গ্রেপ্তার পিকে হালদার: ‘ভারত জানালেই নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা’

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২২, ২১:০২

সাহস ডেস্ক

অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে অভিযুক্ত আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পিকে হালদার) গ্রেপ্তার করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ভারত সরকার। এ বিষয়ে ভারতের মন্তব্য পেলেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সেমিনারে রবিবার (১৫ মে) এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। "পিকে হালদার বাংলাদেশের ওয়ান্টেড। বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছ," বলেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে শনিবার (১৪ মে) পি কে হালদারের প্রাসাদসম বাড়িসহ অনেক সম্পদের সন্ধান পায় দেশটির অর্থ-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)। সংস্থাটি পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের সম্পদের সন্ধানে গত দুই দিনে অভিযান চালিয়েছে অন্তত ১০টি স্থানে। প্রধানত অর্থ কেলেঙ্কারি, বেআইনিভাবে ভারতেসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার ও আইনবহির্ভূত সম্পত্তির বিষয়ে তদন্ত করছে ইডি। অবশ্য এ পর্যন্ত কতগুলো বাড়ি, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হদিস পাওয়া গেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা যায়নি।

দেশে আর্থিক খাতের শীর্ষ দখলদার ও ঋণ খেলাপিদের অন্যতম এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পি কে হালদার। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে যান, পরে কানাডায় পাড়ি জমান তিনি। ভারতের বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ ও বসবাস, বেনামে সম্পত্তি কেনা ও আইনবহির্ভূতভাবে অর্থ বাংলাদেশ থেকে ভারতে আনা—এসব অভিযোগে পি কে হালদার ও তাঁর পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ২০০২ সালের মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট বা অর্থ পাচার আইনের ওপর। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে পি কে হালদারের ব্যবসা দেখাশোনা করা তাঁর ভাই প্রাণেশ কুমার হালদার আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

'নিজেকে শিবশংকর হালদার পরিচয় দিয়ে ভারতে অবস্থান করছিলেন পি কে হালদার' উল্লেখ করে ইডি বলছে, একাধিক সরকারি পরিচয়পত্র, যেমন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রেশন কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, আয়কর দপ্তরের পরিচয়পত্র পিএএন বা প্যান, নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র, আধার কার্ড ইত্যাদি জোগাড় করেছিলেন। পি কে হালদারের সহযোগীরাও একই কাজ করেছেন বলে জানিয়েছে ইডি।

ইডি শনিবার(১৪ মে) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পি কে হালদার ও তাঁর সহযোগীরা এই পরিচয়পত্র দিয়ে ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে খুলেছিলেন বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিনেছিলেন অনেক সম্পদ। বাড়ি আছে কলকাতার বেশ কিছু অভিজাত এলাকায়। বাংলাদেশের তিন নাগরিক পি কে হালদার, প্রীতিশ কুমার হালদার ও প্রাণেশ কুমার হালদার এবং তাঁদের কয়েক সহযোগীর বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা ইডি। পিকে হালদার বাংলাদেশে বহু কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলেও জানিয়েছে তারা। এই টাকার 'বড় অংশ' ভারতসহ অন্যান্য দেশে পাঠানো হয়েছে বলে ধারনা করছে তারা।

সাহস২৪.কম/এসটি/এসকে.

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?