x

এইমাত্র

  •  আজ ১৭ই জুলাই প্রকাশিত হচ্ছে এইচ এস সি ফলাফল ২০১৯।

রাবি কৃষি অনুষদে আগুন, ১৫৫ ভবনে নেই অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা

প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৯, ১২:৫৬

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনসহ ছোট-বড় প্রায় ১৫৮টি ভবন রয়েছে। এসব ভবনের মধ্যে কেবল তিনটি ভবনে রয়েছে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা। ফলে অগ্নি ঝুঁকিতে রয়েছে বাকি ১৫৫টি ভবন। 

আবার যে তিনটি ভবনে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা রয়েছে, তাও অপ্রতুল। এসব ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫৮টি ভবনের মধ্যে ১৭টি আবাসিক হল, ১০টি একাডেমিক ভবন, ২টি প্রশাসনিক ভবন, ১টি করে আইবিএস ভবন, টিএসসি, মিলনায়তন, ডিনস ভবন, আন্তর্জাতিক ডরমেটরি, সিনেট ভবন, আইবিএ ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার।

এছাড়া উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বাসভবনসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রায় ১২১টি আবাসিক ভবন রয়েছে। আর এসব ভবনের মধ্যে কেবল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ১৯টি, মুহম্মদ কুদরত-ই-খোদা ভবনে চারটি ও স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ভবনে ১১টি অগ্নি নির্বাপন সিলিন্ডার রয়েছে। আর বাকি ভবনগুলোর কোনটিতে অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা নেই। 

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের বিভিন্ন স্থানে ১৯টি সিলিন্ডার রয়েছে যেগুলোর কোনটিরও মেয়াদ নেই। এর মধ্যে গ্রন্থাগারের মূল ফটকে যে সিলিন্ডার রয়েছে সেটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০০৯ সালে। পাশে থাকা রেফারেন্স শাখার সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৫ সালে। সিঁড়ির পাশে ক্যাটালগিং শাখার সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ হয় ২০১১ সালে। রিডিং রুমের সামনে রাখা সিলিন্ডারটি মেয়াদ শেষ হয় ২০১৩ সালে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহম্মদ কুদরত-ই-খোদা একাডেমিক ভবনে চারটি ও স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের বিভিন্ন বিভাগে ১১টি অগ্নি নির্বাপন সিলিন্ডার দেখা গেছে। এই দুই ভবনের ১৫টি সিলিন্ডারের মধ্যে চারটির মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের জুলাইয়ে। এছাড়া প্রশাসনিক ভবন, হল ও শিক্ষক, কর্মকার্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনগুলোতে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র দেখা যায়নি। 

গত বছরের ২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ২টি ল্যাব ও অফিস কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনগুলোতে অগ্নিদুর্ঘটনা নিরসনে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এছাড়া হলগুলোতে আগুন লাগলে নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো উপায় নেই বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, শিক্ষকদের কোয়ার্টারের কোনো ভবনেই নেই অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা। ভবনগুলো যে কাঠামোতে তৈরি করা হয়েছে আগুন লাগলে প্রাণে বাঁচার সম্ভাবনা নেই। সারাদেশে যেভাবে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে এখানে যে হবে না তার নিশ্চয়তা নাই। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর গবেষণাগারে বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়। একটু অসতর্ক হলেই, মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। গবেষণাগারে আগুন নেভানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষার্থীদের গবেষণাগারে কাজ করতে হয়। এছাড়া প্রতিটি হলে শিক্ষার্থীরা বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করছে। ফলে যেকোন সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। 

কর্মচারীরা জানান, কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে চাকুরি করছি। কিন্তু একবারও অগ্নি নির্বাপণ সংক্রান্ত ট্রেনিং করেননি। এরই মধ্যে গতবছর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। আগুনের আকার ছোট ছিল বলে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু বড় ধরনের আগুন লাগলে না নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না

এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভবনটিতে কোন ধরনের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেল পাঁচটার দিকে কৃষি অনুষদ ভবনের তৃতীয় তলায় ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের স্টোর রুমে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। দেখতে পেয়ে ভবনের নিচে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ও কর্মচারী তৎক্ষণাৎ পানি দিয়ে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও ধোঁয়া উঠতে থাকে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করেন তারা। সাড়ে পাঁচটার দিকে গাড়ি নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গ্রন্থাগার প্রশাসক অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র শীল জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে আগুনের ঘটনায় আমরা বেশ উদ্বিগ্ন। এর ফলে আমাদের সচেতন হওয়া দরকার। গ্রন্থাগারে সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে জানাবো। আশা করছি তারা দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন।

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফজলুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। ভবনগুলো ফ্যাকাল্টির আন্ডারে থাকলেও সংস্কার কাজগুলো প্রকৌশল দপ্তর দেখে। তাই এর জন্য প্রশাসনকেই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। 

হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ড. আমিনুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনা এড়াতে হল বা ভবনগুলোতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা জরুরী। তবে হলগুলো অনেক পুরাতন হয়ে গেছে। তাই হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

অগ্নি নির্বাপণের কোন পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভবনগুলো অনেক আগেই তৈরী হয়েছিল। সেসময়ে এ ধরনের কোন প্ল্যান ছিলো না। তবে নতুন করে ভাবা হচ্ছে। আমি প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী বলেন, গ্রন্থাগার ও দু’একটি ভবন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো ভবনে অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে। শিগগিরই অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাহস২৪.কম/রিয়াজ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত