সেই বিচারককে আদালতে না বসার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২১, ১১:৪২

সাহস ডেস্ক

ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর অভিযোগ না নিতে পুলিশকে পরামর্শ দেওয়া ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারকে আদালতে না বসার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। একই সঙ্গে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আজ সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ওই বিচারককে আদালতে না বসার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই বিচারকের ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করতে চিঠি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

আজ রবিবার (১৪ নভেম্বর) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ও মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।

গত ১১ নভেম্বর চার বছর আগে রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার। রায়ে পাঁচ আসামির সবাইকে খালাস দেওয়া হয়। একই সাথে নির্দেশনা দেন, ধর্ষণের অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে পুলিশ যেন মামলা না নেয়।

বিচারকের এমন নির্দেশনা বা পর্যবেক্ষণ নিয়ে গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, রেইনট্রি মামলার বিচারকের পাওয়ার সিজ করতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেব।

শনিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, একটি কথা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমি ওনার (বিচারক) রায়ের বিষয়বস্তু নিয়ে এখন কথা বলতে চাই না। কিন্তু ওনার (বিচারক) অবজারভেশনে ৭২ ঘণ্টা পর পুলিশ যেন কোনো ধর্ষণ মামলার এজাহার না নেয়, এই যে বক্তব্য উনি দিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। এ কারণে আমি আগামীকাল (রবিবার) প্রধান বিচারপতির কাছে বিচারক হিসেবে তার দায়িত্ব পালন নিয়ে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে জন্য একটা চিঠি লিখছি। কাল (রবিবার) চিঠি দেওয়া হবে।

সাহস২৪.কম/এসকে.

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?