x

এইমাত্র

  •  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে জানালার গ্রিলে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় একজনের মৃতদেহ উদ্ধার

বুয়েটে ছাত্রের লাশ উদ্ধার; সন্দেহ ছাত্রলীগের দিকে

শিবির সন্দেহে দলবদ্ধ পিটুনির শিকার বলে ধারণা

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১০:২৪

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) অজ্ঞাত কারণে মারা যাওয়া এক শিক্ষার্থোর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাত ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হল থেকে এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মৃত শিক্ষার্থীর নাম আবরার ফাহাদ (২১)। সে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) বিভাগের লেভেল-২ এর টার্ম ১ এর ছাত্র ছিল। সে শের-ই বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকত। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে।

লাশ উদ্ধারের সময় আবরারের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

বুয়েটের দায়িত্বরত চিকিৎসক মাসুক এলাহী বলেন, ‘রাতে আমি ডিউটিতে ছিলাম। রাত ৩টার দিকে ছাত্রদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শেরেবাংলা হলের ১ম ও ২য় তলার মাঝামাঝি জায়গায় ফাহাদকে পড়ে থাকতে দেখি। তখন তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

রাতে বুয়েট কর্তৃপক্ষর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, রাত পৌনে ৩টার দিকে তাঁরা খবর পান শের-ই বাংলা হলের বাইরে নিচতলায় ছেলেটা পড়ে আছে। হল কর্তৃপক্ষই পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে যান তারা। ছেলেটির পরনে ছিল ট্রাউজার ও শার্ট।

তিনি আরও বলেন, আঘাত কোনো অস্ত্রের নয়। কোনো কিছু দিয়ে বাড়ি দেওয়া হয়েছে। কেন এত রাতে সে বাইরে গিয়েছিল, তা কেউ বলতে পারেনি। 

এদিকে জানা যায়, মারধরের সময় ওই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু। আশিকুল ইসলাম বিটু বলেন, আবরারকে শিবির সন্দেহে রাত আটটার দিকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়। সেখানে আমরা তার মোবাইলে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার চেক করি। ফেসবুকে বিতর্কিত কিছু পেইজে তার লাইক দেয়ার প্রমাণ পাই। সে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাই। এক পর্যায়ে আমি রুম থেকে বের হয়ে আসি। এরপর হয়তো তাকে মারধর করে থাকতে পারে। পরে রাত তিনটার দিকে শুনি আবরার মারা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ফাহাদের একজন রুমমেট ঘটনার বিষয়ে বলেন, টিউশনি শেষে রুমে রাত নয়টার দিকে আসি। তখন আবরার রুমে ছিলো না। অন্য রুমমেটদের কাছ থেকে জানতে পারি তাকে ছাত্রলীগের ভাইয়েরা ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে গেছে। পরে রাত আড়াইটার দিকে হলের একজন এসে আবরার আমাদের রুমমেট কিনা জানতে চান। আমি হ্যাঁ বললে সিঁড়ি রুমের দিকে যাওয়ার জন্য বলেন। পরে সিড়ি রুমের দিকে গিয়ে একটা তোশকের ওপরে আবরার পড়ে আছে। পরে ডাক্তার এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত