x

এইমাত্র

  •  বৈরুতে বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ
  •  মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ৭ লাখ ১৭ হাজার, আক্রান্ত ১ কোটি ৯২ লাখেরও বেশি
  •  ভারতে ২১ দিনে ১০ লাখ মানুষের করোনা শনাক্ত
  •  আবারো পাকিস্তানে ক্রিকেট ম্যাচে এলোপাতাড়ি গুলি

বাজেট প্রত্যাখ্যান করে কপি ছিঁড়ে ফেললেন বিএনপির এমপিরা

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২০, ১৫:০৭

সাহস ডেস্ক

২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট প্রত্যাখ্যান করে তার কপি ছিঁড়ে ফেলেছেন বিএনপির পাঁচ সংসদ সদস্য। দলটির বাকি দুই সংসদ সদস্য অসুস্থ থাকায় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে পারেননি। এসময় তারা করোনা মোকাবিলায় সরকারকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং রোডম্যাপ তৈরি করে জাতির উদ্দেশে প্রকাশ করার দাবি জানান।

বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের মূল গেটের সামনে বিক্ষোভ শেষে বাজেটের কপি ছিঁড়ে ফেলেন।

সূচনা বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, গত একশো বছরে পৃথিবীতে এমন মহামারি আমরা দেখিনি। গতকাল আমরা দেখেছি বাজেট পাস হয়েছে। জনগণকে ফাঁকি দেয়ার জন্য এই বাজেট। আমরা যারা মূল বিরোধী দল বিএনপির সংসদ সদস্য আছি, আমরা যাতে সংসদে এই বাজেট নিয়ে কথা না বলতে পারি, সমালোচনা করতে না পারি সেজন্য মাত্র একদিনের জন্য সাধারণ বাজেট আলোচনা করা হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন আলোচনাবিহীন বাজেট কখনো পান হয় নাই। আজকে এই মহান সংসদের সামনে দাঁড়িয়ে বলছি, আমরা জনগণের পক্ষে এই বাজেট প্রত্যাখান করছি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে একমাত্র আমাকে বাজেট আলোচনার শেষ দিকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে স্পিকার আমরা মাইকও বন্ধ করে দেন। মাত্র একজনই বিরোধী দলের সদস্য। বাকি সবাই মহাজোটের শরিক। আমাদের দাবি ছিল ভার্চুয়াল বাজেট আলোচনার। সেটা হলে সব সদস্য তার বাজেট প্রতিক্রিয়া দিতে পারতেন। সেই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।

হারুন বলেন, খেয়াল করবেন, স্বাস্থ্যখাতের বেহাল অবস্থার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছিলাম এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে সংস্কারের কথা বলেছিলাম। কিন্তু এই নিয়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী কোনও কথা বলেন নাই। ফলে সব মিলিয়ে গতকাল যে অপ্রত্যাশিত ও অকল্পনীয় বাজেট পাস হয়েছে, যাতে গত অর্থবছরের চেয়েও ২৪ শতাংশ বেশি অর্থ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। এটা অবাস্তব ও অকল্পনীয়। আমরা এই বাজেট প্রত্যাখ্যান করছি।

তিনি আরও বলেন, সরকার শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এই সংসদে চিহ্নিত মাদক ও মানবাচারকারী, ব্যাংক লুটপাটকারী রয়েছে। তারাই ক্ষমতায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। সুতরাং কখনও সৎ এবং অসৎ পাশাপাশি অবস্থান করতে পারে না।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমীন ফারহানা বলেন, আমরা তিন বছর মেয়াদী বাজেট ভাবনা দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার বরাবরের মতো তার চরম কর্তৃত্ববাদী চরিত্র বজায় রেখে বিএনপি'র পরামর্শগুলো আমলে নেয়নি। শেষ পর্যন্ত সরকার যে বাজেট প্রস্তাবনা  সামনে এনেছে, সেটা একমাত্র ক্ষমতাসীন দল ছাড়া কেউ কোনোভাবেই একটা সংকটকালীন বাজেট হয়েছে বলে রায় দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি ক্ষেত্র থেকে বলা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেট করোনায় সৃষ্ট জীবন এবং জীবিকার সংকটট মোকাবিলায় সক্ষম নয়। ফলে আগামী দিনগুলোতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। পুরো বাজেটটি নানা রকম স্ববিরোধীতা, অসামঞ্জস্যতায় পরিপূর্ণ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত