অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মেসির হাতে কোপার শিরোপা

২৭ বছর পর সগৌরবে আর্জেন্টাইন ভক্তরা

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২১, ০৮:৫৯

আর্জেন্টিনা সর্বশেষ কোপা আমেরিকা জিতেছিল ১৯৯৩ সালে। এরপরে বড় কোনো টুর্নামেন্টে আর ট্রফি জেতেনি আলবিসেলেস্তেরা। দীর্ঘ ২৭ বছরের খড়া কাটিয়ে আজ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে আবারও ট্রফি ঘরে তুলছে আর্জেন্টাইন দল। স্বাগতিক ব্রাজিলের মারাকানায় কোপা আমেরিকার ফাইনালে আনহেল ডি মারিয়ার একমাত্র গোলে নেইমারদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা।

চলমান ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দ্বন্দে ব্রাজিল ভক্তদের রমরমা বাজার থাকলেও বড় কোনো জয় না থাকায় চেপে যেতো আর্জেন্টাইন ভক্তরা। সেই অপেক্ষারই সমাপ্তি ঘটল মেসির হাত ধরে। সোস্যাল মিডিয়ায় এক যোগে বিভিন্ন মন্তব্য করে যাচ্ছেন জয়ের উল্লাসে বাঁধ ভাঙা আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা। দীর্ঘ ২৭ বছর পর এই প্রাপ্তি আবেগ আপ্লুত করে তোলে কোটি কোটি ভক্তদের।

আর্জেন্টাইন সমর্থক

ঐতিহাসিক এই মারাকানা স্টেডিয়ামে ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে হেরেছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচটি এখনও মারাকানা ট্র্যাজেডি হিসেবে পরিচিত। তারপর থেকে ওই মাঠে টানা ৭১ বছর ধরে অপরাজিত স্বাগতিক ব্রাজিলিয়ানরা। ৭১ বছর অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি আজ ভেঙে দিলো আর্জেন্টিনা।

আজ প্রথমার্ধে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নেইমারের ব্রাজিলকে পাত্তাই দিলো না আর্জেন্টিনা। শুরু থেকে নেইমারদের চাপের উপরে রাখে মেসি-ডি মারিয়ারা। প্রথমার্ধের পুরো সময়টা জুড়েই অ্যাটাকিংয়ে খেলে মেসি বাহিনীরা। এর সুবাদেই প্রথমে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

গোলের পর ডি মারিয়ার উদযাপন

মেসির আক্ষেপ ঘুচেছে দি মারিয়ার গোলে। ২২ মাঝমাঠের বৃত্তেরও একটু ভেতর থেকে ডি মারিয়ার উদ্দেশে বাতাসে ভাসানো অসাধারণ এক এক লম্বা পাস দেন পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের প্রাণ হয়ে থাকা রদ্রিগো দি পল। তার চোখধাঁধানো পাস ধরে দারুণ চিপে বল জালে জড়ান দি মারিয়া। ২০০৪ সালে সিজার ডিলগাডোর পর ডি মারিয়া প্রথম আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় হিসেবে কোপা আমেরিকার ফাইনালে গোল করলেন।

লিওনেল মেসি

এরপর ম্যাচের ৩২ মিনিটে আবারও এগিয়ে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তার দুই মিনিট পরেই ফ্রি-কিক পায় ব্রাজিল। ২৫ গজের বিপজ্জনক জায়গা থেকে নেইমার ফ্রি-কিক নিলে তা দেয়ালে প্রতিহত হয়। পরে প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে এই ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

লিওনেল মেসি ও গোলরক্ষ এমি মার্টিনেজ

বিরতি থেকে ফিরে এসে রক্ষণাত্মক খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। তখন আক্রমণে উঠে আসে ব্রাজিল। নেইমারদের টানা আক্রমণ দমন করে আর্জেন্টিইনরা। এতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হলে ডি মারিয়ার এই একমাত্র গোলে ব্রাজিলিয়ানদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা। আর এই জয় দিয়েই দেশের জার্সি গায়ে বড় কোনো টুর্নামেন্টের ট্রফি জিতল লিওনেল মেসি।

কাগজে-কলমে ব্রাজিল এই মুহূর্তে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী দল। র‍্যাঙ্কিং বা খেলোয়াড়ের নামের ভারেই শুধু নয়, প্রমাণ দেবে পরিসংখ্যানও। আর্জেন্টিনার কাছে আজকের হারটা ছিল ২০১৬ ইউরোতে পেরুর কাছে হেরে গ্রুপ পর্বে বিদায়ের পর লাতিন কোনো দলের কাছে ব্রাজিলের প্রথম হার। পাঁচ বছর আগের সেই ব্রাজিল ছিল দুঙ্গার ব্রাজিল।

আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি ও লিওনেল মেসি

তবে এই জয়টির জন্য অসাধারণ কৌশল খাটিয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। রক্ষণের কেন্দ্রে হাঁটুর চোট কাটিয়ে ফেরা ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে এনেছেন তিনি। ৭৮ মিনিটে মাঠ ছাড়ার আগে অসাধারণ খেলেছেন রোমেরো। দুই ফুলব্যাকেও এনেছেন বদল, গনসালো মন্তিয়েল আর মার্কোস আকুনিয়া দুজনই দারুণ খেলেছেন। তবে স্কালোনির যে বদলটা সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে, তা হলো আক্রমণে আনহেল ডি মারিয়াকে আনা। টুর্নামেন্টে আগের কয়েক ম্যাচে বদলি নেমে আলো ছড়িয়েছেন, কিন্তু আজ ডি মারিয়াকে শুরু থেকেই আক্রমণে খেলিয়েছেন স্কালোনি। তার যোগ্য প্রমাণও দিয়েছেন ডি মারিয়া।

লিওনেল মেসি ও নেইমার

এই ম্যাচটির জন্যই এতোদিন অপেক্ষায় ছিল ফুটবল বিশ্ব। এর আগে বিশ্বকাপে বা কোপা আমেরিকায়ও এমন দেখা মেলেনি। আজ মারাকানায় হলো প্রথমবার। তাতেই কাঁদলেন নেইমার-মেসি দুজনই। যদিও নেইমারের কান্নাটা ছিল ব্রাজিলের হয়ে বড় কোনো শিরোপার এত কাছে এসেও হাত ছাড়া হওয়ায়, আর মেসির কান্নায় জুড়ে আছে অনেক কষ্টের শেষে সব পাওয়ার স্বর্গীয় আনন্দ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?