মুক্ত পদ্ধতিতে দেশি কবুতর পালন

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৩:৩২

সাহস ডেস্ক
আলোকচিত্রঃ আবুল বাশার শিবলী, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ, ঢাকা।

পোল্ট্রির মধ্যে কবুতরের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন রকম। কবুতর প্রাচীনকাল থেকে পত্রবাহক ও শখ হিসেবে পালন করলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে পালন করা হয়। অন্য পোল্ট্রির চেয়ে কবুতর পালনে পুঁজি কম লাগে, ঝুঁকি কম, পালন সহজ ও লাভ বেশি। পৃথিবীতে ১২০ জাতের কবুতর পাওয়া যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশে ২০ প্রকার রয়েছে। দেশী কবুতর পালন পদ্ধতি খুব সহজ। এদের খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না এবং এদের বাচ্চা উৎপাদন হারও বেশি। এদের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও খরচ খুবই সামান্য। দেশি কবুতর প্রচন্ড রোগ প্রতিরোধী। এক জোড়া কবুতর থেকে বছরে ১২ জোড়া বাচ্চা পাওয়া যায়। যার দাম ৩০০০ টাকা। কবুতরের বাচ্চা (২৮-৩০দিন) ও বড় কবুতরের চাহিদা ও দাম বেশি।  

মুক্ত পদ্ধতিতে কবুতর পালনের ঘর তৈরি :
এ অবস্থায় কবুতর পান করলে ঘর তৈরির ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে ঘরটা যেন ছায়াযুক্ত ও উচুঁ যায়গায় হয়। কেননা এ অবস্থায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কবুতরের ঘর বাহিরে রাখা হয়। এবং ঘর বা খোঁপ সহজে পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করার সুযোগ-সুবিধা থাকে। ঘরে যাতে পর্যান্ত সূর্যালোক প্রবেশ ও বায়ু চলাচল করার সুযোগ থাকে। একজোড়া কবুতরের জন্য খোঁপের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা হবে যথাক্রমে ৪৫, ৩০ ও ৩০ সে.মি. (১৮, ১২, ও ১২ ইঞ্চি) রাখতে হবে। প্রতি জোড়া দেশি কবুতর পালন এর জন্য ২ টি ঘর বরাদ্দ রাখতে হবে। এর অন্যতম কারণ হল, অনেক কবুতর আছে যারা বাচ্চা থাকা অবস্থায় আবার ডিম দেয় অথবা বাচ্চা বড় হলে পুরুষ বা নর কবুররের এক ঘরে জায়গা হয় না। ঘরের ছাদ সিমেন্টের টিন বা টালি দেওয়া যেতে পারে, এতে ঘরের ভেতর সূর্যের তাপ খুব প্রবেশ করতে পারবে না।

কবুতর নির্বাচন:
সরকারি-বেসরকারি খামার, হাট-বাজার ও দোকান থেকে কবুতর  কেনা যায়। সুস্থ, সবল, বয়স (৪-৫ মাস), জাত ও রঙ দেখে কবুতর কেনা উচিত। গ্রামের হাটে দেশি জাতের রানিং কবুতরের জোড়া ৫০০-৬০০ টাকা। কবুতর কেনার ব্যাপারে খুব সাবধাণ থাকতে হবে। অবশ্যই দেখে ও বুঝে রোগমুক্ত কবুতর কিনতে হবে। গোলা কবুতর নিজেরা নিজেদের খাবার সংগ্রহ করে খেতে ভালবাসে, তাই তারা বাড়ির আসে পাশে ঘুরে বেড়ায় আর এজন্য কোন অবস্থাতেই নিজ এলাকা থেকে কবুতর কেনা না। বাজার থেকে কবুতর কিনে আনার পর সেগুলোকে ১৪ দিন কেয়ারেন্টাইনে রাখা। যদি ঘরে আগে থেকে কবুতর না থাকে তাহলে সরাসরি ঘরে রাখা যাবে। কবুতর ঘরে নেয়ার আগে পুরো ঘর জীবাণুনাশক ছিটিয়ে  জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।

