টেস্ট সিরিজ

বাংলাদেশকেই পরাজয় মানতে হলো

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২২, ১৬:৩৯

সাহস ডেস্ক

হারের শঙ্কাটা অবশ্য টেস্টের চতুর্থ দিনেই দেখা গিয়েছিল। ১০ ওভার না যেতেই প্রথম সারির চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষ দিনের প্রথম ঘণ্টায় যখন মুশফিকুর রহিম আউট হন, তখন যেন হারের প্রহর গুনছিল টাইগাররা। পরে সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে হার এড়িয়ে উল্টো লিড নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দেয় স্বাগতিকরা। তবে সেসব চোখ রাঙানি কাজে আসেনি। শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনেই মাঠ ছাড়তে হয় মুমিনুলদের।

শুক্রবার (২৭ মে) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ১০ উইকেটের ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। ফলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল শ্রীলঙ্কা।

প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৩৬৫ রানে গুঁটিয়ে যায় বাংলাদেশ দল। পরে লঙ্কানরা থামে ৫০৬ রানে। এতে ১৪১ রানের লিড পায় সফরকারীরা। তবে আবারো দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ফের প্রথম ইনিংসের মতো হতশ্রী শুরু করে বাংলাদেশ দল। খাদের কিনারা থেকে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, তবে সেই চেষ্টা আলোর মুখে দেখেনি। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৬৯ রানে। এতে ২৯ রানের লক্ষ্য সফরকারিরা। ২৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩ ওভারে বিনা উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন ওপেনার ওশাদা ফার্নান্ডো। মাত্র ৯ বলে করেন হার না মানা ২১ রান। অধিনায়ক দিমুথ করুনারাত্নে ৯ বলে করেন ৭ রান।

অথচ এদিন সাকিব-লিটন যখন ব্যাট করছিলেন, তখন আশায় বুক বেঁধেছিল বাংলাদেশ। ষষ্ঠ উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়েন তারা। ইনিংস হারের শঙ্কা কাটিয়ে এ জুটি এনে দেয় লিডও। কিন্তু লাঞ্চের পর ফিরে বাংলাদেশের ইনিংস যেন তাসের ঘর। লিটন বিদায় নেওয়ার পর রীতিমতো ধস নামে। শুরুর মতোই হয় শেষটাও। স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৩ রান যোগ হতেই শেষ পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। যদিও লিটন আউট হন অনেকটা দুর্ভাগ্যজনকভাবেই। নিজের বলে দুর্দান্ত এক ক্যাচ লুফে নেন আসিথা ফার্নান্ডো। তার অফস্টাম্পে রাখা বলটি ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন লিটন। শেষ মুহূর্তে একটু থমকে গেলে কিছুটা হাওয়ায় ভাসে বল। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ ক্ষীপ্রতায় এক হাতে তালুবন্দি করেন এ পেসার। তাতে থামে লিটনের লড়াই। ১৩৫ বলে ৪ চারে করেন ৫২ রান। তখনই বাংলাদেশের ম্যাচ বাঁচানোর আশায় বড় ধাক্কা লাগে।

লিটনের বিদায়ের পর আসিথা ফার্নান্দো ঝড়ে ১৩ রান যোগ করেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৭২ বলে ৭ চারে সাকিবের ব্যাটে সর্বোচ্চ ৫৮ রান। আসিথা একে একে তুলে নেন মোসদ্দেক (৯), তাইজুল (১) ও খালেদকে (০)। বাংলাদেশকে ১৬৯ রানে আটকে দেওয়ার পথে ৫১ রান খরচায় ৬ উইকেট তুলে নিয়ে লঙ্কান এই পেসার করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। ১৩ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশ দলের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে  খালেদ আহমেদ শূন্য রানে আউট হওয়ায় বিব্রতকর আরেকটি রেকর্ডে নাম তোলে বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে এই ম্যাচে ৯ ব্যাটসম্যান আউট হলেন শূন্য রানে, বাংলাদেশের যা সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিল ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জ্যামাইকায় ৮ শূন্য।

ঢাকা টেস্টে লঙ্কান পেসার অসিথা ফার্নান্দো রেকর্ড বইতে নাম তুলেছেন। এই টেস্টের আগে ৪ টেস্ট খেলে একবারও ৫ উইকেটের স্বাদ পাননি তিনি। এবার শুধু ৫ উইকেটই নয়, ম্যাচে ১০ উইকেটের স্বাদ পেয়ে গেলেন! এতে চামিন্দা ভাসের পর দেশটির দ্বিতীয় পেসার হিসেবে ম্যাচে ১০ উইকেট নিলেন অসিথা। একই সঙ্গে মাত্র দ্বিতীয় পেসার হিসেবে মিরপুরে টেস্ট খেলতে নেমে ১০ উইকেট শিকার করলেন আসিথা। আগের জন ভারতের জহির খান।

ম্যাচসেরা হয়েছেন অসিথা ফার্নান্ডো এবং সিরিজ সেরা হয়েছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?