x

এইমাত্র

  •  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে জানালার গ্রিলে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় একজনের মৃতদেহ উদ্ধার

প্রিন্স অফ কলকাতা থেকে অফসাইডের ঈশ্বর

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৮

লর্ডসের ড্রেসিং রুমের ব্যালকনিতে উড়ছে জার্সি। দৃশ্যটা কল্পনা করলেই মনের মাঝে ভেসে উঠে একটি নাম। সৌরভ গাঙ্গুলি, প্রিন্স অফ কলকাতা। 

১৯৭২ সালের ৮ জুলাই কলকাতার এক ধনাঢ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সৌরভ গাঙ্গুলি। তখন কলকাতার আনাচে কানাচে মানুষ কেবলই ফুটবল খেলতো। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা সেখানে খুবই কম ছিল। বাবা চণ্ডিদাসও খুব করে চাইতেন, ছেলেকে ফুটবল খেলোয়াড় বানাবেন। কিন্তু ক্রিকেটকে এমন একজন কিংবদন্তীর সৌরভ থেকে হয়তো সৃষ্টিকর্তারও বঞ্চিত করতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। তাই তো বড় ভাই স্নেহাশীষের হাত ধরে ঠিকই ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ার গড়া শুরু করেন গাঙ্গুলি। তবে যে ব্যাপারে অধিকাংশই অবগত নয় তা হচ্ছে, গাঙ্গুলি কিন্তু আদতে ডানহাতি ছিলেন! কেবল পাড়ার ক্রিকেটে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের কদর ছিল বলে তিনি বাঁহাতে ব্যাটিং রপ্ত করেন।

সৌরভ গাঙ্গুলী প্রেম করে বিয়ে করেন নৃত্যশিল্পী স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীকে। সেই প্রণয় এবং তার টানাপোড়েনের কিছু কাহিনিও জানতে পারি রঞ্জন সেন-এর লেখা ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ গ্রন্থে। এ রকম আরো বেশকিছু তথ্য অকপটে উল্লেখ করেছেন লেখক। ব্যক্তি মানুষ হিসেবে সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবনকে জানার জানালা খুলে যায় বইটি পাঠে। প্রসঙ্গত সৌরভ গাঙ্গুলীর স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলী ওড়িশি নৃত্যের একজন প্রথিতযশা শিল্পী ও প্রশিক্ষক। তাদের একমাত্র সন্তানের নাম সানা গাঙ্গুলী।

১৯৯২ সালে অভিষেক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৩ রান করে আউট হয়েছিলেনে তিনি। এই ম্যাচের পর থেকেই স্বরুপে ফেরা। কিছুকিছু মানুষ তার এই ম্যাচের কথা মনে রাখলেও সৌরভ আর পিছনে তাকাননি, এরপর বলতে গেলে নিজের রেকর্ড কীর্তি দিয়ে একটি রেকর্ড বই রচনা করেছেন। প্রতিভাবান এই সৌরভ নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একের পর এক ম্যাচ জিতিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি একমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটার যিনি সবার আগে ১৮০০০ রান স্পর্শ করতে পেরেছেন। ২০০০ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন এই মহারাজা, এই সময়েই দলকে পালটে দিয়েছেন, তার হাত ধরেই একটা পরিপূর্ণ দলের পরিণত হয়েছে ভারত। তবে ক্যারিয়ারে তার অনেক খারাপ সময়ও গিয়েছে, দল থেকে নানা কূটচালে তাকে বাদ দিলেও রাজকীয় ভঙ্গিতেই বারবার ফিরে এসেছেন জাতীয় দলে। ফিরে এসেও তিনি তার সেরা খেলা খেলেছেন সবসময়, সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেছেন তার পারফরমেন্স দিয়েই।

একটা সময় ছিল, যখন তিনি একইসাথে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রিয় এবং অপ্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন! বর্তমানে বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন ভারতীয় ক্রিকেটের দাদা। ভালোবেসে কেউ তাকে ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ ডাকতেন। কেউ আবার অফসাইডে তার বিস্ময়কর দক্ষতার জন্য ‘অফসাইডের ঈশ্বর’ বলেও ডাকতেন! ক্রমাগত ব্যর্থতা, স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি এবং হারের চক্রে ধুঁকতে থাকা ভারতীয় দল যখন ওডিআই র‍্যাংকিংয়ে আট নম্বরে অবস্থান করছে, তখন দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন দাদা। এরপর শুধুই ইতিহাস রচনা করেছেন নিজের খেয়ালখুশি মতো! আক্রমণাত্মক অধিনায়কত্বে বদলে দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের ধারা। তার হাত ধরেই ভারত উঠে আসে ওডিআই র‍্যাংকিংয়ে দুই নম্বরে, টেস্টে তিনে। “দেশে বাঘ, বাইরে বিড়াল”, টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের এই অপবাদ তিনিই ঘুচাতে সক্ষম হন। তার অধিনায়কত্বে ভারত ৪৯টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে ২১টি ম্যাচে জয়লাভ করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত