মেসি-দেমবেলের গোলে টিকল বার্সা, পেছনে ফেলল রিয়ালকে

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৬:০৩

চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার কোনো শিরোপা জেতার সুযোগ আর থাকছে কি না, সেটি বোঝা যাবে কোপা দেল রে-র সেমিফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচ ও লা লিগার ম্যাচ দেখে-সপ্তাহ শুরুর আগে এমনটাই ছিল বিশ্লেষকদের মতামত। এই মাসের শুরুর দিকে কোপা দেল রে-র সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরে যায় বার্সা। এতে দেল রে-র শিরোপা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পরে তাদের। তবে আজ লা লিগার ম্যাচে ওই সেভিয়াকেই ২-০ গোলে হারিয়ে স্প্যানিশ শিরোপা জয়ে টিকে থাকল বার্সা। ম্যাচটি হেরে গেলে হয়তো স্প্যানিশ শিরোপাটিও নাগালের বাইরে চলে যেতো। কারণ, শীর্ষে থাকা অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও দ্বিতীয়তে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আরো পিছিয়ে যেতো বার্সেলোনা। তবে সেভিয়ার বিপক্ষে জয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে দুইদিনের জন্য হলেও টেবিলের দ্বিতীয়তে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। আর রিয়াল নেমে গেছে তিনে। সোমবার দিবাগত রাতে নিজেদের মাঠে রিয়াল সোসিয়েদারে বিপক্ষে নামবে জিনেদিন জিদানের রিয়াল মাদ্রিদ।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রামোন সানচেজ পিজুয়ান স্টেডিয়ামে লিগের ৪ নম্বরে থাকা হুলেন লোপেতেগির সেভিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ৩ নম্বরে থাকা রোনাল্ড কোম্যানের বার্সেলোনা। ম্যাচটিই ছিল লিগের ৩ ও ৪ নম্বরের লড়াই।

এদিন সেভিয়ার মাঠেই প্রথমার্ধে ওসমান দেম্বেলে আর ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে লিওনেল মেসির গোলে জয় নিশ্চিত করে হয়তো কোপার সেমিফাইনালের প্রথম লেগে হারের শোধটাই নিল বার্সা। কিন্তু কোপা দেল রে-র হিসাব তো আর লিগের ম্যাচ দিয়ে শেষ করা যায় না। কোপার ফাইনালে যেতে হলে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে অন্তত ৩-০ গোলে জিততে হবে কাতালানদের। আগামী বুধবারই বার্সার মাঠে কোপার সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে দেখা হচ্ছে এই দুই দলের।

এদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে পিএসজির বিপক্ষে নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে ৪-১ গোলে হেরে যাওয়ায় সেই টুর্নামেন্টে বার্সার আর এগোনোর সুযোগ নেই বললেই চলে। সেভিয়ার বিপক্ষে আগামী বুধবার হারলে কোপা দেল রে জেতার স্বপ্ন থেমে যাবে সেমিফাইনালে। আর আজ লিগে হারলে অ্যাথলেটিকো বা রিয়ালকে টপকে লিগ জেতার টিমটিমে আশাও প্রায় নিভেই যেত বার্সার। 

আজ সেভিয়ার বিপক্ষে কৌশল বদলে মাঠে নেমেছিল বার্সা। খেলেছে ৩-৪-১-২ ছকে। কৌশলটা বেশ ভালোই কাজে দিয়েছে। প্রথমার্ধে সেভিয়া বার্সার পোস্টে কোনো শটই নিতে পারেনি, দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা সময় বার্সাকে চাপে ফেললেও তাদের সুযোগের সংখ্যা ছিল খুবই কম।

