আশাশুনিতে ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ ও টায়ার

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৩

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে লাইসেন্স বিহীন ইটভাটা পরিচালনার পাশাপাশি শিশু শ্রমিকদের কাজ করানো হচ্ছে। এছাড়া কয়লার পরিবর্তে পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ ও টায়ারের গুড়া।

সরেজমিন গিয়ে আশাশুনির অধিকাংশ ভাটায় দেখা যায় ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ ও টায়ারের গুড়া। যা কালি নামে পরিচিত ভাটা শ্রমিক ও মালিকদের কাছে।

বুধহাটা বাজারের পাশে অবস্থিত বুধহাটা বিক্রস ভাটায় যেয়ে দেখা যায়, নদীর মাটি কেটে নিয়ে তৈরী করা হচ্ছে ইট। এছাড়া কাঠ ও কয়লা ব্যবহার করা হচ্ছে ইট পোড়ানোর কাজে।

বুধহাটা বিক্রস ভাটার ম্যানেজার আশরাফ হোসেন জানান, সরকারি সব নিয়ম মানতে গেলে ভাটা পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

বাজারের পাশে আরেকটি ভাটা এসআর বিক্রস পরিচালক, সাতক্ষীরা ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল সরদার। প্রভাব খাঁটিয়ে বসত বাড়ি ও ফসলী জমির উপরে গড়ে তুলেছেন তার ইটভাটা। নদীর মাটি কেটে নিয়ে তৈরী করছেন ইট। তাছাড়া ইট পোড়ানোর জন্য ১৮ বছর ধরে তিনি কাঠ ও টায়ারের গুড়া ব্যবহার করছেন। 

এ বিষয়ে এসআর বিক্রস ভাটার ম্যানেজার আকতার হোসেন বলেন, উপজেলার সবকটি ভাটা যেভাবে চলছে তাদেরটাও সেভাবেই চলছে।

কুল্যর মোড়ে অবস্থিত হাজী বিক্রস। যার পরিচালক মিন্টু কমিশনার। ভাটার চারপাশে রয়েছে ফসলী জমি ও বসত বাড়ি। ইট পোড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে তুষকাঠ। এই ভাটার ম্যানেজার সাংবাদিকদের ছবি তুলতে ও তথ্য নিতে গেলে বাঁধা প্রদান করে বলেন কমিশনার সাহেবের সাথে আগে কথা বলেন তারপর ছবি তুলবেন।

সাতকোনা অবস্থিত এমএসবি বিক্রস এর পরিচালক আলহাজ্ব শেখ মহাসিন। নদীর পাশে গড়ে তোলা এ ভাটায় শিশু শ্রমিকরা করছে ইট তৈরী কাজ। শিশু শ্রমিক ওমর ফারুক (১২), আবু হাসান (১২), রবিউল (১০) বলেন, ৫-৬ বছর ধরে তারা ওই ভাটায় কাজ করছেন। মজুরি প্রতিদিন আড়াইশত টাকা। ভাটার ম্যানেজার বলেন, শতভাগ সরকারি নিয়ম মেনে তারা ভাটা পরিচালনা করছেন। 

তবে শিশু শ্রমের বিষয়ে বলেন, গরীব মানুষেরা পড়ালেখা করাতে পারে না। এজন্য অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের ভাটার কাজে নিয়ে আসে।

শ্রীকলস অবস্থিত মিলন বিক্রস। পরিচালক আব্দুস ছামাদ। ৩০ বিঘা জমির উপরে গড়ে তুলেছেন ইটভাটা। নদীর মাটি কেটে নিয়ে তৈরী হচ্ছে ইট এবং ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করছেন কাঠ। 

ভাটার মালিক আব্দুস ছামাদ বলেন, আশাশুনিতে অবস্থিত অধিকাংশ ভাটা নদীর মাটি দিয়ে ইট তৈরী করেন। তাছাড়া কয়লা দিয়ে ইট পোড়াতে গেলে খরচ বেশী হয়। এজন্য কাঠ ব্যবহার করছি।

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলিফ রেজা বলেন, ভাটার বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ জানায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অতিদ্রত আশাশুনির ইটভাটায় নদীর মাটি, কাঠ ও টায়ারের গুড়া ব্যবহার বন্ধ না হলে পরিবেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে এমনই আশাংকা সচেতন মহলের।

সাহস২৪.কম/রিয়াজ

Array ( [0] => /assets/news_photos/2019/01/16/image-44669.jpg [1] => /assets/news_photos/2019/01/16/image-44669.jpg )
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত