x

এইমাত্র

  •  গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় নতুন সংক্রমিত ২৬৫৪ জন, মৃত ৩৩ জন
  •  মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ৭ লাখ ১১ হাজার, আক্রান্ত ১ কোটি ৮৯ লাখেরও বেশি

সল্টলেকের গর্জন থামানোই মূল পরিকল্পনা

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:১৫

২০০৩ সালের ১৮ জানুয়ারী। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সেমিফাইনালের বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা অমীমাংসিত রয়ে গেলো ১-১ গোলে। অতিরিক্ত সময়ের খেলায় গোল্ডেন গোল। বাংলাদেশের মতিউর মুন্নার ওই গোলে সেবার ঘরের মাঠে ভারতকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ। এরপরের ১৬ বছরে ভারতের বিপক্ষে আর কোনো জয় নাই বাংলাদেশের।

৩৪ বছর পর কলকাতার মাটিতে আবারও ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলার ফুটবলাররা। তৈরী সল্টলেকও। এমনিতেও ফুটবলের সময় ক্রিকেটে বুঁদ হয়ে থাকা ভারত নিমিষেই ফুটবলের প্রাণ হয়ে ওঠে। আর এবারে সেই পারদে উনুন দিয়েছেন ভারতের কোচ ইগর স্তিমাচ। নীলে নীলে ভরিয়ে তুলতে বলেছেন যুব ভারতী স্টেডিয়াম।

যুব ভারতীর মাঠে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সুনীল ছেত্রী-উড়ন্ত সিং-অনিরুদ্ধ থাপারা বাদেও মাঠের দর্শক। দর্শককে থামাতে হলে মাঠের খেলা দিয়েই যে থামাতে হবে তার বিকল্প নেই। আর সেই পরিকল্পনাই আঁকছে টিম বাংলাদেশ।

আজকের খেলায় বাংলাদেশের খেলার মন্ত্র থাকবে দুইটি। সুনীল-উড়ন্তদের থামাতে হবে বক্সের আগেই। আর রক্ষণ ঠিক রেখে দখলে নিতে হবে মাঝ মাঠ। 

আর্সেন উইঙ্গারের শিষ্য, বাংলাদেশ দলের কোচ জেমি ডেও বলেছেন একই কথা। তিনি বলেন, "ঘরের মাঠে ভারত আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামবে। তাই আমাদের রক্ষণ পোক্ত রাখতে হবে। শুরুতে গোল খাওয়া চলবে না। আর সুযোগ এলে তা কাজে লাগাতেই হবে। জানি গোটা স্টেডিয়াম ভারতের জন্য গলা ফাটাবে। সেই শব্দ থামাতে গেলে আমাদের ভাল খেলতে হবে। আমরা কতটা উন্নতি করেছি, তা দেখানোর জন্য এর চেয়ে বড় মঞ্চ পাব না।" অধিনায়কের কথা, দখল নিতে হবে মাঝ মাঠের। তাহলেই নিয়ন্ত্রণ রাখা যাবে পুরো খেলায়।

বাংলাদেশ দলের ডিফেন্ডার ইয়াসীন-রায়হান। ভারতের ফ্রন্ট লাইনের খেলোয়াড়দের আটকাতে তাদের থাকতে হবে সেরা ফর্মে। কোচের নির্দেশ, দল আক্রমণের সময় ফর্মেটটা ৪-১-৪-১ হলে বিপক্ষের আক্রমণে দলের ফর্মেট নিমিষেই হতে হবে ৪-৫-১। গোলবারের সামনের দুই লাইনের মধ্যে ৩০ গজের বেশী দূরত্বও নাকি রাখা যাবে না। অর্থাৎ বল বানিয়ে নেওয়ার জায়গা দেওয়া যাবে না ভারতীয় দলকে। 

উড়ন্ত সিংকে আটকানোর প্রাথমিক দায়ত্বটা উঠতে পারে রায়হানের কাঁধে। আর মাঝমাঠে অনুরুদ্ধ থাপার চাল আটকে দিতে থাকবেন অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। 

আর উড়ান্তের গতিময় ফুটবল ও বিষ মাখানো ক্রসগুলো বন্ধ করার জন্য পরিকল্পনা—গোলের দিকে সরাসরি ঢুকতে না দিয়ে প্রান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া। উড়ান্ত যাতে ক্রস না তুলতে পারে তার জন্য কড়া নজরে রাখা। এ দিন বিকেলে সল্টলেক স্টেডিয়ামে সেই অনুশীলনই করেছে বাংলাদেশ। যেখানে বিশেষ দায়িত্ব নিতে দেখা গিয়েছে চার ব্যাকের আগে দাঁড়ানো জামাল ও স্টপার ইয়াসীন খানকে।

ভারতের চাল আটকে দিতে পারলেই দর্শকের গর্জনটা হয়তো বন্ধ করা যাবে। তবে বাস্তবায়ন করতে হবে নিজেদের পরিকল্পনাও। জয়ের জন্য লাগবে গোল। বাংলাদেশের ফুটবলকে আবারো বদলে দিতেও চাই গোলই। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত