x

এইমাত্র

  •  গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় নতুন সংক্রমিত ৩১৬৩ জন, মৃত ৩৩ জন
  •  বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপ-নির্বাচন আজ
  •  মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ৫ লাখ ৭৫ হাজার, আক্রান্ত ১ কোটি ৩২ লাখেরও বেশি
  •  ঈদে সরকারি-বেসরকারি চাকুরেদের আবশ্যিকভাবে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ
  •  চট্টগ্রামে সাহেদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মাসাৎ মামলা

বিমল মিত্র

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১৩:৪০

বাংলায় এত সহজ করে আর কারও লেখায় ইতিহাসকে কথা বলতে দেখা যায়নি। ১৭৫৭ থেকে ১৯৬২ সালের সময়কাল নিয়ে তার লেখা পাঁচটি ভিন্ন কাহিনির উপন্যাস যথাক্রমে ‘বেগম মেরি বিশ্বাস’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’, ’একক দশক শতক’ আর ‘চলো কলকাতা’। কথায় কথায় জেনে ফেলার আগ্রহজাগানিয়া কলকাতার ইতিহাস। বিমল মিত্রের লেখার অনুরাগীরা বলে থাকেন, বাংলায় আর কোনও বই না পড়লেও প্রত্যেক বাঙালির এই কয়েকটা বই অবশ্যই পড়ে রাখা উচিত।

বিমল মিত্র’র জন্ম ১৮ মার্চ ১৯১২ কলকাতায়। পিতা সতীশচন্দ্র মিত্র। শিক্ষা চেতলা স্কুল, আশুতোষ কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। রেলে চাকরি করতে করতে সাহিত্যচর্চা শুরু। প্রথম উপন্যাস ‘চাঁই’। পাঁচের দশকের ‘সাহেব বিবি গোলাম’ উপন্যাস লিখে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। এর পর রেলের চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি সাহিত্যসৃষ্টিতে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উপন্যাস ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’, ‘একক দশক শতক’, ‘চলো কলকাতা’, ‘পতি পরম গুরু’, ‘আসামী হাজির’ ইত্যাদি। প্রায় পাঁচশোটি গল্প ও শতাধিক উপন্যাসের লেখক বিমল মিত্র তাঁর ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ গ্রন্থের জন্য ১৯৬৪ সালে রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হন। এ ছাড়াও তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মান লাভ করেন। তাঁর রচনা ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে। ২ ডিসেম্বর, ১৯৯১ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিজের সম্পর্কে নিজেই মূল্যায়ন করেছেন বিমল মিত্র “...সত্যিই আমার কিছু হয়নি। অবশ্য তা নিয়ে আমি দুঃখও করি না। কারণ জীবনে যে কিছু হতেই হবে তারই বা কী মানে আছে। আকাশের আকাশ হওয়া কিংবা সমুদ্রের সমুদ্র হওয়াটাই তো যথেষ্ট। লেখক আমি হতে না-ই বা পারলাম, মূলতঃ আমি একজন মানুষ। মানুষ হওয়াটাই তো আমার কাছে যথেষ্ট ছিল। কারণ তরুলতা অরি সহজেই তরুলতা, পশু-পাখি অতি সহজেই পশু-পাখি, কিন্তু মানুষ অনেক কষ্টে অনেক দুঃখে অনেক যন্ত্রণায় অনেক সাধনায় আর অনেক তপস্যায় তবে মানুষ। আমি কি সেই মানুষই হতে পেরেছি?” মানুষ হতে পেরেছিলেন কিনা, নিজের কাছে সে প্রশ্ন রেখেছিলেন বিমল মিত্র। কিন্তু বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি যে একজন পথিকৃৎ ছিলেন তাতে সন্দেহ নেই।

কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পর বাংলার বাইরে বিভিন্ন প্রদেশে বাঙালি সাহিত্যিক হিসাবে তিনি আজও জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তাঁর লেখা অসংখ্য উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থসমূহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্র, মঞ্চ-নাটক ও যাত্রায় সফলভাবে রূপায়িত হয়েছে তাঁর একাধিক উপন্যাস । কাহিনীর ঠাস বুননে আর সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে উঠে আসা বাস্তব চমকপ্রদ চরিত্রগুলির দুর্নিবার আকর্ষণ সিনেমা ও নাটকের বিদগ্ধ দর্শককূলকে বিমোহিত করেছে দিনের পর দিন।

বিমল মিত্র রচিত চলচ্চিত্রায়িত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি - 'সাহেব বিবি গোলাম’ ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ ‘স্ত্রী’ ‘শেষ পৃষ্ঠায় দেখুন’ । আবার কলকাতার রঙমঞ্চগুলিতে সগৌরবে অভিনীত হয়েছে ‘একক দশক শতক’ ‘বেগম মেরী বিশ্বাস’ এবং সুবৃহৎ উপন্যাস ‘আসামী হাজির’-এর নাট্যরূপ। বাংলার আধুনিক মানস রূপান্তরের চিত্রকল্প এই উপন্যাসগুলি লেখকের নিজস্ব ঘরানার স্বাতন্ত্র্য চিনিয়ে দিয়েছে। আবার কিছু উপন্যাস যেমন ‘নিবেদন ইতি’, ‘প্ররস্ত্রী’, ‘স্ত্রী জাতক’, ‘বেনারসী’ ‘চলো কলকাতা’ ইত্যাদি কোনভাবে বেষ্ট সেলার না হলেও তাঁর লেখনী শৈলীতে রসোত্তীর্ন হতে পেরেছে। নিজস্ব ঘরানায় কিশোর সাহিত্যেও তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল।

তাঁর বিখ্যাত কালোত্তীর্ণ উপন্যাস ‘সাহেব বিবি গোলাম’। পরাধীন সমাজ ব্যবস্থা এবং সরল গ্রাম্য জীবনের সঙ্গে শহুরে কৃত্রিমতার তারতম্য এই উপন্যাসটিতে তিনি নিপুণভাবে গ্রন্থিত করেছেন। ‘সাহেব বিবি গোলাম’ সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রথম ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। কয়েক কিস্তি প্রকাশের পরপরই নিন্দুকেরা অপপ্রচার, কুৎসাভরা চিঠি পাঠানো শুরু করে। এমন কি প্রাণনাশের হুমকিও তিনি পেয়েছেন। আর তিনি ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে বসে নির্বিকার সাধকের মত এই উপন্যাসের পরবর্তী কিস্তিগুলি লিখে গেছেন। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হওয়ার পর এটিই আবার বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ‘দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষ উচ্ছসিত প্রশংসা করে বলেছিলেন- ‘আমার ধারনা এ গ্রন্থ একটি কালোত্তীর্ণ ক্লাসিক। এ ধরনের উপন্যাস একশো বছরে মাত্র একটি রচিত হওয়া-ই যথেষ্ট।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত