অর্ধযুগেও তনু হত্যা মামলায় কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২২, ২০:০৭

সাহস ডেস্ক

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের অর্ধযুগ পার হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এ মামলর অগ্রগনি নেই। এই অর্ধযুগেও তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে সার্বিক যে অবস্থা, তাতে বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন তনুর বাবা-মা।

আজ তনুর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে মসজিদে দোয়া ও এতিম শিশুদের খাওয়ানোর আয়োজন করছে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন।

বিচার না পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, আমি আর বিচার চাই না। বিচার চেয়ে কী লাভ? গরিবের ওপর জুলুমের বিচার হয় না।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম জানান, কেউ আসে না, কেউ খবর নেয় না। আমরা গরিব মানুষ। এই দুনিয়ায় বিচারের আশা করি না। আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রাখলাম। আল্লাহর বিচার বড় বিচার।

তনুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফিরেনি তনু। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গলে তনুর লাশ পায়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশ ও ডিবির পর ২০১৬ সালের পয়লা এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি কুমিল্লা। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর মধ্যে ২০২০ সালের নভেম্বরে মামলাটির দায়িত্ব পিবিআইকে দেওয়া হয়। পিবিআই ঢাকার একটি টিম দায়িত্ব পাওয়ার শুরুর দিকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ঘুরে যান। এরপর অন্ধকারে ঢাকা পড়ে মামলার কার্যক্রম।

পিবিআই'র ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, সিআইডি অনেক কাজ করেছিল। সে হিসেবে আমরা অতটা এগুতে পারিনি। ডিএনও টেস্ট করে যেহেতু শুক্রাণু পাওয়া গেছে, আমরা সাসপেক্টেডদের (সন্দেহভাজন) সংখ্যা বাড়াবো। সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?