সেভিয়ার মতো বার্সাও প্রথমার্ধে খুব বেশি সুযোগ পায়নি। মনে হয়েছিল গা ছাড়া দিয়ে খেলছে দুই দলই। তবে ২০ মিনিটের পর থেকে সেভিয়াকে কিছুটা চেপে ধরে বার্সা। এতে ম্যাচের ২৯ মিনিটেই এগিয়ে যায় কাতালানরা। সেভিয়ার রক্ষণ অনেক ওপরে উঠে খেলে, সেই হাইলাইন ডিফেন্স ভেদ করা মেসির দারুণ থ্রু ছুটে যায় দেম্বেলের দৌড় লক্ষ্য করে। দুই সেভিয়া ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড ওসমান দেম্বেলে। এরপর প্রথমার্ধে আর কোন সুযোগ তৈরি করতে না পারলে এই ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।

তবে প্রথমার্ধে দলকে এমন গা ছাড়া দেখে দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদল করেন সেভিয়া কোচ লোপেতেগি। উইঙ্গার পাপু গোমেজের বদলে পাঠান স্ট্রাইকার এন-নেসরিকে, যাতে বার্সার তিন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের বিপরীতে দুই স্ট্রাইকার এন-নেসরি ও লুক ডি ইয়ং কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারেন। দ্বিতীয়ার্ধে তাতে সেভিয়ার আক্রমণে কিছুটা প্রাণ ফিরেছে বটে, তবে ভালো সুযোগগুলো বার্সাই পেয়েছে।

ম্যাচের ৫৯ মিনিটে বার্সার দারুণ আক্রমণে বল নিয়ে উঠে যায় রাইট উইংব্যাক সের্হিনিও দেস্ত, তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তার দুই মিনিট পর দেম্বেলে দারুণ গতির কারিশমা দেখানোর পর বলটা ব্যাকপাস করে দৌড়ে উঠে আসতে থাকা মেসির দিকে। কিন্তু প্রথম স্পর্শের শটটা বার্সা অধিনায়ক সেভিয়ার পোস্টে রাখতে পারেননি। ৬৯ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিকে হেড করে বল জালে জড়ান ক্লেমঁ লংলে, কিন্তু আগেই অফসাইডে থাকায় তার গোল বাতিল হয়। পরে ম্যাচের ৮০ মিনিটে বার্সার জালে একবার বল জড়িয়ে ছিলেন সেভিয়ার মরোক্ক ফরোয়ার্ড ইউসুফ এন-নেসরি। কিন্তু গোলের আগে আক্রমণের পথে বল তার হাতে লাগায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

তবে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা বার্সার স্বস্তি ছিলনা। বাকি সময়ের মধ্যে সেভিয়া একটি গোল করলেই সমতায় থাকতে হবে বার্সাকে। এমন সময় বার্সার স্বস্তি ফেরান দলের মহা তারকা লিওনেল মেসি। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে বদলি নামা তরুণ মিডফিল্ডার ইলাইশ মরিবার সঙ্গে সেভিয়ার বক্সের সামনে দারুণ ওয়ান-টু-ওয়ান খেলে বক্সে ঢুকে যান মেসি। সেখানে পায়ের ঝলকে এক ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে বল চিপ করেছিলেন। কিন্তু এগিয়ে আসা সেভিয়ার গোলরক্ষক বুনুর গায়ে লাগে শট। মনে হচ্ছিল গোলটা বুঝি হবে না। কিন্তু বুনু বলটা গ্লাভসবন্দী করতে পারেননি গোলরক্ষক, সেটি মেসির পায়ে লেগে আবার বেরিয়ে আসে। পরে দ্রুত গতিতে ফাঁকা পোস্টে বলটা জড়িয়ে দেন মেসি। এতে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা। আর এই গোল নিয়ে লিগে এটি মেসির ১৯তম গোল। মৌসুমের শুরুতে ধুঁকতে থাকা মেসিই এখন লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা!

এই জয়ে ২৫ ম্যাচে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে টেবিলের দ্বিতীয়তে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। এক ম্যাচ কম খেলা রিয়াল মাদ্রিদ ৫২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয়তে নেমে গেছে। রিয়ালের সমান ম্যাচ খেলা সেভিয়া ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থস্থানেই আছে। এদিকে বার্সার থেকে দুই ম্যাচ কম খেলা অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করে আছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?