নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভাইস চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ১০

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:২৮

সাহস ডেস্ক

প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ে অডিটর পদসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং উত্তর সরবরাহের অভিযোগে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের একটি টিম রাজধানীর কাকরাইল ও কাফরুল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। আজ শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নোমান সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, মাহবুবা নাসরীন রুপা, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, চক্রের অন্যতম হোতা হচ্ছেন ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরিন ও সিজিএ অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। নিয়োগের কথা বলে চাকরি প্রার্থী সংগ্রহ করতেন তারা। মাহমুদুল হাসান ২০১৯ সালে প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অপরাধে বরখাস্ত হয়েছেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জে।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ইয়ার ডিভাইস ৬টি, মাস্টার কার্ড মোবাইল সিম হোল্ডার ৬টি, ব্যাংকের চেক ৫টি, নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৭টি, স্মার্ট ফোন ১০টি, বাটন মোবাইল ৬টি, প্রবেশপত্র ১৮টি ও চলমান পরীক্ষার ফাঁস হওয়া ৩ সেট প্রশ্নপত্র জব্দ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, পরীক্ষার্থী সেজে কেন্দ্রে ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করেন চক্রের সদস্যরা। পরীক্ষার হল থেকে ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্ন বাইরে পাঠানো হয়। বাইরে থাকা চক্রের সদস্যরা প্রশ্ন দ্রুত সমাধান করে আবার পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠান। এভাবেই প্রশ্নফাঁস করে এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস করানো হয় চাকরি প্রার্থীদের। পরে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ১৬ লাখ টাকা চুক্তি করা হয়। দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা অগ্রিম হিসেবে দেন চক্রের সদস্যরা।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ কাকরাইলে অবস্থিত নিউ শাহিন হোটেল থেকে অসাধু উপায় অবলম্বনকারী ২ জন পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে কাফরুল থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ডিভাইস, প্রশ্নপত্র এবং উত্তর পত্রের খসড়াসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবি পুলিশের অপর দল বিজিপ্রেস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী এবং অন্যতম পরিকল্পনাকারী মাহবুবা নাসরীন রুপাকে টাকা, ডিজিটাল ডিভাইসসহ গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যমতে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি জানায়, ৫৫০ পদে নিয়োগের পরীক্ষা ছিল গতকাল। অসদুপায় অবলম্বন করে কিছু চাকরি প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন, এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২ পরীক্ষার্থীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

ডিবি জানায়, গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান, নাহিদ হাসান ও আল আমিন সিদ্দিকী প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৩, ২০১৬ ও ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে এসে আবার একই অপরাধে জড়িয়েছেন তাঁরা।

ডিবি সূত্র জানায়, এই চক্রে আরও সদস্য রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?