কয়রায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলা

তদন্তভার পরিবর্তনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২২, ১৯:৩২

খুলনা প্রতিনিধি

কয়রায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় প্রকৃত আসমিদের গ্রেপ্তার, সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তে গতি ফেরাতে তদন্তভার পরিবর্তনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবার। রবিবার (২১ আগস্ট) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা মোছা. কহিনুর খানমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে মফিজুল ইসলাম।

বক্তব্যে তিনি বলেন, নিহত হাবিবুল্লাহ তার ছোট ভাই। গত বছরের ২৫ অক্টোবর রাতে হাবিবুল্লাহ, তার স্ত্রী বিউটি বেগম ও মেয়ে হাবিবা সুলতানা টুনিকে দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে হত্যা করে। পরেরদিন পার্শ্ববর্তী একটি পুকুর থেকে তাদের তিনজনের লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় ওই দিন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

এ বছরের ১০ জানুয়ারি পুলিশ নিরীহ গ্রামবাসির কয়েকজনকে আটক করে তাড়াহুড়ো ভাবে সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বিকৃত যৌনলালসা, প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেন ও পরকীয়া সম্পর্কের জেরে তারা খুন হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তার দাবি, হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ কোন স্বাক্ষী নেই। পুলিশের দাবি আলাদা-আলাদা ঘটনায় ক্ষিপ্ত ১৪-১৫ জন মানুষ একত্রিত হয়ে ওই রাতে ভাইয়ের বাড়িতে যায়। সেখানে হাবিবুল্লাহ, তার স্ত্রী ও ভাইজিকে ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। এছাড়া ওই রাতে এতগুলো মানুষ তাদের বাড়িতে গিয়ে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটালো তা নিশ্চয় কারও চোখে পড়ত। পুলিশ তাদের বক্তব্য প্রমাণ করার জন্য গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনকে দিয়ে জোরপূর্বক ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করিয়েছে। যাদের একজন স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আবেদনও করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার দত্ত বদলী হওয়ায় সাময়িকভাবে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই সৌরভ কুমারকে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব না দেওয়ায় থমকে আছে এর তদন্ত কাজ। দায়সারা গোছের তদন্ত তিনি চান না। সঠিক তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সকলের সামনে উন্মোচিত হোক এটি তাদের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করে বলেন, ট্রিপল মার্ডরের পেছনে সীমানা পিলার ও তক্ষক কেনাবেচার কারবার রয়েছে। এর আগে এ বিষয়টি নিয়েও খুলনা প্রেসক্লবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। কিন্তু পুলিশ তদন্তে এ বিষয়টি সামনে আনছে না। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আব্দুর রশিদ সীমানা পিলার ও তক্ষক কারবাওে সরাসরি জাড়িত ছিল। হাবিবুল্লাহ এ ব্যবসার সাথে জাড়িয়ে পড়েছিল যা তিনি ভাইয়ের শ্বাশুড়ি ও শালীর মাধ্যমে শুনেছেন।

হত্যাকাণ্ডের আগের দিন গ্রেপ্তার হওয়া আসামি বেল্লালের সাথে হাবিবুল্লার তক্ষক বেচাকেনা নিয়ে কথা হয়। যা আদালতে বেল্লাল স্বীকার করেছে। তাছাড়া ২৭ জুলাই পাইকগাছা থেকে সীমানা পিলার, তক্ষক ও প্রাইভেটকারসহ ৫ জন গ্রেপ্তার হয়। এদের মধ্যে সাকিল ওরফে জুয়েল ও বাবু ওরফে বাদশা বিভিন্ন সময়ে হাবিবুল্লার বাড়িতে এসেছে, যা এলাকার অনেকে দেখেছে। তার ধারণা উদ্ধার হওয়া ওই পিলারকে কেন্দ্র করে ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও তার কন্যাকে হত্যা করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হতে পারে।

মামলার তদন্তে গতি ফেরাতে তিনি সিআইডি অথবা পিবিআইয়ের কাছে প্রেরণের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন। আগামী ৩১ আগস্ট মামলার ধার্য দিনে আদালত সিদ্ধান্ত দিবেন। ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ১৪ জন আসামির মধ্যে ৫ জন জামিন পেয়েছেন। বাকীর রয়েছেন কারাগারে।

সাহস২৪.কম/টিআর

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত