সিলেটকে হারিয়ে বিপিএল শুরু করল চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:০৮

সাহস ডেস্ক

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) উদ্বোধনী ম্যাচে ইমরুল কায়েস ও চ্যাডউইক ওয়ালটনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সিলেট থান্ডারকে শুভ সূচনা করেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

আজ ১১ ডিসেম্বর (বুধবার) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিলেটকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ট্টগ্রাম।

এদিন টসে জিতে আগে সিলেটকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় চট্টগ্রাম। আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান করে সিলেট থান্ডার।

তবে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। সূচনালগ্নেই ফিরে যান রনি তালুকদার। উইকেটের পেছনে নুরুল হাসানের গ্লাভসবন্দি করে তাকে ফেরান রুবেল হোসেন। এ নিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বিশেষ আসর বঙ্গবন্ধু বিপিএলে প্রথম উইকেটশিকারী হন তিনি।

রনি ফিরলেও দারুণ খেলতে থাকেন অপর ওপেনার জনসন চার্লস। সাথে সঙ্গ দেন মোহাম্মদ মিঠুন। কিন্তু ২৩ বলে ৭ চারে ঝড়ো ৩৫ রান করে ফেরেন চার্লস।

সেই রেশ না কাটতেই এমরিতের শিকার হয়ে ফেরেন জীবন মেন্ডিস। ফলে সিলেটের রানের চাকা স্লো হয়ে যায়। ১০ ওভার হয়ে গেলেও ছক্কার দেখা মেলেনি। অবশেষ সেই বন্ধ্যাত্ব ঘোচান মোহাম্মদ মিঠুন। ১০.৫ ওভারে মুক্তার আলিকে লং অন দিয়ে বিশাল ছক্কা মারেন তিনি। এটিই এবারের বিপিএলের প্রথম ওভার বাউন্ডারি।

এরপরই খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসেন মিঠুন। পরে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান তিনি। পথিমধ্যে ফিফটি তুলে নেন এ মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। এ পথে ৫ ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে ছিল না কোনো চারের মার।

সেখানেই থেমে থাকেননি মিঠুন। পরেও বন্দরনগরীর বোলারের ওপর ছড়ি ঘোরান তিনি। ছোটান স্ট্রোকের ফুলঝুরি। তাকে দারুণ সমর্থন জোগান মোসাদ্দেক হোসেন। একপর্যায়ে দুর্দান্ত মেলবন্ধন গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে। ফলে রানের চাকাও ঘুরতে থাকে সিলেটের।

মোসাদ্দেক একটু দেখেশুনে খেললেও তোপ দাগান মিঠুন। ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে চট্টগ্রাম বোলারদের কচুকাটা করেন তিনি। শেষ অবধি তার টর্নেডোতে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ১৬৩ রানের টার্গেট দেয় সিলেট।

এর খানিক আগে ১টি করে চার-ছক্কায় ৩৫ বলে ২৯ রান করে মোসাদ্দেক ফিরলেও ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন মিঠুন। ৪৮ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৪ রান করেন মিঠুন। শেষ অবধি তার মারকাটারি ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬২ রানের পুঁজি গড়ে সিলেট।

চট্টগ্রামের হয়ে রুবেল ২টি এবং নাসুম আহমেদ রিয়াদ এমরিত ১টি করে উইকেট নেন।

সিলেটের দেওয়া ১৬৩ রানের জবাবে খেলতে নেমে ১৯ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম। তবে এদিন দলীয় ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। সেখান থেকে চ্যাডউইক ওয়ালটনকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান ইমরুল। দুজনেই সিলেট বোলারদের তুলোধুনো করতে শুরু করেন।

এক সময় এবাদত হোসেনের বলে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার ইমরুল। ফেরার আগে করেন ৩৮ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৬১ রানের ম্যাচ উইনিং ইনিংস।

নুরুল হাসানকে নিয়ে বাকি কাজটুকু সারেন ওয়ালটন। ৬ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম। তবে আফসোস ৬ রানের জন্য ফিফটির দেখা পাননি এ ক্যারিবিয়ান। ৩০ বলে ৩টি চার ও ২ ছক্কায় ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ওয়ালটন। এর আগে ২৬ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ঝড়োগতিতে ৩৩ রান করেন ওপেনার আভিশ্কা ফার্নান্দো।

সিলেটের হয়ে নাজমুল ইসলাম ২টি উইকেট নেন।

ম্যাচ সেরা হয়েছেন ইমরুল কায়েস।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?