বাংলাদেশকে ৫ গোলেই হারাল কাতার

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬:২৪

সাহস ডেস্ক

২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের ‘ই’ গ্রুপের প্রিলিমিনারি রাউন্ডের দ্বিতীয় লেগে স্বাগতিক কাতারের বিপক্ষে বিদ্ধস্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) আব্দুল্লাহ বিন খলিফা স্টেডিয়ামে কাতারের কাছে ৫-০ গোলে পরাজিত হয়েছে জেমি ডের শিষ্যরা। এর আগে প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে পরাজিত হলেও কাতারকে বেশ ভুগিয়েছিল লাল সবুজের দলটি।

পুরো ম্যাচজুড়েই বল দখল আর আক্রমণের আধিপত্য দেখায় ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক দলটি। শক্তির বিচারেও অনেক এগিয়ে থাকা কাতারের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত থাকতে হয় বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের। গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো নিশ্চিত গোল রক্ষা না করলে বাংলাদেশ আরও পাঁচটি গোল হজম করতে হতো। পুরো ম্যাচে কাতার গোল মুখে ২৯টি শট করলেও বাংলাদেশ একটিও করতে পারেনি।

এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করতে থাকে কাতার। স্বাগতিকদের গতির সঙ্গে কোনোভাবেই পেরে উঠছিল না। দুই প্রান্ত দিয়ে একের পর আক্রমণ চালাতে থাকে কাতার। ম্যাচের চার মিনিটের মাথায় আহমেদ আলা এলদিনের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় কাতার।

তবে ম্যাচের নবম মিনিটে আর নিজেদের দুর্গ রক্ষা করতে পারেনি বাংলাদেশ। পেনাল্টি বক্সের মাঝখান থেকে আব্দুল আজিজ হাতেমের নেওয়া শট বাংলদেশের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বল জালে জড়ায়।

পরে ম্যাচের ৩০ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে আফিফের নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন জিকো। তবে ৩৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় কাতার। পেনাল্টি বক্সের সামান্য ভেতর থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে দারুণ গোল করেন আফিফ।

প্রথমার্ধের বাংলাদেশ একমাত্র আক্রমণটি করে শেষ মিনিটে। সতীর্থের বাড়ানো বল পেনাল্টি বক্সের ভেতরে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি মাহবুবুর রহমান সুফিল। বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শট নিলে গোলের সুযোগ পেতে পারতো বাংলাদেশ। পরে প্রথমার্ধে আর কোন গোল না হলে এই ২-০ গোল নিয়ে বিরতিতে যায় কাতার।

বিরতি থেকে ফিরে এসেও আক্রমণের ধারা অব্যহত রাখে কাতার। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে একটি সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন আহমেদ আলা। ডিফেন্ডার তপু বর্মনের ভুলে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে বল পেয়ে যান আলা। তার নেওয়া শটটি এগিয়ে এসে রক্ষা করেন জিকো।

ম্যাচের ৬৩ মিনিট ফের গোলের সুযোগ পায় কাতার। সতীর্থের বাড়ানো ক্রস হেড দেন আলমোয়াজ আলী। আবারও ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন জিকো। ৬৫ মিনিট মোহাম্মেদ আল বয়াতির দূর পাল্লার শট জিকো ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন।

এরপর ম্যাচের ৭২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় কাতার। পেনাল্টি থেকে গোল করেন আলমোয়াজ। তার নেওয়া পেনাল্টিও প্রায় ফিরিয়ে দিয়েছিল জিকো। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেও শটের গতির কাছে পরাজিত হন। পরে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে চতুর্থ সাফল্যের দেখা পায়। আব্দুল আজিজের বাড়ানো বল বুক দিয়ে আটকে টোকা দিয়ে বল জালে পাঠান আলমোয়াজ।

পরে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডি-বক্সের মধ্য থেকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আফিফ। স্কোরলাইন ৫-০ হয়।

খেলা শেষে বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে বলছেন, ‘ছেলেরা দারুণ খেলেছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে। আমরা রক্ষণকাজটা ভালোভাবে করেছি। কিন্তু কাতার এত এগিয়ে যে গোল খেতে হয়েছে।’

এমন হারে হতাশ কি না—এ প্রশ্নের জবাবে কোচ বলেন, ‘মোটেও হতাশ নই আমি। কেন হতাশ হব? কাতারের ফুটবলাররা তিন মাস ধরে লিগ খেলছে। আমরা মাত্র পাঁচ সপ্তাহ প্রস্তুতি নিতে পেরেছি; আর প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি মাত্র চারটি। এই যে প্রস্তুতির একটা ঘাটতি, এটি অনেক বড় ব্যাপার।’

তিনি বলেন, ‘হতাশার কথা যদি বলেন, যোগ করা সময়ে পঞ্চম গোলটি খাওয়া ঠিক হয়নি। নইলে ৪-০ পর্যন্ত হয়তো আমি বলতাম ঠিক আছে। এটা দেখতেও তুলনামূলক ভালো লাগত। ৫-০ মনে হচ্ছে অনেক বড়, কিন্তু ভুলে যাবেন না, কাতার এশিয়ার সেরা দল, ২০২২ সালে যারা বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করছে।’

গোলকিপার আনিসুর রহমানের প্রশংসা করে জেমি ডে বলেন, ‘ওর বয়স অনেক কম। তবু দারুণ খেলেছে। ৩-৪টি বিশ্বমানের সেভ করেছে। আমি ওর খেলায় অনেক খুশি।’

একাদশে অভিজ্ঞতার চেয়ে একটু তারুণ্যের দিকে ঝোঁকার যুক্তি হিসেবে বলেন, ‘সামনে অনেক খেলা আছে। তরুণদের তৈরি করতে হবে।’

কাতারের কোচ ফেলিক্স সানচেজ বাস বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা শুরু থেকেই গোল চাইছিলাম। ছেলেরা ভালো খেলেছে। চেষ্টা করেছি সেরা ফলটাই এই ম্যাচ থেকে তুলে নিতে। সেটা পেরেছি বলে ভালো লাগছে।’

এই জয়ে ৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আছে কাতার। ৫ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে আছে বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়তে আছে ওমান। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয়স্থানে আছে আফগানিস্তান। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থস্থানে আছে ভারত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?