এশিয়ার দায়িত্ব নিয়েও নিজের দেশে কোনো লিগ নেই

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৩২

সাহস ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সদস্য বাংলাদেশের মাহফুজা আক্তার কিরণ। অর্থাৎ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা এই মাহফুজা আক্তারের কাঁধেই ২০১৬ সাল থেকে এশিয়ার নারী ফুটবলের দায়িত্ব। এএফসি নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেই পেয়েছেন বড় এই পদ। অথচ তাঁর দেশেই ছয় বছর ধরে মাঠে গড়ায় না নারীদের ফুটবল লিগ।

‘এই বছর-ই লিগ হবে’, ২০১৭ সাল থেকে এই কথা বলেই তিন বছর পার করে দিয়েছে বাফুফে। চলতি বছর লিগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল আরও জোর দিয়ে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসেও লিগ হওয়া তোর দূরের কথা, সেই ঘোষণার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতিও নেই। এখন ২০২০ সালে একই সঙ্গে দুই মৌসুমের লিগ আয়োজন করতে চান মাহফুজা আক্তার। অর্থাৎ যেখানে ৬ বছরে একটি লিগ আয়োজনে ব্যর্থ, সেখানে এক বছরেই দুই লিগ আয়োজন করতে চায় বাফুফে।

মাহফুজার অধীনেই একদল মেয়েকে কয়েক বছর ট্রেনিংয়ে রেখে বয়স ভিত্তিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের তুরুপের তাস মেয়েদের ফুটবলের এই সাফল্য। দেশের ফুটবলে সীমাহীন ব্যর্থতার মাঝেও মেয়েদের বয়সভিত্তিক ফুটবলের সাফল্যকে দেয়ালে টাঙিয়ে নিজেদের অর্জনের বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রচার করছে বাফুফে। সঠিক পরিকল্পনা করে এগিয়ে গেলে মেয়ে ফুটবলে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু গত বছর তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাইপর্ব থেকে মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাইপর্ব ও চলতি বছর মার্চে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বের হয়ে এসেছে নারী ফুটবলের কঙ্কালসার অবস্থাটা। গোলের পর গোল হজম করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

ছয় বছর ধরে লিগ নেই (২০১৩ সালে হয়েছিল সর্বশেষ লিগ), জাতীয় দল মাঠে নামে কালে ভদ্রে। এই জেরে ফিফা মহিলা র‍্যাঙ্কিং থেকেই মুছে গিয়েছিল বাংলাদেশের নাম। এবার আবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্যর্থতার শঙ্কায় এসএ গেমসে বাফুফের দল না পাঠানো। এই শঙ্কাটাই যেন নারী ফুটবলের বর্তমান মানদণ্ড! এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ খেলা বিকল্প নেই বলে মনে করেন ফুটবল বোদ্ধারা।

কিন্তু কবে শুরু হবে সেই লিগ? মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী এই বছর আর হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে, ‘শুরু হবে। তবে ওটা এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি। আলোচনা চলছে। আমাদের আরও সপ্তাহখানেক সময় লাগবে। এই বছর শুরু না হলেও আগামী বছরের জানুয়ারিতেই শুরু হবে লিগ। আগামী বছর একই সঙ্গে দুইটি লিগ হবে। শুরুর টা ২০১৯-২০, বছরের শেষের দিকে ২০২০-২১।’

লিগ বন্ধ থাকার সুবাদে রুটি-রুজির বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা নারী ফুটবলারদের। প্রায় অর্ধযুগ ধরে ঘরোয়া লিগ বন্ধ থাকায় বিজেএমসি তাদের ফুটবল দলটাই বন্ধ করে দিতে চায়। প্রতিষ্ঠানটির এ ভাবনায় চাকরি নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ ২১ নারী ফুটবলার।

কিছুদিন আগে চাকরি নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন সাবিনা, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই চাকরি হারানোর ভয়ে আছি। এই বছর খেলা না হলে চাকরি হারানোর সম্ভাবনা ৯০ ভাগ। অনেক মেয়ে আছি, যারা এই চাকরির টাকা দিয়েই সংসার চালাই। কী যে হবে বুঝতে পারছি না।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?