্দ করা হচ্ছে। সেখানে টেলিযোগাযোগ আইনে কী মামলা করা যায় সেটাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, তিনি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সম্মানীয় ব্যক্তিদের সম্মানহানি করে আসছিলেন। রাষ্ট্রীয় কয়েকটি সংস্থার বিরুদ্ধে তিনি অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তার বিষয়ে কী কী মামলা করা যায় সেটা পর্যালোচনা করে দেখছি। মামলার পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসায় দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয় তার বাসা থেকে। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় র‍্যাব সদর দফতরে।

হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সংগঠনের নীতিবহির্ভূত হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে।

নামের সঙ্গে লীগ যুক্ত করে গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগের অনুমোদনহীন একটি সংগঠনের সভাপতি পদে নাম আসার পর তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিয়েছে দলটির মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটি।

এই উপ-কমিটিতেই সদস্য ছিলেন- দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক পদে থাকা হেলেনা জাহাঙ্গীর। জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন।

সম্প্রতি ফেসবুকে চাকরিজীবী লীগের পোষ্টারে নেতা নিয়োগের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে যান তিনি হেলেনা জাহাঙ্গীর। বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামের এই সংগঠনের ব্যানারে সংগঠনটির জেলা, উপজেলা ও বিদেশি শাখায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘোষণা দেন তিনি। কথিত এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুব মনিরের নাম উল্লেখ করা হয়।

সাহস২৪.কম/এসটি/এসকে.

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?