দেখে আসুন আড়িয়ল বিলের সৌন্দর্য

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:০১

সাহস ডেস্ক

‘ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনা রোদ। ছোটো ছোটো শিশুদের শৈশব চুরি করে, গ্রন্থ-কীটের দল বানায় নির্বোধ।’

ইট পাথরের দেয়ালের বন্দি জীবনে নিজেকে নিয়ে ভাবার সময়টুকুও নেই। প্রতিদিনের যান্ত্রিক জীবন থেকে হাফ ছেড়ে বাঁচতে আড়িয়ল বিলের কোনো জুড়ি নেই। আড়িয়ল বিলের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করবে।

পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে ও মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত এ বিলটি। যতদূর চোখ যায় চারদিকে দেখা মেলে পানি আর পানি। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এই তিন মাস বিলে থৈ থৈ করে পানি। স্বচ্ছ পানিতে বিভিন্ন রকম মাছের আনাগোনা। আর স্বচ্ছ পানিতে মেঘেদের ঘোরাফেরার প্রতিচ্ছবি বিলের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দেয়। 

পুরো আড়িয়ল বিলে কম হলেও ৫শ’ ব্যক্তির মালিকানাধীন দীঘি রয়েছে। ১৩৬ কিলোমিটারের ভূমি আড়িয়ল বিল। মিষ্টি রোদ আবার কখনো মেঘ কালো করে আসে বৃষ্টি। বৃষ্টির আগমনে প্রকৃতি যেন পরিপূর্ণতা লাভ করে। শীতল বাতাসের সঙ্গে মেঘ ঢেকে আসা বৃষ্টি অন্যরকম ভালো লাগা তৈরি করে। বিলের চারপাশে মেঘেদের চলাফেরা যেন শিল্পীর রঙিন তুলি দিয়ে আঁকা। মনে হবে যেন মেঘগুলো স্পর্শ করেছে বিলের পানি। বর্ষার সময় সাজানো বাগানের মতো বিভিন্ন রঙের শাপলা ফুটে থাকে বিলে। সেসময় বিলের সৌন্দর্য যেন আরো বহুগুণ বেড়ে যায়। আর এইসব শাপলা সংগ্রহ করে বিক্রি করেন চাষিরা। তবে এখন বর্ষা শেষ তাই শাপলা তোলাও শেষ।

বিলের পথ দিয়ে যেতে যেতে চোখে পড়বে ছোট ছোট মাছ ধরার নৌকা। বিলে ঘুড়তে আসা মানুষদের দেখে সেসব নৌকায় থাকা জেলেরা খুবই আনন্দিত হয়। দিন শেষে যখন আলো ফুরিয়ে যায় আড়িয়ল বিলের সৌন্দর্য যেন আরো বেড়ে যায়। চাঁদের আলোতে দেখা যায় অপরূপ বাংলাদেশের একটি অংশকে। 

জানা যায়, বাঁশ আর কচুরিপানা দিয়ে ঘিরে রাখা হবে পুরো দীঘি যাতে বিলের পানি কমলেও মাছ থেকে যায়। বিলকে কেন্দ্র করে শঙ্খচিল, কানিবক, মাছরাঙ্গা, ডাহুক, পাতিহাঁস ও নাম না জানা পাখিদের ছুটে চলা নজরকাড়ে। বুক অথবা মাথা সমান পানিতে নিমজ্জিত বড় বড় গাছ। শিশু কিশোররা বিলের পানিতে গোসল করছে হেঁসে গেয়ে। আড়িয়ল বিলকে কেন্দ্র করে এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা। সব মৌসুমে আছে এই বিলের ভিন্ন ভিন্ন বৈচিত্র। আড়িয়ল বিলে যার জমি আছে চোখ বুজে বলে দেওয়া যায় তিনি একজন সুখী কৃষক। মৌসুম জুড়েই তার ঘরে পৌঁছে বিলের আশির্বাদ।   

কচুরিপানা একত্রিত করে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা হয় ভেলা, বাঁশের বৈঠা ঠেলে তাতে করে যাতায়াত করেন কৃষকরা। কয়েক বাড়ির লোকজন মিলে একটি ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহার করেন। বৈঠা হাতে নিয়ে এসব নৌকা নারীরাও চালিয়ে থাকেন। এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায়, মসজিদ, মন্দির ও বাজারে যাওয়ার জন্য এসব ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহার করেন তারা। কেউ কেউ আবার পানিতে ভেসে থাকার জন্য কলা গাছ অথবা বাঁশ দিয়ে বিশেষ কায়দায় ভেলা বানিয়ে থাকেন। বৃষ্টি শুরু হলে চারপাশের পরিবেশের এক অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

বিলের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে আঁকাবাঁকা সরু খাল। বর্ষা মৌসুমের পর বিলের সেই সব সরু খালের কোথাও স্থায়ীভাবে জমে থাকে পানি। বিল তীরবর্তী পাড়াগুলোতে বিভিন্ন রকমের শাক-সবজি চাষ করা হয়। দ্বীপের মতো গড়ে ওঠা এসব পাড়ার মানুষজন সহজ-সরল প্রকৃতির। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত