x

এইমাত্র

  •  এন্ড্রু কিশোর আর নেই
  •  মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ৫ লাখ ৩৬ হাজার, আক্রান্ত ১ কোটি ১৫ লাখেরও বেশি
  •  বড় নিয়োগ আসছে প্রাথমিকে
  •  এবারের হজে কাবা স্পর্শ করা নিষিদ্ধ
  •  ঈদের হাওয়া নেই মসলার বাজারে

‘মাস্টার ট্রেইনাররাও ঠিকমতো সৃজনশীল বোঝেন না’

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ২০:১৬

সাহস ডেস্ক

বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডুর) প্রধান অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা শিক্ষকের মান। সাধারণ শিক্ষক দূরের কথা, মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণেও আমরা এমন অনেক শিক্ষক পাচ্ছি, যারা ঠিকমতো সৃজনশীল বোঝেন না। এমনকি প্রশিক্ষণের ভাষাও বোঝেন না অনেকে।’

৯ জুন (রবিবার) একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কবীর চৌধুরীর এমন মন্তব্য পাওয়া যায়।

কবীর চৌধুরী বলেন, ‘সৃজনশীলে প্রশ্ন প্রণয়ন অত সহজ নয়। এর জন্য শিক্ষকের ওই বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকা দরকার। বুঝতে হবে শিক্ষা মনস্তত্ত্ব।’

জানা যায়, ২০০৬ থেকে চালু করতে চেয়েও পারেনি বিএনপি সরকার। তখন নাম ছিল কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নবম শ্রেণিতে বাংলা ও ধর্ম বিষয়ে সৃজনশীল চালু হয়। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষায় প্রথমবার প্রবর্তন ঘটে। সে হিসেবে চলতি মাসে এ পদ্ধতির একযুগ পূর্তি হচ্ছে। কিন্তু এতদিনেও এ পদ্ধতি শিক্ষকরা পুরোপুরি আয়ত্তই করতে পারেননি। এ ব্যাপারে মাউশি অধিদপ্তরের 'একাডেমিক তদারকি প্রতিবেদন' শীর্ষক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, সারাদেশের ৫৮ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল বিষয়ের দক্ষতা অর্জন করেছেন। তারা এ পদ্ধতিতে প্রশ্ন প্রণয়ন করতে পারেন। বাকি ৪১ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল বিষয়ের প্রশ্ন তৈরি করতে পারেন না। তাদের মধ্যে ১৩ দশমিক ১২ শতাংশের অবস্থা খুবই নাজুক। এ ধরনের শিক্ষকরা নতুন পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরিই করতে পারেন না।

সূত্র জানায়, শিক্ষকদের সৃজনশীলতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) নামের একটি প্রকল্প থেকে। এ ছাড়া মাউশির প্রশিক্ষণ শাখা থেকেই সৃজনশীলতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। তাদের মধ্যে কতজন সৃজনশীল প্রশিক্ষণ পেয়েছেন সে হিসাব কারও কাছেই নেই।

জানা যায়, ভালোভাবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ না দিয়েই একের পর এক বিষয়ে চালু করা এ প্রশ্ন পদ্ধতির কারণে একাধিক পাবলিক পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা হোঁচট খেয়েছে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষাতেও গণিত বিষয়ের সৃজনশীলে পরীক্ষার্থীরা 'ধরা' খাওয়ার কারণে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ ৫ কমে গেছে ব্যাপক হারে। আইসিটি ও বিজ্ঞানের নানা বিষয়েও অনেক শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষার্থীরা কম নম্বর পেয়েছে।

জানুয়ারিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালানো সমীক্ষায় জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হলেও এখন পর্যন্ত তা আয়ত্ত করতে পেরেছেন সারাদেশের মাত্র ৫৮ শতাংশ শিক্ষক। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ও সেসিপ প্রকল্প থেকে বছরে দুইবার এমন সমীক্ষা চালানো হয়। সব প্রতিবেদনই মন্ত্রণালয়ে জমা হয়। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেয়া হয় না। দৈনিক শিক্ষার অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, ‘নোট-গাইডের দৌরাত্ম কমানো সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর অন্যতম লক্ষ্য হলেও বাস্তবে দেখা যায় স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন অনেকেই গাইড বই দেখে তৈরি করেন। অনেকে আবার নানাভাবে প্রশ্ন সংগ্রহ করেন।’

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সৃজনশীলে আওতাভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে গণিতে। গত ৬ মে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে গণিতে। শিক্ষক ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা বলছেন, দেশের মফস্বল এলাকায় গণিতের সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতির দক্ষ শিক্ষক এক রকম পাওয়া যায় না বললেই চলে। ভালো শিক্ষকরা সবাই রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন। ফলে গ্রামাঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরা সত্যিকারের দক্ষ শিক্ষকের শিক্ষাদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হকের মতে, এবারের এসএসসিতে তাদের বোর্ডে গণিতে সর্বাধিক ১৪ দশমিক ৭৯ ভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এর মধ্যে মানবিকের শিক্ষার্থীই বেশি। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরের শিক্ষার্থীরা খারাপ করেনি। ঢাকা বোর্ডের অধীন অন্যান্য জেলার প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীরা গণিতের ফল খারাপ হয়েছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে গণিতে সর্বাধিক ২৪ দশমিক ৭২ ভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে বোর্ডেও গণিতে সর্বাধিক ১৩ দশমিক ৫৭ ভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। গণিতে দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলোতে সংকট আছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত