টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ভারতকে উড়িয়ে ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২২, ১৮:০৯

সাহস ডেস্ক
জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলসের রেকর্ড জুটি।

১৬তম ওভারের শেষ বলে মোহাম্মদ শামিকে টেনে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে ১৭০ রানের রেকর্ড জুটি গড়ে ফেলেন জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলস। তাদের ওপেনিং জুটিতে বিনা উইকেটে ভারতকে উড়িয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। বাটলার-হেলসের এ জুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রান তাড়ায় যে কোনো উইকেটেই এটি সর্বোচ্চ। আগে ১৫২* রানের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি ছিল বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের, সেটি গত বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষেই! তবে সেমিফাইনালে ভারত এভাবে হারবে এমনটা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি রোহিত-কোহলিরা। এ জয়ে ছয় বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল ইংল্যান্ড। ২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করল তারা। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) অ্যাডিলেডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অষ্টম আসরের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে জস বাটলারের দল।

এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে বিরাট কোহলি ও হার্দিক পান্ডিয়ার ফিফটিতে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে জসবাটলার ও অ্যালেক্স হেলসের ওপেনিং রেকর্ড জুটিতে বিনা উইকেটে জয় তুলে ফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ১৩ নভেম্বর মেলবোর্নের শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ১৯৯২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ৯২-এর সেই বিশ্বকাপে ২২ রানে হেরে পাকিস্তানের কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইংলিশদের। ৩০ বছর পর সেই হারের প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ এলো তাদের।

সেমিফাইনালের আগে বাটলারের বলা কথাই প্রমাণ হলো আজ। বাটলার চাননি ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান খেলুক। সেটা প্রমাণ করেছেন তার সতীর্থরা। নিজেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অ্যালেক্স হেলসকে নিয়ে গেড়েছেন ওপেনিং রেকর্ড জুটি। নিজে খেলেছেন ৮০ রানের অপরাজিত ইনিংস। অধিনায়কের এ ইনিংসে ছিল ৪৯ বলে ৯টি চার ও ৩ ছক্কা। তার ওপেনিং পার্টনার অ্যালেক্স হেলস খেলেছেন ৪৭ বলে ৪ চার ও ৭ ছক্কায় ৮৬ রানের হারা না মানা ইনিংস। এই ঝোড়ো ইনিংসের জন্য ম্যাচ সেরাও হয়েছেন হেলস। ইংল্যান্ডের জয়ে অ্যাডিলেডের একটি ধারা অব্যাহত থাকল। এ মাঠে টস হারা দল কখনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি জিততে পারেনি।

জয়ের পর ম্যাচসেরা অ্যালেক্স হেলস বলেছেন, ‘কখনো ভাবিনি আবার বিশ্বকাপে খেলব। সুযোগ পাওয়ার অনুভূতিটাই বিশেষ কিছু ছিল। এ দেশে (অস্ট্রেলিয়ায়) খেলতে ভালোবাসি। জস (বাটলার) অবিশ্বাস্য ছিল।’ ম্যাচ জয়ে সবাইকে কৃতিত্ব দিয়ে অধিনায়ক জস বাটলার বলেছেন, ‘অবশ্যই মনে হচ্ছে (পারফেক্টের কাছাকাছি ম্যাচ)। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। সবাই সামনে এগিয়ে এসেছে।’ ম্যাচ হেরে অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেছেন, ‘আমরা বোলিংয়ে ভালো ছিলাম না। এমন উইকেটে এ রান ১০ উইকেটে তাড়া করার কথা নয়। তবে হতেই পারে।’

