আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ

শক্তিশালি মালয়েশিয়াকে ৬ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২২, ২১:০৩

সাহস ডেস্ক

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের চেয়ে ৬১ ধাপ এগিয়ে মালয়েশিয়ান নারীরা। শক্তির বিচারেও বেশ এগিয়ে তারা। এগিয়ে থাকা এই শক্তিশালি দলটিকে রীতিমতো নাকানিচুবানি খাইয়ে ছাড়ল আঁখি-সাবিনারা। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মালয়েশিয়ান মেয়েদেরকে ৬-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বাঘিনীরা। যদিও আরও গোল পেতে পারত গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। কিন্তু দুটি শট বারপোস্টে লেগে ফিরে না আসলে কিংবা ফরোয়ার্ডরা আরও কিছুটা নিখুঁত হলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো। দলের হয়ে জোড়া গোল করেছেন আঁখি খাতুন। একটি করে গোল পেয়েছেন সাবিনা খাতুন, সিরাত জাহান স্বপ্না, মনিকা চাকমা ও কৃষ্ণা রানী।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান ৮৫তম স্থানে আর বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬তম। খাতা কলমের এই পরিসংখ্যানকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিল সাবিনা, আঁখিরা। এই তো গত ১৪ জুন এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে স্বাগতিক মালয়েশিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল জামাল ভূঁইয়ারা। আজ (বৃহস্পতিবার) ৬ গোল করে সে ক্ষতেই যেন প্রলেপ দিলেন সাবিনারা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৬ ম্যাচ পর জয় পেল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের শেষ জয়টি ছিল ২০১৯ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে ২-০ গোলে।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে জোর থাকলেও এদিন বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে মাথা তুলেই দাঁড়াতে পারেনি মালয়েশিয়ান মেয়েরা। তাদের খেলা দেখে মনেই হয়নি র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের থেকে এগিয়ে দলটি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। গোল তুলে নিতেও খুব বেশি সময় নেয়নি দলটি। ম্যাচের ৯ মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। মারিয়া মান্ডার কর্নার গোলরক্ষক আজুরিন বিনতে মাজলান ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে না পারলে গোলমুখ ফাঁকায় বল পেয়ে যান আঁখি। আলতো টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।

এরপর ম্যাচের ২৬তম মিনিটে ২-০ করেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। ডান প্রান্ত থেকে স্বপ্নার পাস ধরে গোলরক্ষককে কাটিয়ে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন সাবিনা। দুই মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ায় বাংলাদেশ। ৩০তম মিনিটে ৩-০ করেন আঁখি। ছোট করে কর্নারে সাবিনার ক্রস থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে প্লেসিং শটে জাল খুঁজে নেন আঁখি। এতে তার জোড়া গোল পূর্ণ হয়। এরপর বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এক হালি গোল পূর্ণ করে ছোটনের শিষ্যরা। ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে শামসুন্নাহারের বাতাসে বাড়ানো থ্রুতে অফসাইড ফাঁদ ভেঙে বের হয়ে পড়েন সাবিনা, বক্সে ঢুকে থালায় সাজিয়ে দেওয়ার মতো বল দেন স্বপ্নাকে। স্বপ্নার কাজটি ছিল শুধু দেখে শুনে পায়ে বল লাগানো। ব্যাস, গোল। আর সেটাই করেন স্বপ্না। এতে ৪-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সাবিনার দল।

বিরতি থেকে ফিরে এসে স্কোরলাইন ৫-০ করেন মনিকা। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে ডান প্রান্ত দূরপাল্লার দারুণ এক ভলি করেন সাবিনা। গোলরক্ষক লাফিয়ে উঠে ঠেকানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হন। তবে গোলমুখ থেকে বল ঠেকান প্রতিপক্ষ এক খেলোয়াড়। তা থেকে সৃষ্টি হয় এক জটলা। সেই জটলা থেকে বল পেয়ে কোণাকোণি এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন মনিকা। এরপর অবশ্য দলের সেরা তারকাদের উঠি তরুণদের বাজিয়ে দেখতে চান কোচ ছোটন। এমনকি গোলরক্ষকও। তাতেও কমেনি বাংলাদেশের আক্রমণ। ম্যাচে ৭৪তম মিনিটে গোল পান অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড কৃষ্ণাও। তবে এ গোলে দারুণ অবদান ঋতুপর্ণার। বা প্রান্ত থেকে অসাধারণ এক ক্রস করে। ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে দারুণ এক হেডে বল জালে পাঠান কৃষ্ণা। এতে ৬-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল একবারই। ২০১৭ সালে সিঙ্গাপুরে আমন্ত্রণমূলক তিন জাতির প্রীতি টুর্নামেন্টে মালয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই হারের মধুর প্রতিশোধ নিল দলটি। আগামী রবিবার (২৬ জুন) দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে দল দুটি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?