x

এইমাত্র

  •  চলে গেলেন প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ
  •  ভার্চুয়াল কোর্টের ছয় কর্মদিবসে জামিন পেলেন ১২ হাজার ২৫৮ হাজতি
  •  লকডাউনে অসচ্ছল মানুষকে সহায়তায় বরাদ্দ সাড়ে ১০ কোটি টাকা
  •  লকডাউনে থাকছে যেসব বিধিনিষেধ

রামগতিতে জমি দখলের বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২০, ১৫:৫৫

লক্ষীপুরের রামগতির চর বাদাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন জসিম ও তাঁর ভাইয়ের সম্পত্তি তাঁরই জেঠাতো ভাই আলী হায়দার চৌধুরী গংদের মিথ্যা মামলা ও লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে দখলের পাঁয়তারার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে চর বাদাম ইউনিয়ন পরিষদের হল রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব কথা জানান ইউপি চেয়ারম্যান। এসময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর ভাই নুরুল আমিন, ভাতিজা ও তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ।

এসময় তাদের অভিযোগ উল্লেখ করে করে তিনি বলেন, তোরাব আলী হাওলাদার হেবা দলিলের মাধ্যমে তাঁর ৩ সন্তানকে সমস্ত সম্পদ সমবন্টন করে যান। কিন্তু আলী হায়দার গং ২৮ একর জমি নানান কৌশলে ও জোরপূর্বক বেশী ভোগ করছে। এ স্বত্বেও উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়নের কারামতিয়া বাজার সংলগ্ন পূর্ব চর সীতা মৌজার ২৭৯,৫৮৮ ও ৬৩৯নং খতিয়ানের অন্দরে ১২ একর জমি নানান ছুতোয় দখলের অপচেষ্টা করছেন আলী হায়দর গং এ বলে অভিযোগ করেন তারা।

এব্যাপারে ভূক্তভোগী জসিম চেয়ারম্যানের ভাই নুরুল আমিন বাদী হয়ে বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত লক্ষীপুরে উল্লেখিত জমিতে শান্তি রক্ষার্থে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ৫৫/৩১ নং পূর্ব চর সীতা মৌজার ৫৮৮ নং দিয়ারা খতিয়ানের দাগ সমূহের অন্দরে তারা চর নেয়ামত ও পূর্ব চর সীতা মৌজার (৪৮১+৪১৯+৬১৯.৭৫) ১৫.২৭৭৫ সাবেক ২৫৮৬, ২৮৯, ৭২১০,৭২১১ ও ৭৪৭৬ দাগ মৌরশের আমল থেকে প্রায় ৭০ বছর ধরে নাল জমি হিসেবে চাষাবাদ করে আসছেন এবং তাদের ভোগদখলে রয়েছে।

মৌরশী সম্পত্তিটির রেকর্ড, খাজনা, দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র তুলে ধরে তারাই প্রকৃত মালিক বলে তারা দাবী করেন। তিনি বলেন, ১৯৮৫ইং সালে তাঁর জেঠা আলহাজ্ব ঈমান আলী পন্ডিত চর সীতা তোরাব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুল পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় তিনি সফিকুল হায়দার চৌধুরীকে কিছু জমি দান করেন। তাঁর মৃত্যুর পরে জুলফিকার হায়দার চৌধুরী ইউনিয়ন পরিষদে রক্ষিত মৃত্যু রেজিষ্টারে লিখিত ঈমান আলী পন্ডিতের মৃত্যুর সন টেম্পারিং করে সফিকুল হায়দার চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতে জাল দলিল সৃজনের মিথ্যা মামলা করেন।

ইউ চেয়ারম্যান বলেন, আমরা এ উপজেলার রাজনৈতিক সচেতন এবং সম্ভ্রান্ত পরিবার। ভদ্র ও স্বচ্ছ এবং আইনের প্রতি কঠোর শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সর্বজনবিদিত যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। কখনোই আমাদের পরিবারের লাঠিয়াল বা সন্ত্রাসী বাহিনী ছিলনা। আমাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের মামলা মকদ্দমা নেই এবং ছিল না। আমাদের পরিবারের ঈমান আলী পন্ডিত পাকিস্তান আমলে চেয়ারম্যান, পরে তাঁর ছেলে অধ্যক্ষ গোলাম মাওলা চৌধুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের আমৃত্যু সভাপতি এবং এ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। কোন লোভ কখনো আমাদের স্পর্শ করতে পারেনি। সুনাম ক্ষুন্ন করায় মানুষে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন বলেও তিনি দাবী করেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মৌরশী সম্পত্তি আমরা পূর্ব পুরুষ থেকে ভোগ দখল ও চাষাবাদ করে আসছি। গত ২৮ আগস্ট ধান রোপন করতে গেলে আমার জেঠাতো ভাই আলী হায়দার ও তাঁর ছেলেরা সহ বাধা দেয়। তাদের উশৃঙ্খল আচরনে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তারা তাদের সকল সম্পত্তি বিক্রি করে এখন আমাদের সম্পদের দিকে নজর দিয়েছে। আমরা এর ন্যয় বিচার প্রত্যাশা করছি।

এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, সম্পত্তিটি নিয়ে উভয় পক্ষের পৃথক দুটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। কোন ক্রমেই যেন শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ না হয় সেদিক আমাদের নজর রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত