শেষ লড়াইয়ে সিরিজের মুকুট বাংলাদেশে

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২১, ২৩:০১

সাহস ডেস্ক

জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমেই বাংলাদেশকে ১৯৪ রানের এক কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিল জিম্বাবুয়ে। অনেক যোগ বিয়োগের পরেও প্রশ্নের তীর ছুটতে থাকে টাইগার একাদশে। পারবে তো? দর্শকদের সেই ভয় কাটেনি শেষ ওভারের আগ পর্যন্ত।

তবে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে মাহমুদউল্লাহরাই হেসেছে শেষ হাসি। আজ রবিবার হারারেতে টাইগাররা ১৯৪ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে গেছে ৫ উইকেট আর ৪ বল হাতে রেখেই। ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

টি-টোয়েন্টির জন্য ১৯৪ রান সহজ নয় কখনোই। সম্মিলিত ব্যাটিং পারফরম্যান্স ও সৌম্য সরকারের ফিফটি দিয়ে সেই লক্ষ্য অতিক্রম করলো বাংলাদেশ। ২ উইকেট নেওয়ার পর ৬৮ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা সৌম্য সরকার।

২০১৮ সালের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোতে ২১৫ রান করে জয়ের পর এটিই বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টিতে এটি চতুর্থ সিরিজ জয়। যার সবগুলো জয়ই এলো বাইরে অন্যের মাটিতে। জিম্বাবুয়েতে এবারের সফরে একমাত্র টেস্ট, তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সবকটি জয়ের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতল বাংলাদেশ।

শামীম হোসেন। হার্ড হিটিং ব্যাটিংয়ে শেষ সময়ের দাবি মেটালেন তিনি। তার কৌশলী হাতে ৪ বল বাকি রেখেই লক্ষ্যে পৌছলো বাংলাদেশ। ৫ উইকেটের জয়ে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। ক্যারিয়ার শুরুর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ১৫ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত শামীম। এর আগের ম্যাচে করেছিলেন ১৩ বলে ২৯।

ডিওন মায়ার্সের বলে শামীমের টানা তিন বাউন্ডারি ১৫ বলে ২৫ রানের সমীকরণটা নিমিষেই হাওয়া হয়ে যায়। শেষ ওভারে ৫ রান প্রয়োজন। প্রথম বলেই বাউন্ডারি মারেন শামীম। পরের বলে সিঙ্গেল নিয়েই জয় বাগিয়ে নেয় টাইগাররা।

এর আগে জয় যখন হাতের মুঠোয়। তখন অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে ব্যাট চালান মাহমুদউল্লাহ। কানায় লেগে বল যায় পেছনে। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দূর্দান্ত ক্যাচ ধরেন চাকাভা। ২৮ বলে ৩৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় মাহমুদউল্লাহকে। বাংলাদেশের রান তখন ১৮.৪ ওভারে ১৮৭, উইকেট ৫।

ক্রিজে গিয়েই প্রথম বলেই এক পুল শটে ছক্কা হাঁকান আফিফ। একটু পর আরেকটি দারুণ শটে দ্বিতীয় ছক্কা। আফিফ হোসেন শুরু করেছিলেন ঝড়। কিন্তু খুব বেশি এগুলো না তার রোমাঞ্চকর অভিযান। ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে শাফল করে সুইপ করতে গিয়ে উন্মুক্ত করে দিলেন লেগ স্টাম্প। লাইন মিস করায় শরীরের পেছন দিয়ে বোল্ড। ৫ বলে ১৪ রানে আউট আফিফ। ১৫.৪ ওভারে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ১৫০।

সৌম্য খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। তবে জয়ের আরও কাছে নিতে পারলেন না দলকে। লুক জঙ্গির ফুল লেং বল হাঁটু ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টা করেন সৌম্য। টাইমিং হয়নি ঠিকঠাক। অনেক উঁচুতে ওঠা বল তালুবন্দী করেন বদলি ফিল্ডার মুসাকান্দা। ৪৯ বলে ৬৮ রান করে আউট হলেন সৌম্য। টি-টোয়েন্টিতে তার আগের সেরা ছিল ৬২। ৩৫ বলে ৬৩ রানে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জুটি থামল। বাংলাদেশের রান ১৩.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩৩। টানা দ্বিতীয় জুটিতে অর্ধশত রান পেল বাংলাদেশ। ২৮ বলেই এসেছে জুটির ফিফটি। সৌম্যর অবদান ১৬ বলে ২৬। ১২ বলে ২০ মাহমুদউল্লাহ।

রানের গতিতে একটু ভাটার টান লেগেছিলো সাকিব আউট হওয়ার পর। ১৩ বলে ১ চার ও ২ ছ্ক্কায় ২৫ রান করে লকি জঙ্গির বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছিলেন সাকিব।

স্বাগতিকদের হয়ে মুজারাবানি ও লুক জঙ্গি ২টি করে এবং মাসাকাদজা ১টি উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান সংগ্রহ করেছিল জিম্বাবুয়ে।

দলের হয়ে প্রথম ওভারেই আক্রমণের ইঙ্গিত দিয়েছিল জিম্বাবুইয়ান ওপেনার মারুমানি ও মাধেভেরি। এর ধারা বজায় রেখেই প্রথম জুটিতে ৬৩ রান তুলে দুই ওপেনার। এরপরই প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ২০ বলে ২ চার ২ ছক্কায় ২৭ রান করে সাকিবের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার মারুমানি। এরপরে বড় একটি স্কোর করে ফেরেন তৃতীয়তে নামা চাকাভা। ২২ বলে ৬ ছক্কায় ৪৮ রান করে সৌম্য সরকারের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন চাকাভা। এরপর সিকান্দার রাজা নেমেই সৌম্য সরকারের বলে বোল্ড শূন্য রানে ফিরে যান।

এরপরে নামেন ডিওন মায়ার্স। তার কিছুক্ষণ পরে হাফসেঞ্চুরি করেন ওপেনার মাধেভেরে। তিনি হাফসেঞ্চুরি করেই ফেরেন। ৩৬ বলে ৬ চারে ৫৪ রান করে সাকিবের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাধেভেরে। তবে ডিওন মায়ার্সও বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি। ২১ বলে ৩ চারে ২৩ রান করে শরিফুলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাধেভেরে। তিনি ফিরলেও অপরাজিত থেকে যান রায়ার্ন বার্ল ও লুক জঙ্গি। ১৫ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৩১ রান করেন বার্ল ও ১ রান করেন জঙ্গি।

বাংলাদেশের হয়ে সৌম্য সরকার ২টি, সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও শরিফুল ইসলাম ১টি করে উইকেট নেন।

ম্যাচ সেরা ও সিরিজ সেরা হয়েছেন সৌম্য সরকার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?