x

এইমাত্র

  •  বৈরুতে বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ
  •  মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ৭ লাখ ১৭ হাজার, আক্রান্ত ১ কোটি ৯২ লাখেরও বেশি
  •  ভারতে ২১ দিনে ১০ লাখ মানুষের করোনা শনাক্ত
  •  আবারো পাকিস্তানে ক্রিকেট ম্যাচে এলোপাতাড়ি গুলি

উপজাত

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৩৯

আমাদের দেশের মানুষজন উপজাতি শব্দটা ব্যাবহার করতে বিমলানন্দ পান। একটা জাতিকে ছোট করে দেখানোর ভেতরেই আমাদের সে-কি আনন্দ। অথচ যেই আমরা নিজেদের একটা জাতি বলে মনে করি সেই আমরা নিজেদের সোকল্ড সাংস্কৃতি আইডেন্টিটিকে যেই ফর্মগুলোতে প্রকাশ করি দেখা যায় আমাদের নিজেদের জাতির অধিকাংশ মানুষ সেই আইডিন্টিটিগুলোকে অস্বীকার করে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় নববর্ষ পালন। পহেলা বৈশাখের জন্য পাঞ্জাবি কিনলে তো জাহান্নামি হয়ে যাওয়ার ফতোয়া আছেই। রমনার বটমূলে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে বছর কয়েক আগেই। চারুকলা এখন যে শোভাযাত্রা বের করে তাতে মানুষের চাইতে পুলিশ বেশি থাকে। এই জাতির অধিকাংশ মানুষ তাদের সংস্কৃতির অন্যতম আইডেন্টিটি রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার করে খুব আনন্দ পান। নজরুলের রচনা চুরি করে রবীন্দ্রনাথ চুরি করে নোবেল পেয়েছিলেন এমন একটা লেইম পারসেপশন নিয়ে যদি আজও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান আমার তো মনে হয় ৫০% এই বক্তব্য সত্য বলে মন্তব্য করবেন। তারপর ধরেন একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ বেদিতে ফুল দেওয়া নিয়ে কত শত মানুষের বিরক্তি। এভাবে দেখেন এই জাতির আইডিন্টিটিমূলক মৌলিক পোশাক শাড়ি, লুঙ্গি নিয়ে আছে হাজারো মানুষের চুলকানি। গ্রামের মেলা দখল করে নিয়েছে মাহাফিল। তাও মাহফিলে ভালো কথা হলে ভালো। আছে কেবল বিদ্বেষ। যেই সুফিবাদের হাত ধরে বাংলায় ইসলাম আসলো সেই সুফিবাদের কথা বললেই লাঠি নিয়ে তেড়েফুঁড়ে আসে জনতা। বাঙালি বলেছিল তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হবে ধর্ম নিরপেক্ষ সেকুলার, এই কথা বলতে গেলে শফি হুজুরের সাঙ্গোপাঙ্গোরা চাপাতি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন (অবশ্য ভারতকে তারা সেকুলার রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে ভালোবাসেন)।

বাঙালি জাতির সবেধন নীলমণি ছিল বাংলা বর্ণমালা। গ্লোবালাইজেশন তারও ৮০% খেয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানি সলিমুল্লাহ খান বলেছেন "শুধুমাত্র যারা ব্যয় নির্বাহ করতে পারে না তারা ছাড়া আর কেউ বাংলা ভাষায় পড়ালেখা করে না।" বাংলাদেশের মহান জাতি বাঙালির তাই একটা বিষয়ও নেই যেটা তারা জাতি হিসেবে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে পালন করে। তাদের কোন কমন আইডেন্টিটি নেই।

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'লর্ড ভানু' শ্রুতি কৌতুকে শোনা যায় ভানুর বন্ধু তাকে বলছেন সে কেমনতর লর্ড? ভানু উত্তরে বলেন যে- তার দেশে কিছু জমিজমা ছিল, আর জমির মালিককে 'ল্যান্ড লর্ড' বলা হয়। এখন জমি সব নদী খেয়েছে, 'ল্যান্ড' তো আর নাই তা 'লর্ড'টা আর রাখবেন কোথায়? তাই নামের আগেই লর্ড রেখে হয়েছেন 'লর্ড ভানু'। 'বাঙালি জাতি'ও তেমনি একটি জাতি হবার সব বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে পড়ে আছে শুধু 'বাঙালি' শব্দটাই। আর তাই অন্যান্য জাতিসত্তাকে 'উপজাতি', 'অপজাতি', 'নিচুজাতি' এসব বলেই নিজের জাতীয়তাকে প্রকাশ করতে হচ্ছে বাঙালির।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

লেখকদের নামঃ