দক্ষ জনবল না থাকায় এনআইডিতে কিছু ভুল হচ্ছে: আনিসুল হক

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:১৪

সাহস ডেস্ক

চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয়সংখ্যক দক্ষ কারিগরি জনবল না থাকায় এবং সময়ের স্বল্পতার কারণে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ভুলভ্রান্তি রয়ে যায়, যার অধিকাংশই বানানজনিত ভুল বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আনিসুল হক।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের ষোড়শ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারীর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয় তথ্যভান্ডারে পরিলক্ষিত ভুলসমূহের বিষয়ে আইন ও বিধি অনুসারে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সংশোধনের সুযোগ প্রদান করা হলেও বিভিন্ন কারণে অনেকেই যথাসময়ে সেসব সুযোগ গ্রহণ করেননি। বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুতের ক্ষেত্রে দেশের নাগরিকগণ সচেতন হওয়ায় ভুলের পরিমাণ তুলনামূলক কম।

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুতের সব ক্ষেত্রে ভোটারের নিবন্ধন ফরমটি (ফরম-২) কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। উক্ত নিবন্ধন ফরমগুলো বিবেচনা করেও দেখা যায় যে এনআইডি সঠিকভাবেই মুদ্রিত হয়েছে। সংশোধনের জন্য প্রাপ্ত আবেদনসমূহ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে অধিকাংশ আবেদনই সংশোধনের চাহিদা অনুযায়ী যুক্তিসংগত নয়। তাই সেসব আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণপত্র দলিলাদি দাখিলসহ ক্ষেত্রবিশেষে তদন্ত/পুনঃতদন্তের প্রয়োজন পড়ে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি সময় লাগে।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন কর্মকর্তাদের এই সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি অত্যাধুনিক অনলাইন কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি অফলাইন ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, অনলাইন ব্যবস্থা চালুর ফলে আবেদনকারী ঘরে বসেই তাঁর এনআইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করতে সক্ষম হচ্ছেন এবং আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটিও ট্র্যাকিং করতে পারছেন। এনআইডি সংশোধনের আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পর সংশোধিত কার্ডটি অনলাইনে ডাউনলোড করার মাধ্যমে প্রিন্ট করতে সক্ষম হচ্ছেন। পাশাপাশি আবেদনকারী সশরীরে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে গেলেও আবেদন গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবাকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সীমিত না রেখে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। এনআইডি উইংয়ের কর্মকর্তাগণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের নির্বাচন অফিসমূহের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদেরও আবেদনের ধরন অনুসারে আবেদন নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এনআইডি ডেটাবেইস আপগ্রেডেশন করায় নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে। এনআইডি সেবা সুচারুরূপে সম্পাদনের জন্য মাঠপর্যায়ে থানা/উপজেলা নির্বাচন অফিসে সহকারী নির্বাচন অফিসারসহ রাজস্ব খাতে একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে উল্লিখিত সেবা সহজ করার জন্য মোবাইল অ্যাপস (NID Wallet) চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপসের মাধ্যমে ভোটার নিজেই Face Scan-এর মাধ্যমে সংশোধন/হারানোর আবেদন অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?