x

এইমাত্র

  •  হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক গ্রেপ্তার

আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের জন্য ভারতকে কিভাবে দায়ী করে পাকিস্তান?

প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:০৪

হাসান ইবনে হামিদ

আফগানিস্তানের ভূখন্ডকে ব্যবহার করে ভারত পাকিস্তানের ভেতর সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দিচ্ছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান। গত ১৪ নভেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনা মুখপাত্র এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন। পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ভারতের মদতের কথা সেখানে উল্লেখ করা হয় এবং তার সকল প্রমাণাদিও পাকিস্তানের কাছে আছে বলে জানানো হয়। ভারতের বিরুদ্ধে এই অভিযোগের সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে তারা খুব শীঘ্রই  জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে তুলে ধরবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরানও খান এক টুইট বার্তায় তা উল্লেখ করেন। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের এই অভিযোগকে ঘিরে ফের সংঘাতের দিকে যাচ্ছে দুই দেশ। পাকিস্তানের এই অভিযোগ একইসাথে দুইটি দেশের পররাষ্ট্র নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কাবুলে আফগান সরকার ইতিমধ্যে পাকিস্তানের তোলা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উঠা অভিযোগের যুক্তি খন্ডন করেছে ভারত এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের জন্য পাল্টা পাকিস্তানকেই দুষেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের জন্য পাকিস্তানের অন্য সীমান্তবর্তী রাষ্ট্র ইরান ও আফগানিস্থানের অভিমত কী, তারা কি ভারত নাকি  পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী করেন? গোটা বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে কাদের দোষারোপ করেন? কারা তালেবানকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদের সাথে কাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ ইতোমধ্যে এসেছে! তা এখানে আলোচনার জোর দাবি রাখে।

সন্ত্রাসে অর্থায়ন, র‍্যাডিক্যালাইজেশন বা সাইবার রিক্রুটমেন্টের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিস্তারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের নাম বরাবরই এসেছে। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আফগানিস্থান, ইরান, বাংলাদেশ সরাসরি পাকিস্তানের এই সন্ত্রাসবাদের শিকার। পাকিস্তানের সন্ত্রাসীদের নির্মমতার শিকার হয়ে এই দেশগুলোর হাজারো নিরীহ মানুষকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়েছে। ভারতের মুম্বাই হামলা বা ২০০৪ সালের ২১ আগস্টসহ বাংলাদেশে নানা সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা, এমনকি নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে আল কায়েদার নৃশংতা আমাদের সবার জানা। টুইন টাওয়ারে হামলাকারী, বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের মূল হোতা ওসামা বিন লাদেনকে বছরের পর বছর পাকিস্তান সরকার কিভাবে পাকিস্তানের এবোটাবাদে আশ্রয় দিয়েছিলো তাও আমাদের অজানা না। পাকিস্তান সরকারের সন্ত্রাসবাদের পেট্রোনাইজিং নিয়ে নানামুখী আলোচনা এর আগেও অনেক হয়েছে। কিন্তু ইরান বা আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের বিস্তার নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা একটু কমই হয়েছে! পাকিস্তান প্রথমবারের মতো যেহেতু ভারতের বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলেছে তাই এখানে আফগানিস্থান বা ইরানের অবস্থান আলোচনার দাবী রাখে। তেহরান ও কাবুল সরকার সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোন দেশকে বারাংবার দায়ী করে এসেছে তা এখানে মুখ্য এবং অবশ্যই প্রাণিধানযোগ্য।

