আখেরি মোনাজাতে শেষ বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩:৪৫

টঙ্গী প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। রবিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে শুরু হয়ে ১০টা ২০ মিনিটে মোনাজাত শেষ হয়। মোনাজাতে অংশ নিতে মাঠে জায়গা না হওয়ায় আশপাশের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন মুসল্লিরা।

হেদায়েতি বয়ান শেষে ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরুব্বিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা জুবায়ের।

আখেরি মোনাজাতে দেশের কল্যাণ, দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি কামনা করা হয়। এ ছাড়া মুসলমানদের ইমানি শক্তি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দোয়া করা হয়। এ সময় কান্না জড়িতকণ্ঠে মুসল্লিরা আমিন-আমিন ধ্বনি করেন। আগামী ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইজতেমাস্থল ও এর আশপাশের তিনটি সড়কে যান চলাচলের নির্দেশনা দেয় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। এরপর আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে গতকাল শনিবার (১৪ জানুয়ারি) রাতেই টঙ্গীর তুরাগতীরে অবস্থান নেন লাখো মুসল্লি।

ইজতেমার মাঠে জায়গা না থাকায় বিভিন্ন সড়কে বসে পড়েন মুসল্লিরা। টঙ্গীর মন্নু গেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী বাজার থেকে স্টেশন রোড, আব্দুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া সড়কে মুসল্লিরা অবস্থান নেন। তাঁরা জায়নামাজ, চাদর ও পাটি বিছিয়ে সড়কে বসে পড়েন।

এ ছাড়া টঙ্গীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, ময়দানের আশপাশের এলাকায়, বাসার ছাদে মুসল্লিরা অবস্থান করেন।

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত চলছেবিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে
পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মোনাজাতে অংশ নিতে আসেন। গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার সানায়া গ্রাম থেকে মাকে নিয়ে আসেন জাকিয়া। অবস্থান নেন টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকার মাইশা জেনারেল হাসপাতালের ছাদে। জাকিয়া বলেন, ‘বৃদ্ধ মায়ের ইচ্ছাপূরণেই আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে টঙ্গীতে আসি।’ 

এদিকে ফজরের নামাজের পর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা রবিউল, হেদায়েতি বয়ান করেন ভারতীয় মাওলানা আব্দুর রহমান। তাঁর বয়ান বাংলায় অনুবাদ করেন মাওলানা আব্দুল মতিন।

ইজতেমার আয়োজক কমিটির গণমাধ্যম সমন্বয়কারী মুফতি জহির ইবনে মুসলিম বলেন, ‘আজ আখেরি মোনাজাতে প্রায় ২০ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে ময়দান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরত্বে মাইকের ব্যবস্থা করেন।’

আখেরি মোনাজাতে নিরাপত্তার বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, সাদা পোশাকে মুসল্লিদের বেশে পুলিশ মোতায়েনসহ ১০ হাজার পুলিশ ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় রয়েছে। তারা আখেরি মোনাজাতের পর মুসল্লিদের বাড়ি ফেরা পর্যন্ত থাকবে। খুব দ্রুত ও নিরাপদে মুসল্লিরা যেন ময়দান ত্যাগ করতে পারে সে জন্য বাস, ট্রেনসহ সব ধরনের যানবাহনের ব্যবস্থা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০, ২১ ও ২২ জানুয়ারি। মাওলানা সাদ কান্ধালভীর অনুসারীরা দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবেন।

সাহস২৪.কম/এসএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?