তাহিরপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৭ ঘরে ঝুলছে তালা

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩:৪৭

সাহস ডেস্ক

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ৭০ ঘরের মধ্যে ২৭ ঘরের দরজায় ঝুলছে তালা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপহারের ঘর পাওয়া পরিবারের অধিকাংশই সুখী পরিবার ও দূর দূরান্তের বাসিন্দা। উপহারের ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পরথেকেই ঘরগুলোর দরজাতে ঝুলছে তালা। প্রশাসনের লোকজন আসছে এমন খবর পেলে তড়িঘড়ি করে ঘরে ফিরে আসে লোকজন। আবার কয়েকদিন থাকার পর আবার তারা ঘরে তালা দিয়ে চলে যায়। আবার অনেক ঘরের মালিকেরা অন্যদের সাবলীজ দিয়ে চলে গেছে। ঘর পেয়ে গৃহহীন পবিবারগুলো শুরুতে যেভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন সেখানে আজ অনেকটাই সুনসান নীরবতা। এমনটাই দেখা যায়, তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শিমুল বাগান সংলগ্ন মুজিব পল্লীতে।

তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতার্র কাযার্লয় সূত্রে জানা যায়, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম ধাপে তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামের শিমুল বাগান সংলগ্ন এলাকায় দুইটি ব্লকে ৩৫টি করে ৭০টি ঘর নিমার্ণ করে দেওয়া হয়। ২০২১ সালের শুরুতে ঘরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি গৃহহীন পরিবারকে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, মিলনায়তন ও বিদ্যুৎ সুবিধাসহ একটি করে সেমিপাকা ঘর প্রদান করা হয়।

মুজিব পল্লীর বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, পাকা ঘর পাওয়ার পর প্রথম দিকে মুজিব পল্লীটি লোকজনের আনাগোনাতে খুবই জমজমাট ছিল। বর্তমানে দুইটি প্লটে ২৭টি ঘরের দরজাতে তালা ঝুলানোর কারণে পুরো মুজিব পল্লীতে এখন সুনসান নীরবতা চলছে।

জানা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘরগুলো বরাদ্দ প্রদানের সময় সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বের করার কাজ করা হয়নি। তাছাড়া যাদেরকে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশই উপজেলার অন্য ইউনিয়ন থেকে এখানে এসেছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখানে এসে দীর্ঘদিন কোনো কাজ না পেয়ে বেকার অবস্থায় দিনযাপন করছিল। কর্মহীন থাকার কারণে পরে তাদের মধ্য থেকে অনেকেই নিরুপায় হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। যে কারণে বরাদ্দকৃত ঘরগুলো এখন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে। বিশেষত হাওরাঞ্চল থেকে মাছ ধরা পেশায় জড়িত ৭/৮টি পরিবার এখানে এসেছিল। পরবর্তীতে সীমান্তের বিকল্প পেশায় কাজ করতে তারা অভ্যস্ত না থাকায় এরা মুজিব পল্লী ছেড়ে চলে যায়।

মুজিব পল্লীর বাসিন্দা হিরণ মিয়া জানান, প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে আমরা ভূমিহীনরা এখানে আশ্রয় পেয়েছি। কিন্তু কষ্ট লাগে যখন দেখি অধিকাংশ ঘরে এখন তালা ঝুলানো থাকে। ভূমিহীন অসহায় মানুষদের জন্য ঘরগুলো বরাদ্দ হলেও কিছু মানুষ মিথ্যা তথ্য দিয়ে এখানে বরাদ্দ নেয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি মৌখিকভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ভাটি তাহিরপুর গ্রাম থেকে আসা সজল মিয়া বলেন, তিনি মুজিব পল্লীতে আসার পর মোটরবাইক চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। ওখানে তিনি সারা জীবন কাটাবেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, তার মতো প্রকৃত ভূমিহীনদের ওখানে স্থান দিলে দরজায় তালা ঝুলানো থাকতো না। যারা মুজিব পল্লী ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের সবারই জায়গা জমি রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নোয়াজ আলী বলেন, সঠিক জরিপ করে স্থানীয় ভূমিহীনদের মাঝে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হলে এমন অবস্থা হতো না। কিছু পরিবার আছে যারা এখানে থাকেন না। প্রশাসনের লোকজন আসছে এমন খবর পেলে তড়িঘড়ি করে ঘরে ফিরে আসেন। আবার কয়েকদিন পর ঘরে তালা দিয়ে চলে যায়। এ যেন চোর পুলিশের খেলা চলছে।

তাহিরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা বলেন, অনেক ঘরে তালা ঝুলছে বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ ব্যপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

সাহস২৪.কম/এএম.

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?