ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে নিরলস কাজ করছে সরকার

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২২, ১৪:৪৭

সাহস ডেস্ক

দেশের নাগরিকের ক্ষুধামুক্তি ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে বদ্ধপরিকর ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে লক্ষ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সরকার সচেষ্ট আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১৬ মে) ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)-এর বাস্তবায়ন পর্যালোচনার জন্য দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলন’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। এসময় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার প্রত্যাশার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এসডিজি একটি বৈশ্বিক উন্নয়ন ধারণা হলেও বাংলাদেশের উন্নয়নের পথ পরিক্রমার সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এসডিজি প্রণয়নের প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো। আমাদের দেশের সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে ২০১৩ সালে আমরা জাতিসংঘের কাছে মোট ১১টি অভীষ্টের প্রস্তাব করেছিলাম। এর মধ্যে ১০টি অভীষ্টই জাতিসংঘ হুবহু অনুসরণ করে, অবশিষ্ট অভীষ্টটিও অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে এসডিজি প্রণয়নকালের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন নীতি-কৌশল এসডিজির আদলে প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘জাতির পিতার সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় প্রণীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের জন্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে অঙ্গীকার করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে আমাদের সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আমরা জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সচেষ্ট আছি। এরইমধ্যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে আমাদের সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘এজেন্ডা-২০৩০’ তথা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের কৃষক, শ্রমিক খেটে খাওয়া মানুষ। এই খেটে খাওয়া মানুষ তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করাই তো আমার লক্ষ্য। কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষ তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে উন্নত জীবন দেব সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এসডিজিতে যে সমস্ত বিষয়গুলো রয়েছে আমাদের জন্য যা প্রযোজ্য আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি এবং বাস্তবায়ন করে যাব।’

সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের দৃশ্যপট পাল্টে যাবে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সমস্ত প্রকল্পগুলো যখন সম্পন্ন হবে। মানুষ এর শুভফল যখন ভোগ করবে, তখন এ দেশের অর্থনীতির চাকা আরও উন্নত হবে, সচল হবে, দারিদ্র বিমোচন হবে। আমরা দেশের মানুষের সার্বিক উন্নতি করতে পারব।’

সরকারের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে সমালোচনা করেন, আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পে অনেক ব্যয় হচ্ছে। তারা খরচের দিকটা দেখেন। ব্যয় হলেও এটা আমাদের কতটা সুফল বয়ে আনবে, মানুষ কতটা উপকৃত হবে, এটা দেখেন না। আমার অনুরোধ থাকবে- রাজধানীতে বসে সমালোচনা না করে গ্রামে যান। গ্রামাঞ্চলের বাস্তব চিত্র দেখেন; পরিবর্তনটা কোথায় হয়েছে, কতটুকু হয়েছে বুঝবেন। মানুষ যে আমাদের বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল ভোগ করছে, সেটা দেখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের কিছু মানুষ আছেন, তারা সমালোচনা করেন এটা করা হচ্ছে কেন? পরমাণু বিদ্যুৎ কেন করা হলো। এত টাকা খরচ হয়েছে। খরচের দিকটা অনেকে শুধু দেখেন, কিন্তু এই খরচের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ যে কত লাভবান হবে এবং আমাদের অর্থনীতিতে কতটা অবদান রাখবে, আমাদের উন্নয়ন গতিশীল হবে, মানুষের জীবন পরিবর্তন হবে সেটা বোধহয় তারা বিবেচনা করেন না। এটা খুব দুঃখজনক।’

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনাকারীদের কড়া জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, আমি টেলিভিশন উন্মুক্ত করে দিয়েছি। এখন সবাই কথা বলতে পারেন। টকশো করতে পারেন। আমি জানি, সারাদিন টেলিভিশন টকশোতে কথা বলেও বলবে, ‘আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয় না’। অথচ কারও তো মুখ চেপে ধরা হয়নি। কারও তো গলা টিপেও ধরা হয়নি!

সাহস২৪/এআর/এসটি/এসকে.

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?