স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা: একজনকে আসামী করে মামলা

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৩:১৬

সাহস ডেস্ক
রাজধানীর কলাবাগানে ইংরেজি মাধ্যমপড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণের পর হত্যা।

রাজধানীর কলাবাগানে বৃহস্পতিবার ইংরেজি মাধ্যমপড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণের পর হত্যা করার অভিযোগে একজনকে আসামী করে কলাবাগান থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক বাকি তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) সকালে এই মামলা দায়ের করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নিউমার্কেট অঞ্চল পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল হাসান।

তিনি বলেন, গতকাল রাতে তানভীর ইফতেফার দিহানকে (১৮) একমাত্র আসামি করে মেয়েটির বাবা ধর্ষণ ও হত্যার মামলা করেছেন। মেয়েটির লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা মা কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এর এক ঘণ্টা পরে তার বাবাও ব্যবসায়িক কাজে বাসা থেকে বের হয়ে যান। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী তার মাকে ফোন করে কোচিং থেকে পড়ালেখার পেপার্স আনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। এই মামলার একমাত্র আসামি ‘ও’ লেভেল পড়ুয়া শিক্ষার্থী দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে ফোন করে ওই শিক্ষার্থীর মাকে জানান, মেয়েটি তার বাসায় গিয়েছিলেন। হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে।

অফিস থেকে বের হয়ে আনুমানিক দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা হাসপাতালে পৌঁছেন। হাসপাতালের কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, গতকাল আসামি তার কলাবাগান ডলফিন গলির বাসায় ডেকে নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে অচেতন হয়ে পড়লে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আসামি নিজেই তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে কলাবাগান থানা পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়— উল্লেখ করা হয় এজাহারে।

নিহতের চাচাতো ভাই শরিফুল ইসলাম জানান, সে আজ দুপুর ১টার দিকে ধানমন্ডির বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে কলাবাগানের ডলফিন গলিতে যায়। সেখান থেকে তার এক বান্ধবী তাকে একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, চারজন যুবক আমার মেয়েকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ বলেছে, স্কুলছাত্রীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। আটক চারজনের মধ্যে এ লেভেল পরীক্ষা দেওয়া এক তরুণ ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। নিহত ছাত্রীটি রাজধানীর নামকরা একটি ইংলিশ মাধ্যম স্কুলে পড়ত।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান গতকাল বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার)  দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমরা খবর পাই আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেলে এক কিশোরীর মরদেহ আছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা আমাদের জানালে আমরা দ্রুত রেসপন্স করি। আমরা সেখানে গিয়ে দেখতে পাই এক কিশোরীর মরদেহ আছে। তার সঙ্গে একজন ছিল।

পরিবারের সঙ্গে কথা বলে কী জানতে পেরেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা এখন তদন্তের পর্যায়ে আছে। ছেলের পরিবারের কেউ বাসায় ছিল না। সে একাই ছিল। আমরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছি, বিশেষ করে আর কেউ জড়িত আছে কিনা।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক জানিয়েছে, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল… এ ঘটনায় সে একা জড়িত বলে জানিয়েছে। ঘটনা ঘটেছে কলাবাগানের ডলফিন গলিতে যুবকের বাসায়। আমরা সেখান থেকে আলামত জব্দ করেছি এবং সেগুলো প্রোফাইলিং করছি। আমরা সকল দিক খতিয়ে দেখছি। যাতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে প্রকৃত দোষীকে শনাক্ত করে তাকে কঠোর আইনের আওতায় আনতে পারি। ঘটনাস্থল থেকে আমরা রক্তাক্ত দাগযুক্ত আলামত জব্দ করেছি ... পুলিশ ভুক্তভোগীর শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত