x

এইমাত্র

  •  করোনায় আরও ২৯ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৩২৮৮
  •  ভ্রমণ কড়াকড়ি শিথিল হওয়ার পর ট্রেন এবং বিমানের টিকিট কেনার হিড়িক লেগেছে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে
  •  মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ৫ লাখ ৩০ হাজার, আক্রান্ত ১ কোটি ১২ লাখেরও বেশি
  •  পুলিশে করোনায় আক্রান্ত ১১৪৩১ জন, মৃত্যু ৪৪
  •  গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে ডেকেছে ওষুধ প্রশাসন

সিনিয়র সচিব হলেন কবির বিন আনোয়ার

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২০, ১৭:৫৭

সাহস ডেস্ক

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ারকে সিনিয়র সচিব হিসেবে পদন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে তাকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়। আগামী ২৯ জুন থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।

সোমবার (২২ জুন) বিসিএস সপ্তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে সিনিয়র সচিব করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবদের পরেই জ্যেষ্ঠ সচিবদের অবস্থান। কবির বিন আনোয়ারকে নিয়ে জনপ্রশাসনে সিনিয়র সচিবের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩ জনে। বর্তমান বেতন কাঠামোতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবং সিনিয়র সচিবদের জন্য বিশেষ স্কেল রাখা হয়েছে।

তাঁর শিক্ষা জীবনে ১৯৭২ সালে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলে ভর্তি হন, হোস্টেলে থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৮০ সালে শিক্ষকগণ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে কলেজ প্রিফেক্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি ও সফলতার সঙ্গে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৮২ থেকে সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন কবির বিন আনোয়ার। ১৯৮৫-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগ ফজলুল হক হল শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৮৮ সালে সিভিল সার্ভিসে (প্রশাসন- ৭ম ব্যাচ) যোগদান করেন কবির বিন আনোয়ার। একযুগ মাঠ পর্যায়ে, অর্ধযুগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (তন্মধ্যে ৩ বছর নেদারল্যান্ডস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রথম সচিব হিসেবে কর্মরত) এবং রাঙামাটির বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে অর্থ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিচালক (প্রশাসন), মহাপরিচলক (প্রশাসন) ও একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজধানী ঢাকার চারপাশের দখল-দূষণের শিকার নদীগুলোকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চালিয়ে যাচ্ছেন অক্লান্ত প্রচেষ্টা। সরকারের পরিবেশ বিষয়ক কমিটিগুলোর জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বও দিচ্ছেন কবির বিন আনোয়ার। হালদা নদীর পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও মাছের জাত সংরক্ষেণের জাতীয় কমিটির তত্ত্বাবধানকারী তিনি। 

পেশাগত কর্মক্ষেত্রের বাইরেও তিনি জড়িত আছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকান্ডের সাথে। এর মধ্যে অন্যতম- চেয়ারম্যান, জাতীয় সম্পত্তি বিষয়ক কমিটি বাংলাদেশ স্কাউট; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইয়োগা এসোসিয়েশন; সাধারণ সম্পাদক, ফজলুল হক মুসলিম হল এলামনাই এসোসিয়েশন, ঢাবি; চেয়ারম্যান, ইসাবেলা ফাউন্ডেশন; পরিচালক, বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশন; মেম্বার, এসডাব্লিউআইডি, বাংলাদেশ; সদস্য, অদম্য বাংলাদেশ;  প্রধান উপদেষ্টা, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম- সিরাজগঞ্জ জেলা শাখা; উপদেষ্টা, মজার ইশকুল (পথশিশুদের জন্য পরিচালিত বিদ্যালয়); সভাপতি, সাঁকো প্রতিবন্ধী স্কুল সিরাজগঞ্জ; সভাপতি, জুয়েল অক্সফোর্ড স্কুল সিরাজগঞ্জ। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটি/ সুন্দরবন সংরক্ষণ কমিটি/ নদী গবেষণা প্রোগ্রাম এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

কবির বিন আনোয়ার বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মুক্তি সংগ্রাম এর চেতনা, অনুভূতি ও সত্ত্বার সাথে গভীরভাবে জড়িত। দেশে ও বিদেশে তাঁর জনমুখী কল্যাণধর্মী কাজের জন্য অসংখ্য পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি। তিনি ITU থেকে ২০১৪, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৮ সালে WISIS পুরষ্কার গ্রহণ করেন। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে জনপ্রশাসন পদক এবং ২০১৭ সালে open Group Award গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদকেও ভূষিত হন।

লেখালেখি ও ছবি আঁকাতেও পারদর্শী কবির বিন আনোয়ার। তাঁর লেখা ও প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে অন্যতম 'বিশ্ব ধারা মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম (সংকলন-১)', 'বিশ্ব ধারা মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম (সংকলন-২)', 'বিস্মৃত মুসলিম মানস', 'রূপসী বাংলা (১ম খন্ড)', 'প্রযুক্তি বদলে দিল যারা', 'অপরূপ বাংলাদেশ (১ম খন্ড)'। তিনি UK Foreign & Commonwealth Office, De-Classified Documents 1962-1971, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and Struggle for Independence এবং US State Department, De-Classified Documents 1953-1973, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and Struggle for Dependence সম্পাদনা করেন। 

নানাবিধ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ এর প্রতিনিধিত্ব করেছেন কবির বিন আনোয়ার। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও নেগোসিয়েশনে অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ সম্মেলন, ওআইসি সম্মেলন, কমনওয়েলথ্‌ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং পবিত্র হজ্জ্ব পালনে সৌদিআরব গমন করেন। তিনি ১৭টি দেশে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন। সর্বমোট ৪২টি দেশ ভ্রমণ করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, জাপান, সুইজারল্যান্ড, ভারত, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, অষ্ট্রেলিয়া, ইতালি, বেলজিয়াম, সিরিয়া, ভিয়েতনাম, নেদারল্যান্ড, নেপাল, মালয়েশিয়া, সৌদি-আরব, কম্বোডিয়া, লাওস, ফিলিপাইন, লুক্সেমবার্গ, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, কুয়েত, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, ডেনমার্ক, রাশিয়া, মরক্কো মালদ্বীপ এবং তুরষ্ক।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত