x

এইমাত্র

  •  লকডাউনের সময়সীমা ২২-২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়লো
  •  ফোর্বসের তালিকায় ৯ বাংলাদেশি তরুণ
  •  ভাসানচর নিয়ে আল-জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  •  লকডাউনে থাকছে যেসব বিধিনিষেধ
  •  কাল থেকে সীমিত পরিসরে চলবে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট

সৈয়দা ইসাবেলা: নিভৃতচারী আলোকিতজন

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৪:১৪

উযমা তাজ্বরিয়ান (স্বপ্নীল)

নারী জাগরণ এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনন্য নাম সৈয়দা ইসাবেলা। কর্মে-কীর্তিতে-গৌরবে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। তাঁর সকল কর্মের মূলে ছিল নারীমুক্তির স্বপ্ন। এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে গিয়েই তিনি একদিকে কলম তুলে নিয়েছিলেন, অন্যদিকে নারীদের নতুন পথের সন্ধান দিয়েছিলেন। 

বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জের বাণীকুঞ্জে হলেও তাঁর জন্ম কলকাতায়, ১৯৪২ সালে। বেড়েও উঠেছেন সেখানে। লেখাপড়ার শুরু কলকাতার সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল বিদ্যালয়ে। কলকাতার দাঙ্গার পরে তাঁকে সিরাজগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই তিনি লেখাপড়া, বিয়ে, শিক্ষকতাসহ কর্মময় জীবন যাপন করেন।  

সৈয়দা ইসাবেলার পিতা সৈয়দ ইসহাক শিরাজী এবং মা আছিয়া খাতুন। তাঁর বড় চাচা স্বনামধন্য সংগ্রামী, সাহিত্যসাধক সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। নির্মোহভাবে অবলোকন করলে তিনি ছিলেন তাঁর চাচা সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী। 

তাঁর স্বামীর নাম আনোয়ার হোসেন রতু। মানবসেবার রাজনীতিতে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আজন্ম নিবেদিত হয়ে আজও সমাজসেবায় সক্রিয়। এই দম্পত্তির পাঁচ  কন্যা এবং এক পুত্র সন্তান আজ সমাজে যেমন শিক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত , তেমনি পিতা-মাতার স্বপ্নবীজকে মহীরুহে পরিণত করতেও সদা সচেষ্ট। সেই সক্রিয়তায় তারা প্রতিষ্ঠা করেছেন মায়ের স্মৃতিতে স্বপ্নপূরনের সামাজিক কল্যাণমূলক অলাভজনক সংগঠন- ইসাবেলা ফাউন্ডেশন।

পারিবারিকভাবে রক্তে মিশে থাকা আজন্মের এই মহান শিক্ষক গৌরি আরবার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের গুরুদায়িত্ব অত্যন্ত সুযোগ্য, সুচারুভাবে পালন করেন টানা ত্রিশ বছর- ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০২ সাল অবধি।

২০০২ সালে অবসর নেয়ার পর সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। লেখালেখির মাত্র ৮ বছরের মাথায় ২২ টি বই প্রকাশিত হয় তাঁর । প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে অমানিশার জোনাকি, পুরুষোত্তম, অন্তরের কাছাকাছি, নারীর মন, কাছে থেকে দেখা, পাখির পালক ও রাজপ্রত্ররা, যাদুর প্রদীপ, ফিরে পাওয়া, নেংটি ইঁদুর ও বুড়ো বিড়াল, মালাচির কুটির, বুগলী সোনা পাখি, শেষ বেলার বন্ধু, আয়নায় মুখ, মুক্তিযুদ্ধে আমি, মহাতীর্থ ঘুরে এলাম, অনন্ত পিপাসা, স্মৃতিকথা, রঙ্গনা, অচেনা প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। 

মানবতাবাদী এই মানুষটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও স্বামীর সাথে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন রৌমারী অঞ্চলে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের চেতনার প্রবল ধারক এই মানুষটি পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পরে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হলেও দৃঢ়তার সাথে, সততার জোরে উতরে উঠে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে প্রাণের প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখেন, উত্তরোত্তর সমৃদ্ধতর করেন। নারী স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে আমৃত্যু চেষ্টা করেছেন শিক্ষার মাধ্যমে নারীকে মানুষ হিসেবে আপন মহিমায় বিকশিত করতে। মুক্তিযুদ্ধে  নির্যাতিত নারীদের কল্যাণে সবিশেষ ইতিবাচক ভূমিকা ও নানান কর্মকান্ডে মানবিক সমাজসেবক হিসেবে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করতে হয়। ২০১০ সালে সৈয়দা ইসাবেলা একজন রত্মগর্ভা মা হিসেবে পুরস্কৃত হন।

মানবতার সেবায় আজন্ম নিবেদন করেছেন নিজেকে, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য নানাভাবে উদ্যোগী ভূমিকায় আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। রক্ত-সম্পর্কের বাইরের সকলকে নিয়েও ছিল তাঁর সংসার। ফলে ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার চেয়ে সামষ্টিক কল্যাণই হয়ে উঠেছিল তাঁর জীবনাদর্শের মৌলিক বৈশিষ্ট্য । 

৭৯তম জন্মবার্ষিকীতে এই মহীয়সী নারীর স্মৃতির প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

তথ্যসূত্রঃ ইসাবেলা স্মারকগ্রন্থ 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত