মানবতাবিরোধী অপরাধে মৌলভীবাজারের তিন জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২২, ১৭:২০

সাহস ডেস্ক

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আব্দুল আজিজ ওরফে হাবুল, আজিজের ভাই মো. আব্দুল মতিন ও আব্দুল মান্নান ওরফে মনাই। মতিন পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে দুইজন আসামি মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরে দেশে ফিরে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করে শান্তি কমিটির পক্ষে কাজ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা আভিযোগ দালিলিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

আসামি আব্দুল মান্নান ওরফে মনাইয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন ও আব্দুল আজিজের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, আসামিরা ন্যায়বিচার পাননি। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। আশা করি আপিলে ন্যায়বিচার পাবো। মামলার তদন্ত থেকে জানা গেছে,  ১৯৭১ সালে আজিজ ও মতিন ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রশিক্ষণ নিতে তারা ভারতের বারপুঞ্জিতে যান। তবে প্রশিক্ষণ শেষ না করে দেশে ফিরে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। আব্দুল মান্নান মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন। 

২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর এ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু হয়। ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই বছর ১ মার্চ মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানা পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে। ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর তদন্তকাজ শেষ হয়। তিন আসামির বিরুদ্ধে একাত্তরে মৌলভীবাজারের বড়লেখা এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের মতো পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ২০১৭ সালের ৩০ মে ফরমান চার্জ দাখিল করার পরে ২০১৮ সালের ১৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার মধ্যে দিয়ে বিচার শুরু হয়। ওই বছরের ১২ আগস্ট মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৭ জন সাক্ষ্য দেন। করোনাভাইরাসের কারণে এ মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ২০২১ সালের ১ নভেম্বর থেকে মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয়। চলতি বছরের ১২ এপ্রিল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

সাহস২৪.কম/এএম/এসটি/এসকে.

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?