আমরা একটু অতীতে ফিরে যাই। ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর এক সন্ত্রাসী হামলা হয় যেখানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)- এর ২৭ জওয়ানের মৃত্যু হয়। সেই জঙ্গি দলের তিনজন সদস্য পাকিস্তানের নাগরিক ছিলো। এই হামলার পুরো পরিকল্পনা করা হয় পাকিস্তান থেকে এবং সন্ত্রাসী হামলার মনিটরিং সেলের অস্তিত্ব পরে খুঁজে পাওয়া যায় পাকিস্তানেই। হামলার পর পাকিস্তান অবস্থিত জৈশ-আল-অদল জঙ্গি সংগঠনের তরফ থেকে ইরানের আইআরজিসির উপর হামলার দায় স্বীকার করে নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, কয়েকটি পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন ইরান-পাকিস্তান সীমান্তে বেশ সক্রিয়। এই জঙ্গি হামলা পাকিস্তানের একটি সিরিজ সন্ত্রাসী হামলার অন্তর্ভুক্ত ছিলো কেননা এই হামলার ঠিক একদিন পর পুলওয়ামা জঙ্গি হামলা ঘটে। যে হামলাটি ভারতে করা হয় পাকিস্তান থেকে, এই হামলায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদত ছিলো বলে গোটা বিশ্বই মনে করে এবং এর যথেষ্ট প্রমাণও সবাই প্রত্যক্ষ করেছে।  আইআরজিসি এর উপর আক্রমণের পর ইরানের তরফ থেকে  খুব কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেয়া হয় পাকিস্তানকে। ইসলামিক রেভলিউশনারী গার্ড কর্পস-এর (আইআরজিসি) তৎকালীন প্রধান কাসিম সুলাইমানি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াকে কড়া ভাষায় বার্তা পাঠান। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হাজারো সন্ত্রাসী সংগঠনের অস্তিত্ব রয়েছে বলে সুলাইমানি দাবী করেন এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে জঙ্গিরা হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেন সুলাইমানি। তিনি পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সকল দেশে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেন এবং পরমাণু শক্তির অধিকারী হয়েও হাজারো সন্ত্রাসী সংগঠনকে কেনো নির্মূল করতে পারছে না পাকিস্তান, সেই প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এমনকি পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের নির্মূল আদতেই চায় কিনা সেব্যাপারেও প্রশ্ন তুলেন তিনি! ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি এই ঘটনায় যারপরনাই ক্রুদ্ধ হন এবং পাকিস্তানকে ‘জঙ্গি কারখানা’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। আয়াতুল্লাহ খোমেনির কড়া বার্তাটি আমি এখানে হুবহু তুলে ধরছি যেনো আপনারা সেই ক্রোধের মাত্রা সম্পর্কে একটু ধারণা নিতে পারেন। খোমেনি বলেন, "এই দাগী অপরাধীরা বেলুচিস্তানের একটি উপজাতি পরিবারের সদস্য যারা প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে আত্মঘাতী হামলার শিক্ষা অর্জন করেছে। আর তাই, এই প্রতিবেশী রাষ্ট্রকেই ইরানি সরকার, ইরানি নাগরিক ও আইআরজিসির কাছে জবাবদিহি করতে হবে কীভাবে এই অপরাধীরা তাদের দেশের সীমান্ত টপকে আমাদের দেশে প্রবেশ করল। একই সঙ্গে, এই প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে জানাতে হবে কেন তারা নিজেদের দেশে জঙ্গি কারখানা খুলে সেই জঙ্গিদের বারংবার ইরানে পাঠাচ্ছে।" শুধু এই হামলা নয়,  এর আগেও নানা হামলা পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়েছে ইরানে। তাই আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের জন্য সেই পাকিস্তান যখন ভারতকে দায়ী করে বক্তব্য দেয় তখন তা নিতান্তই হাসির খোড়াক যোগায়!

