x

এইমাত্র

  •  বিসিবির সাথে আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে: সাকিব আল হাসান
  •  ক্রিকেটারদের বেশিরভাগ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে, দ্রুত কার্যকর করা হবে: নাজমুল হাসান পাপন
  •  শনিবার থেকে মাঠে ফিরছেন ক্রিকেটাররা
  •  দুইদিন পিছিয়ে জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ড শুরু শনিবার

‘আদম সুরত’: মনে করিয়ে দেয় এক অপূরণীয় শূন্যতা

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৯, ১৬:২০

‘আদম সুরত’ মনে করিয়ে দেয় এক অপূরণীয় শূন্যতার কথা। তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনিরের অকাল মৃত্যুজনিত শূন্যতা।

‘আদম সুরত’ বানানোর গল্প অনেক জায়গায় অল্প বিস্তর পড়েছি। কোথায় জানি পড়েছিলাম, সুলতানকে বেঁচে থাকা অবস্থায় মুল্যায়ন করার বিষয়টি ভেবেছিলেন চলচ্চিত্রকার। সত্যিই তো, কেউ বেঁচে থাকলে সে তো মিথ হয়ে ওঠে না। “আহা, সে যদি বেঁচে থাকতো, এমনটি হতে পারতো” তখন বলে দুঃখবিলাস করা যায় না। এস. এম. সুলতান সম্পর্কে আমার প্রাথমিক জ্ঞান কোন এক আস্ত ক্যালেন্ডারের কারনে হয়েছিল। সেবার প্রথম দেখেছিলাম তার আঁকা ৬টি ছবি বছর ঘুরতে ঘুরতে। গুরুত্ব দেই নি। দেওয়ার বয়স ছিল না।

তারেক মাসুদের মুক্তির গান খুব সম্ভবত কোন এক বিজয়ের মাসে চট্টগ্রামে বিজয় মেলায় দেখানো হয়েছিল। নিশ্চিত নই। শুধু মনে আছে, বাবা খুব খুশি হয়ে ‘মুক্তির গান’ এর সিডি ও বুকে ‘মুক্তির গান’ এর লোগো আঁকা টি-শার্ট কিনে এনেছিল। সুলতান এবং তারেক মাসুদ সম্পর্কে প্রথম চেনা পরিচয়ের ব্যাপারটা তুলে ধরলাম, কারন, ‘আদম সুরত’ দেখে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছি যা ছিল তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনিরের প্রথম কাজ।

সিনেমার সাথে এই প্রামান্যচিত্র তৈরির মাধ্যমেই সিনেমা বানানো হাতে কলমে শুরু করেছিলেন তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনির। সিনেমাটি শেষ করতে তাদের সময় লেগেছিল ৭ বছর। এতে উঠে এসেছে সুলতানের একান্ত নিজস্ব এবং সহজ দর্শন। কিভাবে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতির প্রতি মোহ ত্যাগ করে নিজের জন্মস্থান যশোরের নড়াইলে ফিরে এসে নিজের মতো করে থাকতেন, ছবি আঁকতেন এবং ছবি আঁকা শিখাতেন। নিজের ছবি সংরক্ষনের ব্যাপারে উদাসীনতা ছিল তাঁর। ভাবতেন শুধু কিভাবে কম খরচে দেশি উপকরন ও সরঞ্জমাদি ব্যবহার করে ছবি এঁকে যেতে পারেন। ছবি আঁকা যেন শুধু শহুরে চিন্তা, তথাকথিত ভালো ক্যানভাস এবং বিদেশী রঙের বলয়ে সীমাবদ্ধ না থাকে সেই চেষ্টা করেছেন। তাঁর ছবির বিষয়বস্তুও ছিল সরল। বিমূর্ততার বদলে তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন গ্রামীন সমাজ ও লোকচিত্র। তথ্যচিত্রটিতে সুলতানের মাটির টানে দেশে ফিরে আসার সাথে সাথে তার ছবির মধ্যেও যে পরিবর্তন আসে, তা আমরা দেখতে পাই। কৃশকায় যেই কৃষককে আমরা দুর্বল এবং মাঝে সাঝে যাদের পেশা নিয়ে ঠাট্টা ছলে কথা বলি, সেই কৃষক তার ছবিতে হয়ে উঠে পেশীবহুল এবং শক্তিশালী। সুলতানের চোখে আমরা দেখতে পাই যে অন্ন উৎপাদনকারীই তার ছবিতে সবচেয়ে শক্তিশালী। তার ছবিতে নারীত্ব ও মাতৃত্বও যেন দ্বিধাহীন এবং এ কারনেই তারাও শক্তিশালী। তারেক মাসুদ সুলতানের জীবনের সাথে নিজের জীবনকে জড়াতে পেরেছিলেন বলেই মনে হয় সিনেমাটি নিছক একটি নিরীক্ষা হয়ে থাকে নি।

ছবিটিতে সময়, সুলতানের জীবন, তার আবাসস্থল এবং তার চিন্তার সহজ সমীকরণ তিনি সৎভাবে তুলে ধরেছেন। একারনে ১৯৮৯ সালের সিনেমাটি এই সময়ে দেখেও মনে হয় এতে কোন মরিচা পড়ে নি। ‘আদম সুরত’ বানানোর প্রক্রিয়াটাও একটি সিনেমার চেয়ে কম চমকপ্রদ নয়। প্রথম সিনেমায় সুলতানের সান্নিধ্য পাওয়ার কারনেই হয়তো সিনেমা নিয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া সময়ে তারেক মাসুদ আমাদেরকে নতুন সিনেমা বানিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন। ‘আদম সুরত’ সিনেমাটি সৃষ্টির আনন্দে মেতে থাকা এক শিল্পীর গল্প বলে এবং তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনিরের শিল্পী হয়ে উঠার প্রথম চেষ্টার সাক্ষী বহন করে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত