জরাজীর্ণ শতবছরের নান্দিনা বাজার

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২২, ২১:৩৫

মশিউর রহমান, জামালপুর

রেলপথ, সড়কপথ কিংবা নদীপথে যেকোনো উপজেলায় যাওয়া যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে এক সময় সুবিধাজনক ছিল জামালপুরের নান্দিনা। একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কিংবা কলেজে লেখাপড়ার সুযোগ ছিল বিধায় আশেপাশের উপজেলা কিংবা জেলার ছাত্রছাত্রীদের কাংখিত জায়গা ছিল এটি। জামালপুর জেলা শহরের ১০ কিলোমিটার দূরে হলেও সদর উপজেলার মধ্যস্থিত এই জায়গা বানিজ্যিক ভাবেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর মহাসড়কে অবস্থিত নান্দিনা বাজার। ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত নান্দিনা মহারানী হেমন্তকুমারী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি জেলার অন্যতম উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। অতি পুরাতন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের আধুনিকায়ন কিংবা পুর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কেন্দ্র হয়নি। যদিও নান্দিনায় দুটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার বর্তমানে রমরমা ব্যবসা করছে।

ডাকঘরের অবস্থা অতি শীর্ণ আধাপাকা ঘরে চলছে,পোস্ট মাষ্টার জানায়, বারবার উপরমহলে জানানো হয়েছে কিন্তু কাজ হচ্ছে না। বাজারের অবস্থা বেহাল, সেড ঘরগুলো জীর্ণশীর্ণ হলেও আধুনিক হয়নি, যদিও অতিসম্প্রতি মাছ, মাংসের জন্য আধুনিক একটি সেডঘর নির্মাণ শুরু হতে যাচ্ছে। নাই ভালো মানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কাঁচাবাজারে বর্ষার সময় ঢুকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। হাসপাতাল এবং স্টেশন রোডের অবস্থা ভয়াবহ, খানাখন্দভরা, বৃষ্টির পানি আটকে মেইন রোডে উঠার সময় যেকোনো সময় উল্টে যেতে পারে। মেইনরোডের নিচে দিয়ে নদীতে সংযোগের ড্রেন গুলো বন্ধ হয়ে গেছে। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা গঠনের সুযোগ সম্বলিত নান্দিনায় একটা সরকারি হাইস্কুলসহ দুইটি হাইস্কুল, একটা গার্লস হাইস্কুল এন্ড কলেজ, দুটি প্রাইমারি স্কুল এবং একটা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ আছে। সরকারি, বেসরকারি মিলে ছয়টি ব্যাংক এবং অসংখ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে এই বাজারে। শতবছরের পুরাতন নান্দিনা বাজারের পাশে রেলওয়ে স্টেশন থাকলেও একটিমাত্র আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ  হয় নান্দিনা স্টেশনে।

একসময় খেলাধুলার জন্যও নান্দিনা চারপাশে পরিচিত ছিলো, এখন খেলাধুলা আগের মতো নেই, মাঠের চেহারা আর মাঠের মতো নেই। পূর্ব বাজার থেকে বের হয়ে যাওয়া সংযোগ সড়কের অবস্থাও বেহাল। কোন রাস্তাঘাটের মেরামত ঠিকঠাক হয়না বলে অভিযোগ জানান এলাকাবাসী। নান্দিনা বাজারের এসব বেহাল অবস্থা নিয়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, "নান্দিনা বাজারের উন্নয়ন করা নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই।" নান্দিনা বাজারের এসব বেহাল দশা নিয়ে নান্দিনা বাজারের অধিবাসী জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বেলাল বলেন, "স্বাস্থ্য কেন্দ্র উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অধীনে, রাস্তাঘাট এলজিইডির অধীনে, আমরা যেখানে যা বলার তা বলতে পারি, কাজ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। আমি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা পরিষদ থেকে বাজারের একটা ড্রেনের কাজ করাতে পেরেছি, এবং ভবানীগন্জ সড়কে মেরামত করাতে পেরেছি। এসব বিষয়ে কথা বলতে নান্দিনা যে ইউনিয়নের বাজার সেই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল কে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি। নান্দিনা বাজারের অধিবাসী এবং ব্যবসায়ীরা বাজারের  আধুনিকায়ন দেখতে চায়।"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?