পাকিস্তানের আরেক সীমান্তবর্তী রাষ্ট্র আফগানিস্থান অনেক বছর যাবত সন্ত্রাসবাদের শিকার, তালেবানদের আত্মঘাতী হামলায় তারা জর্জরিত। কিন্তু সেই তালেবানদের আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করছে পাকিস্তান। গতবছর পাকিস্তান কর্তৃক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে ভারতের বালাকোটে হামলা চালায় তারা। এর উপযুক্ত জবাব দিতে ভারত সরকার ‘বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক’ দেয়। বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের পর কাবুলের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান রাহমাতুল্লাহ নবিল এই স্ট্রাইককে স্বাগত জানান। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের ব্যাপারে আফগানিস্থান কোন দেশকে দায়ী করে নবিলের একটি বক্তব্য তার বড় প্রমাণ। নবিল বলেন, "পাকিস্তানের মাটিতে মোট ৪৮টি জঙ্গি সংগঠন আশ্রয় নিয়ে রয়েছে। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। ভারতের এই বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক আরও আগেই করা উচিত ছিল। আমার ধারণা জৈশ-আল-অদলের বিরুদ্ধে ইরানও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।" এই বক্তব্যের মাধ্যমেই ফুটে উঠে আফগানিস্থান মূলত তাদের দেশের সন্ত্রাসবাদের জন্য কাদের দায়ী করে, কারা তালেবানকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে তা এর আগেও বহুবার প্রমাণসহ বিশ্ব গণমাধ্যমে এসেছে।

এবার একটি মুম্বাই হামলার দিকে নজর দেই। ২০০৮ সালের ২৬-২৯ নভেম্বর পর্যন্ত মুম্বাই হামলার মাধ্যমে ভারত সর্বোপরি গোটা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করে সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহতা। মুম্বাইয়ের প্রায় ১২টি স্থানে হামলা ঘটে। গোটা ভারত বুঝি স্থবির হয়ে যায়, থমথমে ভীতিকর পরস্থিতি কাটতে চলে গিয়েছিলো আরো কয়েক মাস। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে এই হামলার মূল কাহিনী। পাকিস্তানী সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়াবার নেতৃত্বে এই হামলা সংগঠিত হয়। সন্ত্রাসীরা করাচি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। তারা গভীর সাগর পর্যন্ত একই জাহাজে ছিল। এরপর তারা একটি ভারতীয় মাছ ধরার নৌকা ছিনতাই করে এবং মুম্বাই উপকূলে এসে এর নাবিককে হত্যা করে। জীবিত অবস্থায় ধৃত একমাত্র জঙ্গি আজমল কাসাব জেরার মুখে স্বীকার করে, জঙ্গিরা ছিল পাকিস্তানি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য এবং হামলার ছক কষেছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। উল্লেখ্য লস্কর-ই-তোইয়াবা ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও রাষ্ট্রসংঘ জঙ্গি-সংগঠনের তালিকাভুক্ত করে রেখেছে। এবং এই হামলার সাথে জড়িত প্রধান ব্যক্তি হিসেবে নাম আসে হাফিজ সাইদের। হাফিজ সাইদ জামাত-উদ-দোয়া সংগঠনের প্রধান যেটি জাতিসংঘের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত একটি সংগঠন। ভারত সরকার জানায়, হামলাকারীরা পাকিস্তান থেকে এসেছিল এবং তাদের নিয়ন্ত্রণও করা হয়েছিল পাকিস্তান থেকে। পাকিস্তানেরও তা অস্বীকারের উপায় ছিলো না এবং পাকিস্তানের তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী শেরি রহমান সরকারিভাবে স্বীকার করে নেন যে, আজমল কাসভ পাকিস্তানের নাগরিক। এদিকে পাকিস্তানের তৎকালীন আভ্যন্তরীণ বিষয় মন্ত্রী রহমান মালিক ভারত সরকারের দেয়া বিবৃতি স্বীকার করে বলেন যে, হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল পাকিস্তান থেকেই। আবার উইকিলিকসে এই হামলার সঙ্গে আইএসআই-এর যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও স্বীকার করেছেন, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলায় পাকিস্তানের সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল। তিনি এও স্বীকার করেন যে ইচ্ছা থাকলে এ ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা এড়ানো সম্ভব ছিলো। কিন্তু পাকিস্তানের কি আদৌ ইচ্ছে ছিলো? এই প্রশ্ন জনমনে প্রকটভাবে উঠে আসে যখন মুম্বাই হামলার মাস্টারমাইন্ডকে পাকিস্তান আদালত সকল অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খালাস দেয়। বিশ্ববাসী দেখলো একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী পাকিস্তানের আদালত কর্তৃক বাইরে বের হচ্ছে আরো ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য। এরপরেও পাকিস্তান কোন মুখে সন্ত্রাসবাদের জন্য ভারতকে দায়ী করে বক্তব্য দেয় সেটা বড় এক প্রশ্ন, নিরীহ হাজারো মানুষের রক্ত দিলে হোলি খেলার পর কিভাবে পাকিস্তান আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের জন্য অন্যদেশের দিকে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করে তা একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আমার বোধগমাই নয়।

