x

এইমাত্র

  •  নাইক্ষ্যংছড়ির মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির হাই অ্যালার্ট
  •  করোনায় সারা বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৭ জন
  •  করোনায় বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ৬৬ লাখের অধিক, সুস্থ হয়েছেন ৩২ লাখেরও বেশী
  •  গণস্বাস্থ্যের কিট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনুমোদন চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ
  •  করোনাভাইরাসঃ বাংলাদেশে আরও ৩০ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৮২৮ জনের

যুদ্ধবিরোধী চেতনার কারিগর: আব্দুল্লাহ আল মামুন

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০১:৪২

সংগৃহীত
আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি ১৯৪২ সালের ১৩ই জুলাই জামালপুরে আমড়া পাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস এবং মাতা ফাতেমা খাতুন। তিনি ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে এম এ পাস করেন। আব্দুল্লাহ আল মামুন তার পেশাগত জীবন শুরু করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রযোজক হিসেবে। পরবর্তীকালে পরিচালক, ফিল্ম ও ভিডিও ইউনিট (১৯৬৬-১৯৯১), মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমী (২০০১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
 
অসংখ্য নাটক রচনায় যেমন নিজের প্রতিভা আর শক্তির পরিচয় দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, তেমনি নিজের অপরিমেয় ক্ষমতার প্রমাণ রেখেছেন তাঁর নির্দেশনায় ও অভিনয়েও৷ তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে 'সুবচন নির্বাসনে', 'এখন দুঃসময়', 'সেনাপতি', 'এখনও ক্রীতদাস', 'কোকিলারা', 'দ্যাশের মানুষ', 'মেরাজ ফকিরের মা', 'মেহেরজান আরেকবার' ইত্যাদি৷ নাট্যসংগঠন থিয়েটার-এর তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। নাটকের সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র, টিভি সিরিয়াল। শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস 'সংশপ্তক' নিয়ে ধারাবাহিক নাটকের পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে তিনি পান প্রবাদপ্রতিম খ্যাতি। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে 'সারেং বৌ' (১৯৭৮), 'শখী তুমি কার', 'এখনই সময়', 'জোয়ারভাটা', 'শেষ বিকেলের মেয়ে। তার পরিচালিত সর্বশেষ চলচ্চিত্র দুই বেয়াইয়ের কীর্তি।
 
আবদুল্লাহ আল মামুন যুদ্ধবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘শপথ’ নামে নাটক রচনা করেন ১৯৬৪ সালে। তিনি এ নাটকটি রচনা করেন মূলত বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের জন্য প্রসঙ্গত উল্লেখ করা দরকার যে, মামুন ‘শপথ’ রচনার আগে ‘নিয়তির পরিহাস’, ‘বিন্দু বিন্দু রং’ শীর্ষক দুটো মৌলিক নাটক ছাড়া ক্রিস্টোফার মার্লোর ‘ডক্টর ফস্টাস’ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। এছাড়াও তিনি নাট্যনিরীক্ষা করতে গিয়ে ‘ঋতুরাজ’ শীর্ষক এক কাব্যনাটক রচনা করেছিলেন।
 
শিল্প ও সাহিত্যে অবদানের জন্য অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি৷ তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে। ১৯৭৮ প্রথম জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার, টিভি নাটক ‘সংশপ্তক’ বাচসাস পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ পরিচালক চলচ্চিত্র ‘সারেং বৌ’। ১৯৭৯ ‘সাহিত্য’ বাংলা একাডেমী পুরস্কার। ১৯৮০ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ পরিচালক চলচ্চিত্র ‘এখনই সময়’। ১৯৮২ অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার। ১৯৮৮ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার চলচ্চিত্র ‘দুই জীবন’। সাহিত্যে ১৯৯১ মুনীর চৌধুরী সন্মাননা। ২০০০ সালে একুশে পদকে ভূসিত হন জনপ্রিয়তার কারিগর আব্দুল্লাহ আল মামুন।
 
দীর্ঘ রোগভোগের পর ২১শে আগস্ট, ২০০৮ তারিখে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন নাট্যামোদী সকল মানুষের প্রিয় এই ব্যক্তি। আজ তার জন্মবার্ষিকী। আজকের এইদিনে তাঁকে সশ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
 
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত