x

এইমাত্র

  •  ১৭-২৩ মে ‘লকডাউন’, প্রজ্ঞাপন জারি

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে কুবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২১, ১৭:২২

ফাতেমা রহিম রিন্স

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে প্যান্ডেল না থাকা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের (একাংশ) আলোচনা সভায় অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণ ও খাবারের সুষ্ঠু বিতরণ না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকাল ১১ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়ার সময় সেখানে কোন প্যান্ডেল না থাকায় তপ্ত রোদের কারণে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে শহীদ মিনারে কমপক্ষে একটা প্যান্ডেল করা উচিত ছিল। যাতে রোদের কারনে শহীদ মিনারে অবস্থান অসহনীয় হয়ে না পড়ে।

প্যান্ডেল না থাকায় রোদের কারনে শহীদ মিনারে অবস্থান করতে সমস্যা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ড. মো. শামীমুল ইসলাম বলেন, শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার পর আমরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে আলোচনা সভা করবো। তাই আমরা শহীদ মিনারে সেরকম আয়োজন রাখতে পারিনি।

এদিকে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে দুপুর ১২টায় টিচার্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের (মিজান-নাসির) আলোচনা সভা চলাকালীন একই রুমে প্রশাসন খাবার বিতরণ করে আলোচনা সভার সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করে অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের (মিজান-নাসির) সভাপতি ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

তাছাড়া অনুষ্ঠান শেষে খাবার বিতরণে শৃঙ্খলার ঘাটতি থাকায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরাও খাবার পায়নি বলে জানা গিয়েছে। এমনকি একটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অভিযোগ করে বলেন, আজকে যে খাবারের আয়োজন রাখা রয়েছে সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন তথ্য জানানো হয়নি আমাকে।

তিনি আরো বলেন, আজকের আয়োজন কোন ভাবেই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আয়োজন বলে মনে হয়নি। সম্পূর্ন দায়সারাভাবে এ আয়োজন করা হয়েছে।

এ সকল বিষয়ে ড. মো. শামীমুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষক লাউঞ্জ ব্যবহার করবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু আমি শিক্ষক সমিতির সভাপতি তারা আমাকে একটিবারও বিষয়টি জানায়নি। এটা তারা ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। আর খাবার কম পড়ার কথা নয়, আমরা ২২০ টি প্যাকেটের আয়োজন করেছি। একজায়গা থেকে বিতরণ সম্ভব ছিল না বলে চার ক্যাটাগরির চারটি বুথ করে বিতরণ করেছি। সেখানে খাবার কম পড়ার কথা নয়।

তাছাড়াও, ২১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা দিবসে একটি মাত্র ফুল দেয়ার অনুরোধ   থাকলেও স্বয়ং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরই তা মানেন নি।  বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে ফুল দিতে দেখা যায় তাকে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান ও শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ বিভিন্ন শিক্ষকও এ নিয়ম অমান্য করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিজ্ঞপ্তিতে একটি মাত্র ফুল দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল সেটা আমি জানি না, জানলে আমি এভাবে অংশ নিতাম না।

তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে বারবার ফোন দেয়া হলেও তার সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত