x

এইমাত্র

  •  আজ ১৭ই জুলাই প্রকাশিত হচ্ছে এইচ এস সি ফলাফল ২০১৯।

আগামীকাল স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৩০

সাহস ডেস্ক

আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ফেব্রুয়ারি মাসটা আমাদের জাতির জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ১৪ ও ২১ ফেব্রুয়ারি বেদনা এবং গৌরবের এক আশ্চর্য মিশ্র চেতনার জন্ম দেয়। 

১৯৮৩ সালে স্বৈরাচারী এরশাদের শিক্ষামন্ত্রী মজিদ খানের বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা মহানগরব্যাপী এক ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র সংগঠনগুলো ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দিপালীসহ ১০ জন শহীদ হন ও শতাধিক আহত হন। সেই থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি হয়ে ওঠে মুক্তিকামী মানুষের প্রতিরোধ চেতনার দিন। দিনটি পালিত হতো 'স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস' হিসাবে।

মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার পঞ্চাশ ভাগ ব্যয় শিক্ষার্থীর পরিবারকে বহন করতে হতো। ফলে শিক্ষা একটি শ্রেণি হাতে আরো কুক্ষিগত হতো, শিক্ষার অধিকার হতে বঞ্চিত হতো অনেক মানুষ। শিক্ষা অর্জনের জন্য মাতৃভাষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু এ নীতি অনুযায়ী শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকেই বাংলার সঙ্গে আরবি ও ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয় যা ছিল আমাদের ভাষা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি এবং পশ্চাৎপদ ও উপনিবেশিক সংস্কৃতির আগ্রাসনের বন্দোবস্ত। শিশুদের জন্য অবশ্যম্ভাবীভাবে তা হতো নিপীড়নমূলক। আজ স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস  

বুকের রক্ত ঢেলে জীবন দিয়ে সেদিন ছাত্র-জনতা শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে ভাষা সংস্কৃতি রক্ষার্থে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং স্বৈরাচারী সরকার ও প্রশাসনকে বাধ্য করেছিল এ বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতি স্থগিত করতে। 

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এ আন্দোলনই বলা যায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রথম বিস্ফোরণ। এরপর গোটা আশির দশকজুড়ে প্রতি বছর এদিনটি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয় এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তখন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, বাম প্রগতিশীল ছাত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো যার যার অবস্থান থেকে কর্মসূচি দিয়ে দিবসটি পালন করে এবং সংবাদ মাধ্যমগুলোও এর পক্ষে প্রচার চালায়।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত