টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

শাদাব নৈপুণ্যে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল পাকিস্তান

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২২, ১৮:৩৩

দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করেছেন শাদাব খান। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাট হাতে ঝড়ো ফিফটির পর বোলিংয়েও ঝড় তোলেন তিনি। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন আরেক দফা বাঁচিয়ে রাখল পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সিডনিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সুপার টুয়েলভের ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে পোট্রিয়াদের বিপক্ষে ৩৩ রানে জয় পেয়েছে বাবর আজমের দল। ম্যাচ সেরা হয়েছেন শাদাব খান।

এদিন টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮৫ রান করে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের স্কোর যখন ১৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৯৫। সেখান থেকেই শাদাবের ২২ বলে ৫২ ও ইফতিখার আহমেদের ৩৫ বলে ৫১ রানের ইনিংসে ১৮৫ পর্যন্ত তোলে বাবরের দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারালেও অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ও এইডেন মার্করামের তৃতীয় উইকেট জুটিতে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ইনিংসে নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই জোড়া আঘাত করেন শাদাব খান। পরে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৫০ মিনিট পর যখন আবার খেলা শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে দাঁড়ায় ১৪ ওভারে ১৪২ রানের নতুন লক্ষ্য, ৩০ বলে তাই প্রয়োজন ছিল ৭২ রান। বৃষ্টির পর প্রথম ১০ বলে ২৫ রান তুললেও পাকিস্তান পেসারদের সঙ্গে আর পেরে ওঠেনি পোট্রিয়ারা, থেমে যায় ১০৮ রানে। তারাও হারিয়েছিল ৯ উইকেট।

দলের হয়ে শুধু অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা করেছেন ১৯ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ৩৬ রান। তার সঙ্গে জুটি বাঁধতে শুরু করা ইডেন মার্করাম করেছেন ১৪ বলে ৪ চারে ২০ রান। তাদের দুজনকেই ফেরান শাদাব খান। ডেভিড মিলার না থাকার অভাবটা দলে অনুভূত হয় প্রবলভাবে। ওয়েইন পারলেন নেমে ফিরেন দ্রুতই। স্টাভসও পরে মেটাতে পারেননি দলের দাবি। এরপর আর কেউই দাঁড়াতে পারেননি ক্রিজে। হেনরিচ ক্লাসেন ১৫ ও ট্রিস্টিয়ান স্টাভস ১৮ রান করেন। বাকিরা দুইয়ে ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। পাকিস্তানের হয়ে শাহীন আফ্রিদি ৩ ওভারে ১৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট আর শাদাব খান ২ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। এছাড়া নাসিম শাহ, হ্যারিস রউফ ও মোহাম্মদ ওয়াশিম নিয়েছেন ১টি করে।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান ইনিংসের প্রথম ঝলকটা ছিল মোহাম্মদ হারিসের। ফখর জামানের চোটের কারণে দলে সুযোগ পেলেন গত ম্যাচেও স্ট্যান্ডবাইয়ে থাকা হারিস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নেমেও গেলেন তিনি। তার ১১ বলে ২৮ রানের ইনিংসে হয়তো পাকিস্তানের ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের একটু ইঙ্গিত দিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের স্কোর ১৮৫ পর্যন্ত যাবে, সেটি ভেবেছিল কজন। পাওয়ার প্লে-তে ৩ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান তুলতে পারে ৪২ রান। টুর্নামেন্টে এটি তাদের সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে-র রান। হারিসের আগে-পরে ফিরেছেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান (৪) ও বাবর আজম (৬)। পাওয়ার প্লে-র পরপরই আনরিখ নর্কিয়ার স্লোয়ারে মিড অফে ক্যাচ তোলেন শান মাসুদ, ৪৩ রানেই চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

এরপর ইনিংসের পুনর্গঠনের কাজটা করেছিলেন ইফতিখার ও মোহাম্মদ নেওয়াজ। ৩৯ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন তারা। বোলিংয়ে বাজে দিন কাটানো কাগিসো রাবাদার পর এনগিডির ওপরও চড়াও হন তারা, বাদ যাননি তাব্রেইজ শামসিও। দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রুটা এনে দেন শামসিই, নেওয়াজকে এলবিডব্লু করে। তবে রিভিউ নিলেই বেঁচে যেতে পারতেন নেওয়াজ, বল লেগেছিল তার ব্যাটে। ফেরান আগে ২২ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ২৮ রান করেন তিনি। তখন ১৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান পকিস্তানের। ১৪তম ওভারের প্রথম বলে ওয়েইন পারনেলের মাথার ওপর দিয়ে ছয় মারলেন ইফতিখার, এরপর পাকিস্তান চালিয়েছে ধ্বংসযজ্ঞ।

ইফতিখার ও শাদাবের জুটিতে ৩৬ বলেই ওঠে ৮২ রান। এনগিডিকে মিডউইকেট দিয়ে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে লম্বা ১০৬ মিটারের ছক্কা মেরে ফিফটি করেন ইফতিখার। ফিফটিটি করেন ৩৩ বলে। আর রাবাদার বলে ক্যাচ দিয়ে ৩৫তম বলে ফেরেন তিনি। ফেরার সময় ৩ চার ২ ছক্কায় ৫১ রান করেন ইফতিখার আহমেদ। শাদাব ফিফটি পূর্ণ করেন ২০ বলে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের যা দ্বিতীয় দ্রুততম। এরপর নর্থজির বলে ক্যাচ দিয়ে ২২তম বলে ফেরেন শাদাব। ফেরার আগে ৩ চার ৪ ছক্কায় ৫২ রান করেন এই অলরাউন্ডার। শেষ ৮ বলে অবশ্য ৮ রান তুলতে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান, তবে শেষ ১০ ওভারে ১১৭ রান তোলে বাবর আজমের দল। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৪ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ৪ উেইকেট নেন নর্থজি। পারনেল, রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি ও শামসি ১টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন শাদাব খান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?