ম্যাক্সওয়েল-ক্যারির ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার রোমাঞ্চকর সিরিজ জয়

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:৩৯

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং অ্যালেক্স ক্যারির রেকর্ড ২১২ রানের জুটিতে ভর করে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজ জিতে নিলো অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর পুনরায় ইংলিশদের মাটিতে সিরিজ জেতার স্বাদ পেলো অজিরা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ডকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ২-১ ব্যাবধানে সিরিজ শিরোপা জিতে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

তবে এদিন ইংল্যান্ড ইনিংসের প্রথম দুই বলেই উইকেট নিয়ে ম্যাচটি শুরু করেছিলেন মিচেল স্টার্ক। আবার শেষ ওভারের চতুর্থ বলে বাউন্ডারি হাকিয়ে সিরিজটি শেষও করলেন অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার।

এদিন টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩০২ রান সংগ্রহ করে ইংলিশরা।

শুরুতেই স্বাগতিকদের ইনিংসে আঘাত করে মিচেল স্টার্ক। প্রথম দুই বলেই ২ উইকেট নেন তিনি। মনে হচ্ছিল শুরুতেই ধাক্কা খাওয়া ইংল্যান্ড আর দাঁড়াতে পারবে না। তবে এই দুই উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ইংল্যান্ডকে ১১২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন জনি বেয়ারস্টো। স্যাম বিলিংস ও ক্রিস ওকসের ফিফটি মিলিয়ে ভালো সংগ্রহ দাঁড়া করে স্বাগতিকরা। কিন্তু ভালো সংগ্রহ করেও শেষপর্যন্ত বোলিং ব্যর্থতায় জিততে পারেনি ইংল্যান্ড।

১১২ রান করে আউট হয়েছিলেন জনি বেয়ারেস্টো। ১২৬ বল খেলে ১২টি বাউন্ডারি আর ২টি ছক্কার বিনিময়ে এই ইনিংস খেলেন বেয়ারেস্টো।

৬ নম্বরে ব্যাট করতে নামা স্যাম বিলিংস ৫৮ বল খেলে করেন ৫৭ রান। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে তিনি মারেন ২টি ছক্কার মার। এছাড়া ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নামা ক্রিস ওকস ৩৯ বল খেলে করেন অপরাজিত ৫৩ রান। ৬টি বাউন্ডারির মার মারেন তিনি। ইয়ন মরগ্যান করেন ২৩ রান। টম কুরান করেন ১৯ রান। আদিল রশিদ অপরাজিত থাকেন ১১ রানে।

অজিদের হয়ে মিচেল স্টার্ক ও এডাম জাম্পা ৩টি করে উইকেট নেন এবং পেট কামিন্স ১টি উইকেট নেন।

ইংলিশদের দেয়া ৩০৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৪ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। তবে এতটা সহজ ছিল না অস্ট্রেলিয়ার জয়। টপঅর্ডারের ব্যর্থতায় মাত্র ৭৩ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে রিতিমত ধুকতে হয়েছে অজিদের। দলীয় ১০০ রানের আগে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর ৩০০'র বেশি রান তাড়া করার রেকর্ড একটিও ছিল না ওয়ানডে ক্রিকেটে। বুধবার সেটিই করে দেখালেন অ্যালেক্স ক্যারি ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

৯০ বলে ১০৮ রান করেছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ওয়ানডেতে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ ইনিংসও। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পেলেন ম্যাক্সওয়েল। ৪টি চারে ও ৭টি ছক্কা মারা ম্যাক্সওয়েল ফিরেছেন দলকে জয় থেকে ১৮ রান দূরে রেখে ৪৮ তম ওভারে। আদিল রশিদের বলে শর্ট থার্ড ম্যানে টম কারেনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ‘বিগ শো’ ম্যাক্সওয়েল।

১১৪ বলে ১০৬ রান করেন উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। তার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিটা সাজানো হয়েছিল ৭ চার ও ২ ছক্কায়। জোফরা আর্চারের বলে থার্ড ম্যানে মার্ক উডের দারুণ এক ক্যাচের শিকার হন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

এই দুজন মিলে ২১২ রানের জুটি গড়ে অজিদের জয়ের পথ দেখান। বলা বাহুল্য, ওয়ানডেতে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট পড়ার পর দুইশ রানের জুটি এটিই প্রথম। তবে ম্যাক্সওয়েল-ক্যারিরা ভেঙেছেন ব্র্যাড হাডিন ও মাইক হাসির গড়া অস্ট্রেলীয় রেকর্ড। ২০০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬৫ রান করেছিলেন দুজন।

ম্যাক্সওয়েল ফেরেন দলীয় ২৮৫ রানে, ক্যারি ফেরেন ২৯৩ রানে। এ দুজনের জুটির পরেও শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাকি ছিল ১০ রান, উইকেটে ছিলেন প্যাট কামিনস ও মিচেল স্টার্ক। তখনই ছোট্ট একটি ভুল করেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়র মরগ্যান। দুই পেসার মার্ক উড এবং টম কুরানের ওভার বাকি থাকতেও শেষ ওভার দেন লেগস্পিনার আদিল রশিদকে। সেই ওভারের প্রথম বলে ৬ ও চতুর্থ বলে ৪ মেরে অসিদের জয় নিশ্চিত করেন মিচেল স্টার্ক। অবশেষে ৩ উইকেট ও ২ বল বাকি থাকতে সিরিজ জয়ে মাতে অস্ট্রেলিয়া।

ইংলশদের হয়ে ক্রিস ওকস ও জো রুট ২টি করে এবং জোফরা আর্চার ও আদিল রশিদ ১টি করে উইকেট নেন।

ম্যাচ সেরা এবং সিরিজ সেরা দুইটাই হয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

ম্যাচ শেষে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল আমাদের হারানোর তো আর কিছু নেই। ৭০ রানে ৫ উইকেট হারালে মার নয় মর ছাড়া আর কী উপায় থাকে। নিজের টেকনিক ও সঙ্গীর ওপরে আস্থা রেখেই চালিয়ে গেছি।’

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ম্যাক্সওয়েলকে, ‘মাঠের সব দিকেই খেলতে পারাটাই তাকে বেশি বিপজ্জনক বানিয়েছে। তার দিনে তাকে সমস্যায় ফেলতে পারার মতো বোলার খুব বেশি নেই।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?