সাতক্ষীরা হানাদার মুক্ত দিবস আজ

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৩৪

সাহস ডেস্ক

আজ ৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা থ্রি নট থ্রি আর এসএলআরের ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে সাতক্ষীরা শহরে প্রবেশ করে। ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার লাল সবুজের পতাকা। শত্রুর বুলেটের আঘাত সহ্য করেও সাতক্ষীরার সস্তানরা ১৬টি সম্মুখ যুদ্ধের মোকাবেলা করেছিল।

যুদ্ধে অংশ নেওয়া সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরার বধ্যভুমি গণকবরগুলি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অযত্নে অবহেলা আর সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে বধ্যভুমি ও গণকবরের স্মৃতিচিহ্ন। তাই বধ্যভুমি ও গণকবরের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের।

১৯৭১ সালের ২মার্চ সাতক্ষীরা শহরে পাকিস্তান বিরোধী মিছিলে রাজাকাররা গুলি করে হত্যা করে শহীদ আব্দুর রাজ্জাককে। আর এখান থেকে শুরু হয় সাতক্ষীরার দামাল ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া। মুক্তিযুদ্ধের খরচাদি বহনের জন্য সাতক্ষীরা ট্রেজারী হতে অস্ত্র লুট আর ন্যাশনাল ব্যাংক হতে অলংকার টাকা পয়সা লুটের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুক্তির সংগ্রাম। ৮ম ও ৯ম সেক্টরের অধীনে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ট্রেনিং শেষে ২৭ মে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে আবদুল গফুর এমএনএ ও ইপিআর সুবেদার আইউবের নেতৃত্বে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। 

এ সময় পাক সেনাদের দুই শতাধিক সৈন্য নিহত হয়। ১৭ ঘন্টাব্যাপী এ যুদ্ধে শহীদ হয় মাত্র তিন জন মুক্তিযোদ্ধা। আহত হয় আরো দুই জন। এরপর থেমে থেমে চলতে থাকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্ত হামলা। এসব যুদ্ধের মধ্যে ভোমরার যুদ্ধ, টাউন শ্রীপুর যুদ্ধ, বৈকারী যুদ্ধ, খানজিয়া যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। 

এ সব যুদ্ধে শহীদ হয় ৩৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। লাইটের আলোয় অসুবিধা হওয়ায় ৩০ নভেম্বর টাইম বোমা দিয়ে শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত পাওয়ার হাউস উড়িয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভীত সন্ত্রস্ত করে ফেলে পাক সেনাদের। রাতের আঁধারে বেড়ে যায় গুপ্ত হামলা। পিছু হটতে শুরু করে পাক সেনারা। ৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় টিকতে না পেরে বাঁকাল, কদমতলা ও বেনেরপোতা ব্রীজ উড়িয়ে দিয়ে পাক বাহিনী সাতক্ষীরা থেকে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর জয়ের উন্মাদনায় জ্বলে ওঠে সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা।

যারা শহীদ হন : মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শত্রুদের গুলিতে সাতক্ষীরার যে সকল বীর সন্তান শহীদ হন তারা হলেন শহীদ আব্দুর রাজ্জাক, কাজল, খোকন, নাজমুল, হাফিজউদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আবু বকর, ইমদাদুল হক, জাকারিয়া, শাহাদাত হোসেন, আব্দুর রহমান, আমিনউদ্দিন গাজী, আবুল কালাম আজাদ, সুশীল কুমার, লোকমান হোসেন, আব্দুল ওহাব, দাউদ আলী, সামছুদ্দোহা খান, মুনসুর আলী, রুহুল আমীন, জবেদ আলী, শেখ হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

সাতক্ষীরার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসনে মশু বলেন, সাতক্ষীরা হানাদার মুক্ত দিবস ৭ ডিসেম্বর। এই দিনে ১৯৭১ সালে সাতক্ষীরাকে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে অকুতোভয় মুক্তিযুদ্ধরা এই সাতক্ষীরাকে মুক্ত করে। সেখান থেকে আজ পর্যান্ত প্রতি বছরই এই দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই দিবসটি পালন করে আসছি। তিনি বলেন, অযত্নে অবহেলা আর সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে বধ্যভুমি ও গণকবরের স্মৃতিচিহ্ন। তিনি এগুলো যথাযথভাবে সংক্ষণের দাবি জানান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?