পালন পদ্ধতি: 
বাজার থেকে কবুতর আনার পর প্রথম কাজ কবুতরকে জীবাণুমুক্ত করা। এর জন্য জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি ব্যবহার করা যায়। কবুতরের চোখে বা কানে যেন জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি না লাগে খেয়াল রাখতে হবে। দেশি কবুতরকে বাড়ি চেনানো কারো কারো কাছে জটিল একটা বিষয় মনে হতে পারে আসলে এটা তেমন জটিল কাজ নয়। পাখিদের মধ্যে কবুতর খুব সহজে নিজের ঘর চিনে নিতে পারে। যে ঘরে কবুতর পালন করা হবে সেই ঘরে কবুতর জোড়া ১০-১২ দিনি  রাখতে হবে। এমনভাবে রাখতে হবে যাতে কবুতরগুলো খোপের ভেতর থেকেও সামনের সবকিছু দেখতে পায়। এ ক্ষেত্রে খোপের সামনে অস্থায়ী একটি নেট লাগিয়ে দেওয়া যেতে পারে। নেটের ভেতরে বা খোপের ভেতরে কবুতরের খাবার ও পানি সরবরাহ করতে হবে নিয়মিত। কেনার পর থেকে ১০-১২ দিন এভাবে রাখলে কবুতর ঘর চিনে যাবে। এছাড়াও কবুতর কে ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চেনানো যায়। এতে করে কবুতরের পাখা টেপ বা সুতা দিয়ে বেধে দিতে হয়। তবে পাখা বেধে দিলে এদের দেখেশুনে রাখা প্রয়োজন। কারণ এরা তখন উড়তে পারেনা বলে বিড়াল, কুকুর বা মুরগি দ্বারা আক্রমণের শিকার হতে পারে।

কবুতরের খাবার: 
কবুতরের জন্যেই সুষম খাবারের প্রয়োজন। খাবারে শর্করা, চর্বি, আমিষ, খনিজ ও বিভিন্ন ভিটামিন উপাদান থাকা প্রয়োজন। এরূপ মিশ্রিত সুষম খাদ্যে ১৫-১৬ % ক্রুড প্রোটিন থাকবে। প্রতি কেজি খাদ্যে বিপাকীয় শক্তি ২৫০০-২৬০০ ক্যালোরি থাকা দরকার। কবুতর সাধারণত ধান, গম, মটর, খেসারি, ভুট্টা ভাঙা, সরিষা, কলাই, চাল, কাউন, জোয়ার ইত্যাদি খায়। প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক কবুতর দৈনিক গড়ে ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম দানাদার খাদ্য খেয়ে থাকে। ছোট কবুতরের জন্য ২০-৩০ গ্রাম ও মাঝারি কবুতরের জন্য ৩০-৩৫ গ্রাম খাদ্য প্রয়োজন। স্বাস্থ্য রক্ষা, দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধির জন্য খাবারে ১৫% থেকে ১৬% আমিষ থাকা প্রয়োজন। কবুতর বাচ্চার দ্রত বৃদ্ধি, হাড়শক্ত ও পুষ্টি এবং বয়স্ক কবুতরের সুস্বাস্থ্য এবং ডিমের খোসা শক্ত হওয়ার জন্য ঝিনুকের খোসা চ‚র্ণ, চুনা পাথর, ইটের গুঁড়ো,  হাড়ের গুঁড়ো, লবণ এসব মিশিয়ে গ্রিট মিকচার তৈরি করে খাওয়ানো প্রয়োজন। এ ছাড়াও প্রতিদিন কিছু কাঁচা শাকসবজি কবুতরকে খেতে দেয়া ভালো। প্রতি দুই সপ্তাহে ১ দিন বা ২ দিন যে কোন ধরনের ভিটামিন মিক্সচার খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়ালে কবুতরের রোগবালাই কম হয়। কবুতরকে প্রচুর পানি পান করাতে হবে। 

বাচ্চার বয়স ১০ দিন পর্যন্ত কোনো বাইরের খাদ্য খায় না। এ সময় মা-বাবার খাদ্যথলি থেকে দুধজাতীয় খাদ্য পরস্পরের মুখ লাগিয়ে গ্রহণ করে। বাচ্চার বয়স ২৮ দিন পর্যন্ত ঠোঁট দিয়ে খাদ্য দানা খেতে পারে না। মা-বাবা দানাদার খাদ্য ছোট টুকরা করে বাচ্চার মুখে তুলে খাওয়ে দেয়। ২৮ দিন পর বাচ্চার পাখা গজায়।
রোগ ব্যবস্থাপনা

কবুতরের খাদ্য ও পানির মাধ্যমে জীবাণু দেহের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন রকম রোগ হয়। জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা। যেকোন প্রাণী থেকে কবুতর দূরে রাখা। প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার করা। টাটকা সুষম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি দেয়া। অসুস্থ কবুতর পৃথক রাখা। সুস্থ কবুতরকে টিকা দেয়া। প্রয়োজনে প্রাণী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে উপযোগী ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। 

সাহস ২৪.কম/ এবি.
তথ্যসূত্র-কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)
www.ais.gov.bd

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?