এবার আবারো একটু ফিরে আসি পাকিস্তানের অভিযোগের দিকে। পাকিস্তান সংবাদ সম্মেলন করে দাবী করেছে, বেলুচিস্তান থেকে খাইবার-পাখতুনখোয়া কিংবা গিলগিট-বালটিস্তানে ইদানীং কালে যে সব জঙ্গী হামলা হয়েছে তার সবগুলোর পেছনে ভারতের হাত আছে। তাদের দাবী, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর জন্য ভারত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি নেতৃত্বকে সোয়া আট লক্ষ ডলার দিয়েছে। চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরে অন্তর্ঘাত চালানোর জন্য বেলুচিস্তানে নাকি ভারত গড়ে তুলেছে সাতশো সদস্যের এক মিলিশিয়া বাহিনী। তারা আরো একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন, জঙ্গী কার্যকলাপে মদত দেওয়ার জন্য চব্বিশজনকে নিয়ে একটি কমিশনও নাকি তৈরি করা হয়েছে - যার মধ্যে দশজনই র'-এর গোয়েন্দা এবং এর জন্য ছয় কোটি ডলারের বাজেটও বরাদ্দ করা হয়েছে। পাকিস্তানের এই আজগুবি দাবির প্রেক্ষিতে বলতেই হয়, ভারতের 'র' ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের যোগসাজশের এসব অকাট্য প্রমাণ যদি আপনাদের থেকেই থাকে তবে এখনো কেন সেই জঙ্গিদের নির্মূল করছেন না? এখনো কেনো আপনারা সব প্রমাণ পেয়েও চুপিসারে বসে আছেন? মূল কারণটা তাহলে কি? নাকি শুধুই রাজনীতির মাঠ গরম করতে এবং নিজের মসনদ বাঁচাতে এই লম্ফঝম্ফ শুরু করেছেন ইমরান খান, এই প্রশ্ন তোলা অস্বভাবিক কিছুনা।

আমাদের মনে রাখা উচিত, এমন এক সময় পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে যখন বিরোধী দলগুলো লাগাতার ইমরান খান সরকারের পদত্যাগ চাইছে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। রাজনীতির মোড় সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে ঘুরাতে এই ভিত্তিহীন অভিযোগ পাকিস্তান উত্থাপন করেছে তা এখন স্পষ্ট। এইতো কদিন আগে, গিলগিট-বালতিস্তানকে ইমরান খান নতুন প্রদেশ ঘোষণা দিয়েছে শুধুমাত্র রাজনীতিতে নিজের অপকর্ম ঢাকতে। কাশ্মীর ইস্যুতে গলাবাজি করেছে শুধুমাত্র নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে। করোনা পরিস্থিতিতে অনাহারী মানুষের মিছিল ও বেকারত্বের হার পাকিস্তানে এতোটাই বেড়েছে যে জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে, চাইছে ইমরান খানের পদত্যাগ। এমন পরিস্থিতিতে ইমরান খান নিত্য নতুন জিনিস এনে রাজনীতির ময়দানে ছাড়ছেন নিজের গদি বাঁচাতে। আর তাই অনেকটা হঠাৎ করেই এবার এই নিউ ফর্মুলা মাঠে নিয়ে এসেছেন, সংবাদ সম্মেলন করে সরকার এবং মিলিটারি উভয়েই নিজেদের বিরুদ্ধে গড়ে উঠা পাকিস্তানী জনতার দুর্বার আন্দোলনকে ধামাচাপা দিতে চাইছেন, ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চাইছে্ন ইমরান খান ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গড়ে উঠা আন্দোলনকে।


লেখক- হাসান ইবনে হামিদ, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

লেখকদের নামঃ