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ভারতের ব্যাটিং ছিল ধীর গতির। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৬.৩৩ হারে ৩৮ রান তুলতে পারে ভারত, তাও এক উইকেট হারিয়ে। সুপার টুয়েলভে জিম্বাবুয়ে, নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানের পর এটি চতুর্থ সর্বনিম্ন ৫.৯৬ হারে পাওয়ার প্লেতে রান তুলেছে ভারত। অন্যদিকে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৩ রান তোলে ইংল্যান্ড। ভারত মাঝের ওভারগুলোতেও ছিল চুপচাপই। অবশ্য মাঝের ওভার ও ডেথ ওভারে ইংল্যান্ডের ওপর চড়াও হয়েছিল তারা। মোমেন্টাম পক্ষে ছিল তাদের। মাঝের ওভার (৮.৫০) ও ডেথ ওভারে (১১.৯০) আর সবার চেয়ে বেশি হারে রান তুলেছিল তারা। তবে ইংল্যান্ডের ইনিংস ডেথ ওভারে নিয়ে যেতে দেননি হেলস ও বাটলার। লড়াইটিকে বানিয়ে ফেললেন চরম একপেশে।

ফিফটি করেছেন বিরাট কোহলি ও হার্দিক পান্ডিয়া।

শুরুতে রাহুল ফিরে গেলেও ৪৭ রানের জুটি বাঁধেন রোহিত-কোহলি। দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলেই ওপেনার রাহুলকে ক্যাচ দিয়ে ফেরান ক্রিস ওকস। এরপর নবম ওভারে ক্রিস জর্দানের ৫ম বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রোহিত শর্মা। ২৮ বলে ৪ চারে ২৭ রান করেন ভারতীয় অধিনায়ক। টিকতে পারেননি দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সূর্যকুমার যাদবও। ১৪ রান করে আদিল রশিদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে জুটি বাঁধেন কোহলি। এ জুটিতে এক শ পূরণ হয় ইনিংসের ১৫তম ওভারে, ৩ উইকেট হারিয়ে। কোহলি তখন ৩৫ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত আর ১২ বলে ৯ রানে ব্যাট করছিলেন পান্ডিয়া।

এরপরই ফিফটি করে আউট হন কোহলি। ১৮তম ওভারের ৫ম বলে কাভার থেকে ডাবলস নিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন কোহলি, লেগেছে ৩৯ বল। ঠিক পরের বলেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরে ফুললেংথের বলে স্ল্যাশ করেছেন, গালিতে ডান দিকে ডাইভ দিয়ে ভালো ক্যাচ নিয়েছেন আদিল রশিদ। ফেরার আগে ৪০ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ৫০ রান করেন কোহলি। তবে এই ইনিংসে ফিফটির আগেই একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন কোহলি। ব্যক্তিগত ৪২ রানের সময় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৪ হাজার রানের মাইলফলকের দেখা পান কোহলি। এছাড়া এ ইনিংসে যে চারটি চার মেরেছেন, তার মধ্যে দ্বিতীয়টি মেরে ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ চার মারার ক্লাবেও নাম লেখান এই তারকা। ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তত ১০০ চার মারতে পেরেছেন মাত্র তিনজন ব্যাটার। তিনজনের এ তালিকায় আছেন সাবেক মাহেলা জয়াবর্ধনে (১১১) ও তিলকরত্নে দিলশান (১০১), আর বর্তমান ব্যাটার শুধু কোহলি। এরপর দুর্দান্ত ফিফটি করেন পান্ডিয়া। ডেথ ওভারে ইংল্যান্ডের সেরা অস্ত্র স্যাম কারেনের বলে ফ্লিক করে চার মেরে ফিফটি করেন পান্ডিয়া, মাত্র ২৯ বলে। এরপর শেষ ওভারে ক্রিস জর্দানের শেষ বলে হিট আউট হয়ে ফেরন ভারতীয় এ অলরাউন্ডার। ফেরার আগে ৩৩ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৩ রান করেন হার্দিক পান্ডিয়া। ইংলিশদের হয়ে ক্রিস জর্দান নিয়েছেন ৩টি উইকেট এবং ক্রিস ওকস ও আদিল রশিদ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?