x

এইমাত্র

  •  সুস্থ হয়ে কাজে যোগদান করেছেন স্বাস্থ্য মহাপরিচালক
  •  করোনায় সারা বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩২৭ জন
  •  করোনায় বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ৬২ লাখের অধিক, সুস্থ হয়েছেন ২৮ লাখেরও বেশী
  •  শক্তি হারাচ্ছে করোনাভাইরাস, দাবি ইতালির চিকিৎসকের
  •  করোনাভাইরাসঃ বাংলাদেশে আরও ২২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৩৮১

মহামারী ও অযাচিত "পাবলিক বনাম প্রাইভেট" বিশ্ববিদ্যালয় বিবাদ

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২০, ১৭:১০

মোঃ ইশান আরেফিন

আমরাই নির্দ্বিধায় বিশ্বের সবচাইতে সাহসী জাতি। কারণ জানতে বেশি বেগ পেতে হবে না। চলমান করোনা মহামারী ঠেকাতে যখন পুরো বিশ্ব গবেষণায় ব্যস্ত তখন আমরা বীর দর্পে পাবলিক বনাম প্রাইভেট দ্বন্দে লিপ্ত। 

ভাগ্যক্রমে দেশসেরা পাবলিক এবং প্রাইভেট দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে শিক্ষাগ্রহন করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক সত্যিটা হল, কোনটিতেই যে ঠিক "বিশ্বমানের শিক্ষা" দেয়া হচ্ছে এমনটি নয়। এই কারনেই দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় সর্বজনস্বীকৃত কিউএস গ্লোবাল র‍্যাকিং এ সেরা ৫০০ এর ভেতরে নেই।

একজন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট এবং শিক্ষক হিসেবে আমার সবচাইতে মায়া লাগে সেসকল জ্ঞানপাপীর উপর যারা এখন দাবি করে যাচ্ছে সব প্রাইভেটের শিক্ষার্থীরা নাকি বাবার টাকার উপর ঘুমায় আর সেই টাকা দিয়েই সার্টিফিকেট কিনে নেয়। এসব জ্ঞানপাপীর উপর মায়া লাগার কারণ এরা আসলে প্রাইভেটের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণাই রাখে না।

লাখো শিক্ষার্থী দেশের অপ্রতুল উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার স্বীকার হয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা গ্রহন করছে। এরকম হাজার হাজার শিক্ষার্থী আছে যারা প্রতিনিয়ত চরমভাবে জীবন যুদ্ধ করে টিউশন ফি প্রদান করে। শিক্ষার মতন মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য এদের পরিবার অনেক ত্যাগ স্বীকার করে তারপর টিউশন ফি জোগাড় করে। এমনকি এই মহামারীর সময় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে অনেকেরই শিক্ষার ভবিষ্যৎ ইতিমধ্যে আরও হুমকির মুখে পড়েছে।

এখন এরকম হাজারো শিক্ষার্থী যখন শুনে যে তারা নাকি টাকার উপর ঘুমায় তখন তাদের ঠোঁটের কোণে নিশ্চয়ই অল্প একটু হাসি ফুটে উঠে। সমাজের প্রতি ধিক্কারের সে হাসি। আবার ছয় বছর ধরে দিন রাত খেঁটেও পাস করতে না পারা, রীতিমতো পরিবারের বোঝা হয়ে যাওয়া প্রাইভেটের কোন শিক্ষার্থী যখন শুনে টাকা দিয়েই নাকি সার্টিফিকেট কিনতে পারা যায় তখন তারও নিশ্চয়ই হাসিই পায়। দারুন কষ্টের সে হাসি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের জন্য অনস্বীকার্য অবদান রেখে চলেছে। কিন্তু বয়সে একদম তরুণ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদানও এখন খাটো করে দেখা যাবে না। কিছুদিন আগে যখন একটি নামকরা জাতীয় দৈনিকের পরিসংখ্যানে উঠে আসে, বর্তমানে প্রাইভেটের গ্র্যাজুয়েটদের চাকরি পাওয়ার হার পাবলিকের গ্র্যাজুয়েটদের তুলনায় বেশি তখন কিন্তু কোথাও হায় হায় রব উঠতে শুনি নাই।

সুতরাং ফেইসবুকে কারো জঘন্য এক স্ট্যাটাস থেকে শুরু হওয়া এই পাবলিক প্রাইভেট দ্বন্দ্ব আমাদের ঠিকই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে জাতিগতভাবে আমরা কতোটা "অপরিপক্ব", আমাদের চিন্তাধারা কতোটা "জঘন্য"।

এখনো সময় আছে, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মারামারিতে না মেতে কিভাবে বিশ্বমানের গবেষণায় আত্মনিয়োগ করা যায় সেটা নিয়ে ভাবনা শুরু করার। নাহলে দেখা যাবে পরবর্তী মহামারিতেও বিশ্বের বাকি সবাই যখন "ভ্যাকসিন" কে আগে বানাবে সেটা নিয়ে যুদ্ধ করবে তখন হয়তো আমরা দারিদ্রতা আর ক্ষুধাপীড়িত অবস্থায়ও এভাবেই কথার যুদ্ধে লিপ্ত থাকবোঃ "বাঙ্গী বেশি ভালো নাকি তরুমুজ বেশি ভালো" এই "অতি গুরুত্বপূর্ণ" গবেষণা নিয়ে...

লেখকঃ প্রভাষক, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত