ঘুরে আসুন মেঘের দেশে সাজেক ভ্যালি

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:২৭

সাহস ডেস্ক

বাংলাদেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে নিজের দেশে যে কয়টি ভ্রমণ গন্তব্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম হল সাজেক ভ্যালি। রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক উইনিয়নে অবস্থিত একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্ত্র হচ্ছে সাজেক ভ্যালি। এর অবস্থান রাঙামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে। 

সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত। সাজেক বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন, যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। সাজেক নামক নদী হতে সাজেক ভ্যালির নামকরণ করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সাজেকের পুরোটাই পাহাড়ে মোড়ানো পথ। সাজেক রুইলুইপাড়া এবং কংলাক পাড়া এই দুটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রুইলুই পাড়ার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭২০ ফুট। আর ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কংলাক পাহাড়-এ কংলাক পাড়া অবস্থিত। সাজেকে মূলত লুসাই ,পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করে। সাজেকের কলা ও কমলা বেশ বিখ্যাত। রাঙামাটির অনেকটা অংশই দেখে যায় সাজেক ভ্যালি থেকে। তাই সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙামাটির ছাদ।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। আর দীঘিনালা থেকে প্রায় ৪৯ কিলোমিটার। রাঙামাটি থেকে নৌপথে কাপ্তাই হয়ে এসে অনেক পথ হেঁটে সাজেক যাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো খাগড়াছড়ি শহর বা দীঘিনালা উপজেলা শহর থেকে জীপগাড়ি (লোকাল নাম চাঁন্দের গাড়ি) রিজার্ভ নিয়ে ঘুরে আসা। ভাড়া নিবে পুরাতন চান্দের গাড়ী ৫০০০-৬০০০ টাকা আর নতুন মাহিন্দ্রাগুলো ৭০০০-৮০০০ টাকা, এই টাকার মধ্যে আপনি যাবেন তারপর রাত কাটাবেন, পরেরদিন গাড়ী আবার আপনাকে নিয়ে আসবে খাগড়াছড়ি। অর্থাৎ যাওয়া আসা ওই ভাড়াতেই। সাইজ অনুযায়ী প্রতি গাড়ীতে দশ থেকে ১৫ জন বসতে পারবেন।

লোক কম হলে খাগড়াছড়ি শহর থেকে সিএনজি নিয়েও যেতে পারবেন সাজেকে । এক্ষেত্রে ভাড়া ৩০০০ টাকার মতো নিবে। এছাড়াও মটরসাইকেলে করে সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন এক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে খাগড়াছড়ি শহর থেকে দীঘিনালা যেতে হবে তারপর সেখান থেকে মটরসাইকেলে সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন। এক মটরসাইকেলে ড্রাইভারসহ তিনজন বসতে পারবেন। ভাড়া আসা যাওয়া রিজার্ভ ১০০০-১২০০ টাকা। বাসে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা জন প্রতি ৪৫ টাকা নিবে। দীঘিনালা থেকে ১০০০-১২০০ টাকায় মোটর সাইকেল রিজার্ভ নিয়েও সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন।

যাত্রাপথে প্রথমেই পরবে ১০ নং বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প। সেখান থেকে ভ্রমণরত সদস্যদের তথ্য দিয়ে সাজেক যাবার মূল অনুমতি নিতে হবে। একে আর্মি এসকর্ট বলা হয়। আর্মিগণের পক্ষ থেকে গাড়িবহর দ্বারা পর্যটকদের গাড়িগুলোকে নিরাপত্তার সাথে সাজেক পৌছে দেয়া হয়। মূলত সাজেকের ভ্রমণার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রখে বাঘাইঘাট বাজার থেকে সাজেক পর্যন্ত সবগুলো জিপকে নিরাপদে পৌঁছে দেন নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মীরা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত