x

এইমাত্র

  •  ব্রাজিলের এক ক্লাবেই করোনা পজিটিভ ১৬ ফুটবলার
  •  করোনায় সারা বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪২ জন
  •  করোনায় বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ৬৫ লাখের অধিক, সুস্থ হয়েছেন ৩১ লাখেরও বেশী
  •  করোনার তীব্রতা কমে গেছে, দাবি এইমসের
  •  করোনাভাইরাসঃ বাংলাদেশে আরও ৩৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৬৯৫ জনের

বঙ্গোপসাগরে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২০, ২০:১৪

সাহস ডেস্ক

ভারত ও বাংলাদেশে আগামীকাল বিকালের মধ্যে আঘাত হানতে যাচ্ছে সুপার সাইক্লোন ‘আমফান’। সিএনএন জানিয়েছে, এটি বঙ্গোপসাগরে এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। আমফানের ব্যাস ৭২০ কিলোমিটার, যা সাতক্ষীরা থেকে টেকনাফের দূরত্বের সমান। শক্তিশালী এই ঝড়ে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন যৌথ টাইফুন সতর্কতা কেন্দ্র জানায়, বঙ্গোপসাগরে রেকর্ড করা ঝড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফান, যার বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৭০ কিলোমিটার (ঘণ্টায় ১৬৫ মাইল)। আমফানকে আটলান্টিক মহাসাগরের হ্যারিকেন ক্যাটাগরি-৪ এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের সুপার টাইফুনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক শামসুল আলম বলেন, আমফান এখন সাগরে আছে। সাগরে এর বাতাসের গতিবেগ এখন অনেক বেশি। সিডরের চাইতেও বেশি। কিন্তু ঝড় এখনও ৭০০ কিলোমিটার দূরে আছে। আজ সারা রাতের বৃষ্টিতে আনেকখানি শক্তি হারাবে আমফান।

তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি হবেই। আমাদের ফসলের ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি। একদিকে টানা বৃষ্টি অন্যদিকে জলোচ্ছ্বাস।  দুই মিলিয়ে ক্ষতি আকার হবে অনেক। সিডরের মতো প্রাণহানি হবে না এটা নিশ্চিত কারণ আমরা এখন অনেক সংগঠিত। আশ্রয়কেন্দ্রও অনেক। আর আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ায় প্রাণহানি তেমন হবে না বলেই আশা করছি। তবে আশার কথা হচ্ছে বৃষ্টি হলে ঝড় দুর্বল হতে পারে। বৃষ্টি শুরু হলে আমাদের জন্য বিষয়টি মঙ্গলজনক হতে পারে।

মঙ্গলবার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪৫ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানবে। সিএনএন বলছে, এটি বঙ্গোপসাগরে আঘাত হানা দ্বিতীয় সুপার সাইক্লোন। এর আগে, ১৯৯৯ সালে সর্বশেষ সুপার সাইক্লোনে প্রায় ১৫ হাজার গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। করোনাভাইরাস মহামারির ঝুঁকিতে থাকা ভারত ও বাংলাদেশের কয়েক কোটি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এই সুপার সাইক্লোন। বুধবার বিকালের মধ্যে এটি ভারত ও বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, আমফান মঙ্গলবার (১৯ মে) দিনগত রাত থেকে বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যে নাগাদ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সেসময় বাতাসের গতি কিছুটা কমে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার হতে পারে। আমফানের প্রভাবে সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।  

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন হচ্ছে আমফান। এটিকে সুপার সাইক্লোন বলার কারণ হচ্ছে, ঝড়ের বাতাসের গতি যদি ২২১ কিলোমিটারের বেশি হয় তাহলে তাকে সুপার সাইক্লোন বলে। এখন আমফানের বাতাসের গতি আছে ২২৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর আগের সবচেয়ে বড় ঝড় ছিল সিডর। সিডরের গতি ছিল ২২৩ কিলোমিটার। তবে সিডরের এই গতি ছিল যখন এটি উপকূলে আছড়ে পড়ে সেই সময়ের। আমরা আশা করছি ২২৫ থেকে ২৪৫  কিলোমিটার বেগের এই আমফান যখন উপকূলে আঘাত হানবে তখন তার গতি কিছুটা কমে যাবে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ভারতে এক লাখেরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজারেরও বেশি।

সিএনএন জানায়, একইসঙ্গে দুই দুর্যোগ মোকাবিলা করা উভয় সরকারের পক্ষেই চ্যালেঞ্জ। বিশেষত, আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বেশ কঠিন।

সত্য নারায়ণ প্রধান বলেন, এটা দ্বিগুণ চ্যালেঞ্জের। উদ্ধার কাজের সময় আমাদের কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের বিশেষ ত্রাণ কমিশনার প্রদীপ জেনা বলেন, মহামারি ও ঘূর্ণিঝড় দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রেখেই আমাদের কাজ করতে হবে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে আমরা সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেব না। কারণ যাদের বাড়ির কাঠামো ভালো, তারা নিজ বাড়িতেই সুরক্ষিত থাকবেন। দুর্যোগের সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাটা সম্ভব নাও হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতেও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের সমুদ্রের কাছেই উখিয়া উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ জমিতে বাস করছে। বিশ্বের এই বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে গত সপ্তাহেই প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত