x

এইমাত্র

  •  ১৭-২৩ মে ‘লকডাউন’, প্রজ্ঞাপন জারি

“জিয়াউর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা খেতাব বাতিল মানে মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করা”

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬:১৯

সাহস ডেস্ক

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের “বীর উত্তম” খেতাব বাতিল করার যে সিদ্ধান্ত জামুকা নিয়েছে, আমি মনে করি এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে।

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সিদ্ধান্তের বিষয়ে জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারকে টেলিফোনে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের অধিনায়ক। তার প্রতি এমন সিদ্ধান্তে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিষয়টিকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে গেছে যে, এখন তারা ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত সত্যগুলোকেও অস্বীকার করছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা মনে করি এটা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে মদদ দিয়েছেন, তার প্রমাণ কোথাও নেই। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়ে গেছে। সেই বিচারে তো তার (জিয়াউর রহমান) নাম কোথাও আসেনি। কোনোভাবেই আসেনি। এখন পর্যন্ত যারা বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করেছেন, যারা দায়িত্বশীল মানুষ, তাদের কারও কথা বা কোনো লেখায় বিষয়টির উল্লেখ নেই।

তিনি আরও বলেন, শফিউল্লাহ সাহেব ছিলেন সেনাপ্রধান। তিনি তো নীরব-নিশ্চুপ ছিলেন। তার সম্পর্কে তো কিছু বলা হয়নি। তার সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আরও অনেকে ছিলেন, যাদের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তখন কিছু করেননি। পরবর্তীতে তাদের অনেককে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় দেখা গেছে, এমপি হতে দেখা গেছে। খন্দকার মুশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে দেখা গেছে। তাদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নীরব। কিন্তু সরব জিয়াউর রহমানের ক্ষেত্রে। কারণ কী? এর একমাত্র কারণ হচ্ছে- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যেহেতু রাজনৈতিকভাবে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমানো যাচ্ছে না, সে কারণেই জিয়াউর রহমানের চরিত্র হনন করে বিএনপির ক্ষতি করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। যা আওয়ামী লীগ কোনোদিনই করতে পারবে না। আরেকটি বিষয় যেটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, এখন যেভাবে চতুর্দিকে সরকারের অপকর্মের কথা উঠে আসছে, সেখান থেকে জনগণের দৃষ্টি সরানোর বিষয়টিও এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য তারা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে রাজনীতি করছে।

তিনি আরও বলেন, খুনি হিসেবে চিহ্নিতদের বিচার হয়েছে। কারও ফাঁসি হয়েছে। কেউ বিদেশে পালিয়ে আছে, ফাঁসির হুকুম হয়েছে। তাদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানকে মেলানো বা এক কাতারে নিয়ে আসা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক হীনমন্যতা। যে অপরাধ করেছে, অবশ্যই তার বিচার হবে। যে খুন করেছে, অবশ্যই তার বিচার হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ সামনে এনে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল করা মানে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা। যা আওয়ামী লীগ এখন করছে। জিয়াউর রহমানের স্বীকৃতি তিনি নিজে নেননি। বঙ্গবন্ধুর সরকারই তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত