এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে ধরাশায়ী বার্সেলোনা

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪:৫৬

ছবি: সংগৃহীত

ইঞ্জুরির কারনে মাঠের বাইরে ছিলেন পিএসজির বড় তারকা নেইমার। ছিলেন না ডি মারিয়াও। এদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে বার্সেলোনার বিপক্ষে তাদেরই মাঠে খেলবে পিএসজি। এমন সময় দলের বড় তারকা না থাকায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন পিএসজি কোচ পচেত্তিনো। কয়েদিন ধরে আলোচনাও হয়েছিল ডি মারিয়া-নেইমারবিহীন পিএসজিকে হেসেখেলে হারাবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বার্সেলোনা। কিন্তু তা আর হতে দিলেন না পিএসজির আরেক বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই ফরাসি ফরোয়ার্ড সেরা তারকা হলেও পিএসজিতে তাকে নেইমারের ‘ডেপুটি’ বলে অনেকে। এমবাপ্পে নিজেও তা স্বীকার করেন। অবশ্য মনে মনে মানেন কী না, কে জানে!

চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা নেইমারের অনুপস্থিতিটা ছিল এমবাপ্পের নিজেকে আরেকবার প্রমাণ করার মঞ্চ। নেইমার নন, তিনিই যে পিএসজির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ, সেটা দেখানোর উপলক্ষ্য। আর দেখিয়েছেনও তাই। বার্সার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বসলেন তিনি। এই ফরাসি ফরোয়ার্ডে হ্যাটট্রিকে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কাতালান ক্লাব বার্সেলোনাকে হারিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো রাউন্ডের প্রথম লেগে মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দ্বিবাগত রাতে ক্যাম্প নূয়ে রোনাল্ড কোম্যানের দলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রাখলেন মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা।

এদিকে ইঞ্জুরি কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরেছেন বার্সা ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে। অনেক আশা নিয়ে কোচ তাকে দলে রেখেছিলেন। কিন্তু এমবাপ্পেকে সামলাতেই পারলেন না পিকে, লংলের মতো ডিফেন্ডাররা। নিজেদের মাঠে পুরো শক্তিশালি একটি দল নিয়ে পিএসজির বিপক্ষে নেমেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শক্তিশালি বার্সেলোনাকে পাত্তাই দিল না নেইমার-ডি মারিয়াবিহীন পিএসজি।

এদিন প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরাই। ম্যাচের ২৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন বার্সার মহাতারকা লিওনেল মেসি। ডিবক্সের ভিতরে ফ্রেংকি ডি ইয়ংকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। সেখান থেকে গোল করেন মেসি। তবে সারা মাঠে মেসিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বললেই চলে। ৯০ মিনিটের খেলায় আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছিল, দু-একবার শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু পিএসজির হয়ে পুরো মাঠ দাপিয়েছে এমবাপ্পে। তার সুবাদেই সমতায় ফেরে পিএসজি। মেসির দেওয়া গোলের ঠিক পাঁচ মিনিট পরে সমতায় ফেরে পিএসজি। ম্যাচের ৩২ মিনিটে ইতালিয়ান মিডফিল্ডার মার্কো ভেরাত্তির পাস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান এমবাপ্পে। পরে প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে এই ১-১ গোলের সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় বার্সা-পিএসজি।

বিরতি থেকে ফিরে এসে এগিয়ে যায় পিএসজি। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ইতালিয়ান রাইটব্যাক আলেসসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জির পাস থেকে জেরার্ড পিকের ভুলের সুযোগ নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে। বার্সা ততক্ষণে ছন্নছাড়া হয়ে গেছে। মিডফিল্ডের লড়াইয়ে একেবারে পর্যুদস্ত। সেটার সুবিধাই নিয়েছে পিএসজি।

তার পাঁচ মিনিট পরেই পিএসজিকে আবারো এগিয়ে দেন এভারটন থেকে ধারে খেলা ময়েস কিন। এ গোলেই জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় পিএসজির। তবে অপেক্ষা ছিল এমবাপের হ্যাটট্রিকের। করে ফেললেন সেটা। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে হুলিয়ান ড্রাক্সলারের পাস থেকে বল পেয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে আরো এগিয়ে দিয়ে নিজের তৃতীয় গোল ও হ্যাটট্রিক পূরন করনে পিএসজির ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। এ নিয়ে ইউসিএল নকআউটে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৪। পরে বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে এই ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাউরিসিও পচেত্তিনোর দল।

এই জয়ে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল পিএসজি। অন্যদিকে বার্সেলোনার সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী ১০ মার্চ দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে পিএসজির মাঠে গিয়ে অন্তত ৪ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে রোনাল্ড কোম্যানের দলকে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?